পড়ার নোট
স্থির বিদ্যুৎ কাজে লাগলেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে জমা হলে তা বিপজ্জনক হতে পারে। প্রতিটি ঝুঁকির সঙ্গে নিরাপত্তার কৌশলও আছে।
- জ্বালানি ট্রাক: চাকার সঙ্গে রাস্তার ঘর্ষণে স্থির বিদ্যুৎ তৈরি হয়ে হঠাৎ স্ফুলিঙ্গ হলে জ্বালানিতে বড়ো বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তাই ট্রাকের পেছনে ট্যাংক থেকে একটি শিকল ঝুলিয়ে রাস্তায় ঘষা খেতে দেওয়া হয়, যাতে তৈরি হওয়া চার্জ সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে চলে যায়।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ: কিছু আইসি তাদের পিনে সামান্য ভোল্টেজের তারতম্য ঘটলেই নষ্ট হয়, তাই শুধু হাতের স্পর্শে দামি আইসি বা সার্কিট বোর্ড নষ্ট হতে পারে; বিশেষ করে শুকনো বাতাসে। এজন্য কাজের টেবিলের উপরিভাগ পরিবাহী পদার্থ দিয়ে ভূমির সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং কর্মীর হাতেও পরিবাহী স্ট্র্যাপ দিয়ে ভূমির সংযোগ রাখা হয়।
- বজ্রপাত: মেঘে জমা বিপুল চার্জ বাতাস আয়নিত করে মাটিতে নেমে আসে। তখন লক্ষ অ্যাম্পিয়ারের মতো প্রবাহ হতে পারে এবং বাতাসের তাপমাত্রা থেকে হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা সূর্যপৃষ্ঠের চেয়েও বেশি। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু জিনিসে আঘাত করে। উঁচু ভবনে বজ্রনিরোধক শলাকা লাগিয়ে চার্জ নিরাপদে মাটিতে পাঠানো হয়।
- বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি: দুর্ঘটনায় হঠাৎ প্রচুর চার্জ জমলে কাছের মানুষ শক খেতে পারে। তাই ভারী যন্ত্রপাতি ভালোভাবে ভূমির সঙ্গে যুক্ত (আর্থিং) করা হয়।
বজ্রপাতের আলো প্রায় সঙ্গে সঙ্গে চোখে পৌঁছায়, কিন্তু শব্দের বেগ প্রায় m/s, অর্থাৎ এক কিলোমিটার যেতে প্রায় s লাগে।
উদাহরণ: বিজলি দেখার s পর বজ্রের শব্দ শোনা গেল। প্রতি s এ প্রায় km ধরলে বজ্রপাতটি প্রায় km দূরে হয়েছে।
সব নিরাপত্তা কৌশলের মূল কথা একটাই: জমা হওয়া চার্জকে একটি নিরাপদ পরিবাহী পথে পৃথিবীতে চলে যেতে দেওয়া।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে বজ্রনিরোধক বজ্রপাত "আটকে" দেয়। এটি মূলত চার্জকে নিরাপদ পথে মাটিতে নিয়ে যায় এবং মেঘের চার্জ কমিয়ে বজ্রপাতের আশঙ্কা কমায়।
মনে রাখো: স্থির বিদ্যুতের ঝুঁকি কমাতে জমা চার্জকে ভূমির সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে নিরাপদে মাটিতে পাঠাতে হয়: জ্বালানি ট্রাকে শিকল, ইলেকট্রনিক্সে আর্থিং স্ট্র্যাপ, আর উঁচু ভবনে বজ্রনিরোধক।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।