পড়ার নোট
দুটি বক্রতল, অথবা একটি বক্রতল ও একটি সমতল দ্বারা আবদ্ধ স্বচ্ছ মাধ্যমকে বলে লেন্স। চশমা থেকে শুরু করে টেলিস্কোপ, মাইক্রোস্কোপ, ক্যামেরা ও ভিডিও প্রজেক্টরে লেন্স ব্যবহার হয়।
লেন্স দুই ধরনের:
- উত্তল (অভিসারী) লেন্স: মাঝখান প্রান্ত থেকে পুরু। এ দিয়ে খুব কাছের জিনিস বড় দেখা যায় (বয়স্কদের চশমার লেন্স সাধারণত এরকম)।
- অবতল (অপসারী) লেন্স: মাঝখান প্রান্ত থেকে সরু। এ দিয়ে খুব দূরের জিনিস ছোট দেখা যায় (কম বয়সীদের চশমার লেন্স সাধারণত এরকম)।
লেন্সের প্রস্থচ্ছেদ দুটি গোলকের অংশ। গোলক দুটির কেন্দ্রকে বলে বক্রতার কেন্দ্র ( ও )। বইয়ে শুধু পাতলা লেন্স আলোচনা করা হয়েছে। পাতলা লেন্সের মাঝের যে বিন্দু দিয়ে যাওয়া আলোকরশ্মি বেঁকে যায় না, তা লেন্সের কেন্দ্র বা আলোকীয় কেন্দ্র ()।
অবতল লেন্স
সমান্তরাল আলো পড়লে প্রতিসরণের পর রশ্মিগুলো ছড়িয়ে পড়ে। পেছনে বাড়ালে মনে হয় রশ্মিগুলো একটি বিন্দু থেকে আসছে; এটি ফোকাস বিন্দু ()। লেন্সের কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ফোকাস দূরত্ব। আলো যেদিক থেকেই পড়ুক, ফোকাস দূরত্ব সমান।
প্রতিবিম্ব আঁকতে তিনটি রশ্মি কাজে লাগে:
- কেন্দ্রমুখী রশ্মি প্রতিসরণের পর সোজা চলে যায়।
- প্রধান অক্ষের সমান্তরাল রশ্মি ফোকাস বিন্দু থেকে আসছে মনে হয়।
- ফোকাসমুখী রশ্মি প্রতিসরণের পর অক্ষের সমান্তরাল হয়।
অবতল লেন্সে প্রতিবিম্ব সবসময় লেন্সের কেন্দ্র ও ফোকাস বিন্দুর মাঝে, অবাস্তব, সোজা এবং বস্তুর চেয়ে ছোট হয়।
উত্তল লেন্স
সমান্তরাল আলো পড়লে প্রতিসরণের পর রশ্মিগুলো ফোকাস বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয় এবং তারপর আবার ছড়িয়ে যায়। ফোকাস বিন্দুতে আলোর উৎস রাখলে রশ্মিগুলো সমান্তরাল হয়ে বের হয়। এখানেও ওপরের তিনটি রশ্মির নিয়ম খাটে। বস্তু ফোকাস দূরত্বের ভেতরে থাকলে প্রতিবিম্ব অবাস্তব, সোজা ও বড় হয়; বাইরে থাকলে বাস্তব ও উল্টো হয়।
মনে রাখো: উত্তল লেন্স আলো কেন্দ্রীভূত করে, অবতল লেন্স আলো ছড়িয়ে দেয়; অবতল লেন্সের প্রতিবিম্ব সবসময় অবাস্তব, সোজা ও ছোট।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।