পড়ার নোট
পানিতে ঢিল ছুড়লে চারদিকে ঢেউ ছড়ায়, ঘরে বাতি জ্বালালে আলো ছড়ায়, কথার শব্দ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়; সবই তরঙ্গ। কোনো রাশির মানের বিচ্যুতি বা আন্দোলন যদি সময়ের সাথে স্থানান্তরিত হয়, তবে সেই আন্দোলনকে তরঙ্গ বলে। পরপর আন্দোলনের পুনরাবৃত্তিতে তৈরি তরঙ্গকে তরঙ্গদল বলে।
মাধ্যম অনুযায়ী প্রকার
- যান্ত্রিক তরঙ্গ: প্রবাহের জন্য বায়বীয়, তরল বা কঠিন মাধ্যম লাগে; মাধ্যমের কণাগুলো প্রবাহে অংশ নেয়। যেমন পানির ঢেউ, শব্দ।
- তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ: বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রের পর্যাবৃত্ত আন্দোলন; কোনো মাধ্যম লাগে না। যেমন আলো, গামা রশ্মি, মাইক্রোওয়েভ।
কম্পনের দিক অনুযায়ী প্রকার
- অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ: মাধ্যমের কণার কম্পনের দিক ও তরঙ্গের বেগের দিক একই; সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে এগোয়। যেমন স্প্রিংয়ের সংকোচন তরঙ্গ, শব্দ।
- অনুপ্রস্থ তরঙ্গ: কণার কম্পনের দিক তরঙ্গের বেগের সাথে লম্ব। যেমন দড়িতে ঝাঁকুনির তরঙ্গ, পানির ঢেউ।
তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য
- মাধ্যমের কণাগুলো নিজ অবস্থানে থেকে শুধু স্পন্দিত হয়, তরঙ্গের সাথে সরে যায় না (শুধু যান্ত্রিক তরঙ্গে)।
- তরঙ্গ শক্তি বহন করে; প্রবাহিত শক্তি বিস্তারের বর্গের সমানুপাতিক, তাই বিস্তার দ্বিগুণ হলে শক্তি চার গুণ।
- প্রতিটি তরঙ্গের বেগ আছে, যা মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে; বাতাসে শব্দের বেগ 330 m/s, পানিতে 1493 m/s।
- তরঙ্গের প্রতিফলন ও প্রতিসরণ হয়; প্রতিধ্বনি হলো প্রতিফলিত শব্দ।
- দুটি তরঙ্গ একই বিন্দুতে মিলে একে অপরকে বড় করতে বা নিঃশেষ করতে পারে; একে উপরিপাতন বলে।
উদাহরণ: নিচের তরঙ্গগুলো শ্রেণিবিভাগ করো।
| তরঙ্গ | মাধ্যম লাগে? | ধরন |
|---|---|---|
| বাঁশির শব্দ | হ্যাঁ | যান্ত্রিক, অনুদৈর্ঘ্য |
| পুকুরের ঢেউ | হ্যাঁ | যান্ত্রিক, অনুপ্রস্থ |
| সূর্যের আলো | না | তাড়িতচৌম্বক |
| টানটান দড়ির ঝাঁকুনি | হ্যাঁ | যান্ত্রিক, অনুপ্রস্থ |
সূর্যের আলো মহাশূন্যের প্রায় শূন্য স্থান পেরিয়ে আসে, তাই এর মাধ্যম লাগে না।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে পানির ঢেউয়ের সাথে পানিও ভেসে যায়। ঢেউয়ে ভাসমান পাতা শুধু ওঠানামা করে; শক্তি এগোয়, পানির কণা নিজ জায়গায় স্পন্দিত হয়।
মনে রাখো: তরঙ্গ হলো আন্দোলনের স্থানান্তর; যান্ত্রিক তরঙ্গে মাধ্যম লাগে, তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গে লাগে না, আর কম্পন বেগের দিকে হলে অনুদৈর্ঘ্য, লম্বভাবে হলে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।