পড়ার নোট
রংধনু
বৃষ্টির পর রোদ উঠলে বাতাসে ভাসা পানির কণা প্রিজমের মতো কাজ করে। এই কণায় আলো পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলো ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই রশ্মিগুলো দিয়ে রংধনুর বিভিন্ন রঙের ব্যান্ড তৈরি হয়। তাই সাদা আলো রংগুলোতে ভাগ হয় রংধনুতেও।
রংধনু সবসময় সূর্যের উল্টো দিকের আকাশে দেখা যায়। সূর্য ঠিক মাথার ওপর থাকলে অর্থাৎ ভরদুপুরে তাই রংধনু দেখা যায় না।
মরীচিকা
মরুভূমিতে মরীচিকা একটি পরিচিত দৃশ্য। এটিও পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের কারণে ঘটে। উত্তপ্ত বাতাস হালকা বলে উপরে ওঠে, কিন্তু উত্তপ্ত বালুর কাছাকাছি স্তরের বাতাস উপরের স্তরের চেয়েও গরম হতে পারে। তখন:
- উপরের স্তরে বাতাসের ঘনত্ব বেশি, তাই প্রতিসরণাঙ্কও বেশি।
- নিচের গরম স্তরে ঘনত্ব ও প্রতিসরণাঙ্ক দুটোই কম।
- গাছ থেকে আসা আলো প্রতিটি স্তরে প্রতিসরিত হওয়ার সময় প্রতিসরণ কোণ বাড়ে। একটি স্তরে ক্রান্তি কোণ পার হলে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন হয়।
দূরের দর্শকের চোখে আপতন কোণ বড় হয়, তাই ক্রান্তি কোণ পার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে মরীচিকা দূর থেকে দেখা যায়, কাছে গেলে যায় না। দর্শক গাছটি সরাসরি দেখেন, আবার প্রতিফলনের কারণে নিচেও তার একটি প্রতিবিম্ব দেখেন। মনে হয় নিচে পানি আছে, কিন্তু কাছে গেলে দেখা যায় পানি নেই।
গরমের দিনে পিচঢালা রাস্তায় গাড়িতে যাওয়ার সময় দূরে রাস্তা ভেজা মনে হয়; কাছে গেলে শুকনো। এটিও একধরনের মরীচিকা।
মনে রাখো: রংধনু ও মরীচিকা দুটোই পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের ফল; রংধনু সূর্যের উল্টো দিকে দেখা যায় আর মরীচিকা দূর থেকে দেখা যায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।