offSchoolবেটা

পদার্থবিজ্ঞান · অধ্যায় ৫ · টপিক ১২

পীড়ন ও বিকৃতি

পড়ার নোট

বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করলে কোনো বস্তুর দৈর্ঘ্য, আকার বা আয়তন বদলাতে পারে। যেমন, খাতা বাঁধার রাবার ব্যান্ড টানলে লম্বা হয়, আবার চাপ দিলে স্প্রিং ছোট হয়। এই পরিবর্তনের কারণে বস্তুর ভেতরে আগের অবস্থায় ফেরানোর প্রবণতাসম্পন্ন প্রত্যয়নী বল তৈরি হয়। স্থির সাম্যাবস্থায় এই বল বাইরের প্রযুক্ত বলের সঙ্গে ভারসাম্য রাখে।

পীড়ন হলো বিকৃতির কারণে বস্তুর ভেতরে সৃষ্ট প্রত্যয়নী বলের মানকে সংশ্লিষ্ট প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া রাশি। সূত্র পীড়ন=FA\text{পীড়ন}=\frac{F}{A}; এখানে FF প্রত্যয়নী বল, SI একক N; AA প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল, একক m2\mathrm{m^2}; পীড়নের একক N m−2\mathrm{N\,m^{-2}} বা Pa। সাম্যাবস্থায় প্রত্যয়নী বলের মানের বদলে সমান বাইরের বলের মান ব্যবহার করা যায়।

বিকৃতি হলো বলের কারণে বস্তুর দৈর্ঘ্য বা আকারের আপেক্ষিক পরিবর্তন। দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে বিকৃতি=L−L0L0=ΔLL0\text{বিকৃতি}=\frac{L-L_0}{L_0}=\frac{\Delta L}{L_0}। এখানে L0L_0 আদি দৈর্ঘ্য, LL পরিবর্তিত দৈর্ঘ্য এবং ΔL\Delta L দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন; প্রতিটির SI একক m। একই এককের দুই দৈর্ঘ্যের অনুপাত বলে বিকৃতির কোনো একক নেই।

ধরা যাক, একটি নমুনার আদি দৈর্ঘ্য 1.5 m, বল দেওয়ার পর দৈর্ঘ্য 1.503 m এবং প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল 2×10−6 m22\times10^{-6}\,\mathrm{m^2}। সাম্যাবস্থায় টান 30 N।

  • দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ΔL=1.503−1.5=0.003 m\Delta L=1.503-1.5=0.003\,\mathrm{m}।
  • বিকৃতি 0.0031.5=0.002\frac{0.003}{1.5}=0.002।
  • পীড়ন 302×10−6=1.5×107 Pa\frac{30}{2\times10^{-6}}=1.5\times10^7\,\mathrm{Pa}।

একই পরিমাণ দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি হলেও আদি দৈর্ঘ্য ভিন্ন হলে বিকৃতি ভিন্ন হবে। তাই শুধু কত মিলিমিটার লম্বা হয়েছে জানলেই তুলনা সম্পূর্ণ হয় না। একইভাবে একই বল সরু ও মোটা তারে সমান পীড়ন তৈরি করে না; সরু তারে পীড়ন বেশি।

বল সরালে আগের অবস্থায় ফিরে আসার ধর্মকে স্থিতিস্থাপকতা বলে। যে সীমার মধ্যে এই ফিরে আসা সম্ভব, সেটি স্থিতিস্থাপক সীমা। সীমা ছাড়ালে স্থায়ী পরিবর্তন হতে পারে; অতিরিক্ত বল দিলে বস্তু ভাঙতেও পারে। অল্প বাঁকানো রড সোজা হতে পারে, বেশি বাঁকানো রড বাঁকা থেকে যায়।

সাধারণ ভুল হলো দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিকেই বিকৃতি বলা বা নতুন দৈর্ঘ্য দিয়ে ভাগ করা। ভাগ করতে হবে আদি দৈর্ঘ্য দিয়ে।

মনে রাখো: পীড়ন হলো একক ক্ষেত্রফলে প্রত্যয়নী বল, আর বিকৃতি হলো এককহীন আপেক্ষিক পরিবর্তন।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • মোটা তার কতটা কম লম্বা হয়?চালিয়ে দেখো

    চট্টগ্রাম বন্দরের ক্রেনের তার ভারী কন্টেইনার ঝুলিয়ে রাখলে সামান্য লম্বা হয়। ক্লাসে ২ মিটার লম্বা, ১ mm ব্যাসের ইস্পাতের তারে ১০ কেজি ঝোলালে তা ১.২৫ mm লম্বা হয়। একই ভারে ২ mm ব্যাসের তার কতটা লম্বা হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ২ m আদি দৈর্ঘ্যের এবং ২ × ১০⁻⁶ m² প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট একটি ইস্পাতের তারের দৈর্ঘ্য ০.০১ m প্রসারিত করতে কত নিউটন (N) বল প্রয়োগ করতে হবে? (ইস্পাতের ইয়ংয়ের গুণাঙ্ক Y = ২ × ১০¹¹ N/m²)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ২,০০০ N

    1. হুকের সূত্র অনুসারে স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে ইয়ংয়ের গুণাঙ্ক Y = পীড়ন ⁄ বিকৃতি = (F × L) ⁄ (A × ΔL)।
    Y=FLAΔLY = \frac{F L}{A \Delta L}
    1. প্রযুক্ত বল F-এর সমীকরণ দাঁড়ায়: F = (Y × A × ΔL) ⁄ L।
    F=YAΔLLF = \frac{Y A \Delta L}{L}
    1. মানগুলো বসিয়ে পাই: F = (২ × ১০¹¹ N/m² × ২ × ১০⁻⁶ m² × ০.০১ m) ⁄ ২ m = ৪০০০ ⁄ ২ = ২০০০ N।
    F=2×1011×2×10−6×0.012=2000 NF = \frac{2 \times 10^{11} \times 2 \times 10^{-6} \times 0.01}{2} = 2000\text{ N}
  2. পীড়ন ও বিকৃতি সম্পর্কে—

    i. পীড়ন হলো একক ক্ষেত্রফলে ক্রিয়াশীল বল।

    ii. বিকৃতির SI একক m।

    iii. দৈর্ঘ্য বিকৃতি হলো দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন ও আদি দৈর্ঘ্যের অনুপাত।

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      ii ও iii

    3. গ

      i ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) i ও iii

    1. পীড়ন হলো একক ক্ষেত্রফলে ক্রিয়াশীল বল; তাই i সঠিক।
    σ=FA\sigma=\frac{F}{A}
    1. দৈর্ঘ্য বিকৃতি দুটি দৈর্ঘ্যের অনুপাত বলে এককবিহীন। তাই iii সঠিক, কিন্তু ii ভুল।
    ε=ΔLL\varepsilon=\frac{\Delta L}{L}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো