offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৭ · টপিক ৩

তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি এবং গাণিতিক সম্পর্ক

পড়ার নোট

তরঙ্গ প্রবাহের সময় মাধ্যমের একটি কণার দিকে তাকালে দেখা যায় এটি সরল স্পন্দন গতিতে কাঁপছে। তাই সরল স্পন্দনের রাশিগুলো পর্যাবৃত্ত তরঙ্গেও ব্যবহার করা যায়।

তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি

  • বিস্তার (aa): সাম্যাবস্থান থেকে কণার সর্বোচ্চ সরণ; একক মিটার (m)।
  • পর্যায়কাল বা দোলনকাল (TT): একটি পূর্ণ স্পন্দনে যে সময় লাগে; একক সেকেন্ড (s)।
  • কম্পাঙ্ক (ff): প্রতি সেকেন্ডে পূর্ণ স্পন্দনের সংখ্যা; f=1Tf = \frac{1}{T}, একক হার্টজ (Hz)।
  • তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ\lambda): তরঙ্গের যেকোনো একটি দশা থেকে পরবর্তী একই দশার দূরত্ব; অর্থাৎ এক পর্যায়কালে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব যায়; একক মিটার (m)।
  • তরঙ্গবেগ (vv): প্রতি সেকেন্ডে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব যায়; একক m/s।
  • দশা: তরঙ্গের কোনো বিন্দুর কম্পনের অবস্থা; একই দশার দুটি বিন্দুতে মান ও গতির দিক দুটিই একই।

গাণিতিক সম্পর্ক

এক পর্যায়কালে তরঙ্গ λ\lambda দূরত্ব যায়, আর প্রতি সেকেন্ডে ffটি পর্যায়কাল থাকে, তাই

v=fλv = f\lambda

তরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে বেগ বদলায়, কিন্তু কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কাল বদলায় না; তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য বদলায়।

লেখচিত্র থেকে রাশি পড়া

  • অবস্থানের সাপেক্ষে আঁকা তরঙ্গ (একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের ছবি) থেকে বিস্তার ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য পাওয়া যায়, কিন্তু পর্যায়কাল নয়।
  • সময়ের সাপেক্ষে আঁকা তরঙ্গ (একটি নির্দিষ্ট স্থানে) থেকে বিস্তার ও পর্যায়কাল পাওয়া যায়, কিন্তু তরঙ্গদৈর্ঘ্য নয়।
  • দুটি একসাথে জানলে বেগ বের করা যায়।

উদাহরণ: একটি তরঙ্গের অবস্থান-লেখচিত্রে বিস্তার 0.05 m ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.5 m, আর সময়-লেখচিত্রে পর্যায়কাল 0.25 s। বের করো:

  • কম্পাঙ্ক f=10.25=4f = \frac{1}{0.25} = 4 Hz।
  • বেগ v=fλ=4×0.5=2v = f\lambda = 4 \times 0.5 = 2 m/s।

একই তরঙ্গ অন্য মাধ্যমে ঢুকে বেগ 3 m/s হলে কম্পাঙ্ক 4 Hz-ই থাকবে, আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য হবে 34=0.75\frac{3}{4} = 0.75 m।

সাধারণ ভুল হলো শুধু অবস্থান-লেখচিত্র থেকে পর্যায়কাল বা বেগ বলে দেওয়া। একটি মুহূর্তের ছবিতে সময়ের তথ্য থাকে না।

মনে রাখো: তরঙ্গবেগ v=fλv = f\lambda এবং f=1Tf = \frac{1}{T}; এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে কম্পাঙ্ক একই থাকে, বেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য বদলায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • দড়িতে তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ও তরঙ্গদৈর্ঘ্যচালিয়ে দেখো

    একটি আমগাছে বাঁধা লম্বা দড়ির এক প্রান্তে হাত দিয়ে নির্দিষ্ট হারে ঝাঁকুনি দিয়ে তরঙ্গ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই দড়িতে তরঙ্গের বেগ ৪ m/s। শুরুতে প্রতি সেকেন্ডে ২ বার ঝাঁকুনি দিলে (কম্পাঙ্ক ২ Hz) তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য হয় ২ m। যদি ঝাঁকুনির কম্পাঙ্ক দ্বিগুণ করে ৪ Hz করা হয়, তবে তরঙ্গদৈর্ঘ্য কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সিলেটের একটি বিজ্ঞান মেলায় একটি কম্পনশীল সুরশলাকা বাতাসে ৪০০ Hz কম্পাঙ্কের শব্দ তরঙ্গ সৃষ্টি করছে। ওই সময় বাতাসে শব্দের বেগ ৩৪০ m/s হলে, সুরশলাকাটির ২৫০টি পূর্ণ কম্পনে উৎপন্ন শব্দ বাতাসে কত মিটার (m) পথ অতিক্রম করবে?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২১২.৫ m

    1. শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য নির্ণয়ের সূত্র λ = v ⁄ f ব্যবহার করি।
    λ=vf\lambda = \frac{v}{f}
    1. এখানে v = ৩৪০ m/s এবং f = ৪০০ Hz বসিয়ে পাই: λ = ৩৪০ ⁄ ৪০০ = ০.৮৫ m।
    λ=340400=0.85 m\lambda = \frac{340}{400} = 0.85\text{ m}
    1. উৎস ১টি পূর্ণ কম্পন সম্পন্ন করলে শব্দ এক তরঙ্গদৈর্ঘ্য (λ) পথ অতিক্রম করে। অতএব ২৫০টি পূর্ণ কম্পনে অতিক্রান্ত দূরত্ব s = ২৫০ × ০.৮৫ = ২১২.৫ m।
    s=Nλ=250×0.85=212.5 ms = N \lambda = 250 \times 0.85 = 212.5\text{ m}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো