পড়ার নোট
চারপাশে আমরা নানা রকম গতি দেখি: কিছু নড়ছে, কিছু কাঁপছে, কিছু ঘুরছে, কিছু সরে যাচ্ছে। সম্ভাব্য গতির শেষ নেই, তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধরন আলাদা করে চেনা যায়।
- সরলরৈখিক গতি: কোনো বস্তু সরলরেখার উপর চলাচল করলে তার গতি সরলরৈখিক। সমতলে ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া বস্তু বা উপর থেকে মুক্তভাবে পড়তে থাকা বল এর উদাহরণ।
- ঘূর্ণন গতি: কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে সমান দূরত্বে থেকে বৃত্তাকার পথে ঘুরলে তার গতি ঘূর্ণন গতি। বৈদ্যুতিক পাখা, ঘড়ির কাঁটা এবং পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদের ঘোরা এর উদাহরণ।
- চলন গতি: বস্তুর সব কণা একই সময়ে একই দিকে একই দূরত্ব গেলে তাকে চলন গতি বলে। চাকার ঘোরা বাদ দিলে সোজা এগিয়ে যাওয়া গাড়ির দেহের গতি চলন গতি। চলন গতি সোজা পথেই হতে হবে এমন নয়, তবে আঁকাবাঁকা পথে এর উদাহরণ সহজে পাওয়া যায় না।
- পর্যায়বৃত্ত গতি: নির্দিষ্ট সময় পরপর একইভাবে গতির পুনরাবৃত্তি হলে তা পর্যায়বৃত্ত গতি; পুনরাবৃত্তির এই সময়কে পর্যায়কাল বলে। হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, পাখার ঘোরা এবং সূর্যকে ঘিরে হ্যালির ধূমকেতুর ঘোরা এর উদাহরণ।
- সরল স্পন্দন গতি: এটি বিশেষ ধরনের পর্যায়বৃত্ত গতি, যেখানে বস্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর দুই পাশে স্পন্দিত হয়। ওই বিন্দুকে সাম্যবিন্দু বলে। দুই প্রান্তে দ্রুতি শূন্য এবং সাম্যবিন্দুতে সর্বোচ্চ। দোলনায় দুলতে থাকা শিশু, ঘড়ির পেন্ডুলাম এবং স্প্রিংয়ে ঝোলানো দুলন্ত বস্তু এর উদাহরণ।
উদাহরণ: একটি পেন্ডুলাম এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে আবার আগের প্রান্তে ফিরতে s সময় নেয়। তাহলে এর পর্যায়কাল s, এবং মিনিটে, অর্থাৎ s এ, এটি বার পূর্ণ দোলন দেয়। সময়ের SI একক সেকেন্ড (s)।
একটি বস্তু একসঙ্গে একাধিক ধরনের গতিতে থাকতে পারে; যেমন পাখার ঘোরা একই সঙ্গে ঘূর্ণন গতি ও পর্যায়বৃত্ত গতি।
সাধারণ ভুল হলো গড়িয়ে চলা চাকাকে চলন গতির উদাহরণ ভাবা। চাকা এগোনোর সময় ঘুরছেও, তাই এর সব কণা একই দিকে যায় না; চলন গতি হলো চাকা বাদে গাড়ির দেহের গতি।
মনে রাখো: চলন গতিতে সব কণা একই সময়ে একই দিকে একই দূরত্ব যায়; পর্যায়বৃত্ত গতি নির্দিষ্ট পর্যায়কাল পরপর পুনরাবৃত্ত হয়, আর সরল স্পন্দন হয় সাম্যবিন্দুর দুই পাশে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।