পড়ার নোট
তরঙ্গ প্রবাহের সময় মাধ্যমের একটি কণার দিকে তাকালে দেখা যায় এটি সরল স্পন্দন গতিতে কাঁপছে। তাই সরল স্পন্দনের রাশিগুলো পর্যাবৃত্ত তরঙ্গেও ব্যবহার করা যায়।
তরঙ্গ সংশ্লিষ্ট রাশি
- বিস্তার (): সাম্যাবস্থান থেকে কণার সর্বোচ্চ সরণ; একক মিটার (m)।
- পর্যায়কাল বা দোলনকাল (): একটি পূর্ণ স্পন্দনে যে সময় লাগে; একক সেকেন্ড (s)।
- কম্পাঙ্ক (): প্রতি সেকেন্ডে পূর্ণ স্পন্দনের সংখ্যা; , একক হার্টজ (Hz)।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য (): তরঙ্গের যেকোনো একটি দশা থেকে পরবর্তী একই দশার দূরত্ব; অর্থাৎ এক পর্যায়কালে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব যায়; একক মিটার (m)।
- তরঙ্গবেগ (): প্রতি সেকেন্ডে তরঙ্গ যতটুকু দূরত্ব যায়; একক m/s।
- দশা: তরঙ্গের কোনো বিন্দুর কম্পনের অবস্থা; একই দশার দুটি বিন্দুতে মান ও গতির দিক দুটিই একই।
গাণিতিক সম্পর্ক
এক পর্যায়কালে তরঙ্গ দূরত্ব যায়, আর প্রতি সেকেন্ডে টি পর্যায়কাল থাকে, তাই
তরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে বেগ বদলায়, কিন্তু কম্পাঙ্ক ও পর্যায়কাল বদলায় না; তাই তরঙ্গদৈর্ঘ্য বদলায়।
লেখচিত্র থেকে রাশি পড়া
- অবস্থানের সাপেক্ষে আঁকা তরঙ্গ (একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের ছবি) থেকে বিস্তার ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য পাওয়া যায়, কিন্তু পর্যায়কাল নয়।
- সময়ের সাপেক্ষে আঁকা তরঙ্গ (একটি নির্দিষ্ট স্থানে) থেকে বিস্তার ও পর্যায়কাল পাওয়া যায়, কিন্তু তরঙ্গদৈর্ঘ্য নয়।
- দুটি একসাথে জানলে বেগ বের করা যায়।
উদাহরণ: একটি তরঙ্গের অবস্থান-লেখচিত্রে বিস্তার 0.05 m ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য 0.5 m, আর সময়-লেখচিত্রে পর্যায়কাল 0.25 s। বের করো:
- কম্পাঙ্ক Hz।
- বেগ m/s।
একই তরঙ্গ অন্য মাধ্যমে ঢুকে বেগ 3 m/s হলে কম্পাঙ্ক 4 Hz-ই থাকবে, আর তরঙ্গদৈর্ঘ্য হবে m।
সাধারণ ভুল হলো শুধু অবস্থান-লেখচিত্র থেকে পর্যায়কাল বা বেগ বলে দেওয়া। একটি মুহূর্তের ছবিতে সময়ের তথ্য থাকে না।
মনে রাখো: তরঙ্গবেগ এবং ; এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে কম্পাঙ্ক একই থাকে, বেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য বদলায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।