offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ৫ · টপিক ৫

গ্রাফিক্স এর ধারণা

পড়ার নোট

ছবি, আলোকচিত্র, অঙ্কন, চিত্রকর্ম, নকশা ইত্যাদিকে প্রথমে স্ক্যান করে কম্পিউটারে নিতে হয় সম্পাদনার জন্য। এখন ডিজিটাল ক্যামেরার ছবি সরাসরি কম্পিউটারে কপি করা যায়। সম্পাদনার পর ছবিগুলো নিমন্ত্রণপত্র, পোস্টার, ব্যানার, বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এটিই গ্রাফিক্স-এর কাজ ও গুরুত্ব।

ছবি সম্পাদনার অনেক প্রোগ্রামের মধ্যে ফটোশপ (Adobe Photoshop) সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। এর সাহায্যে সহজেই:

  • পুরো ছবি বা অংশবিশেষ উজ্জ্বল বা অনুজ্জ্বল করা যায়;
  • একাধিক ছবি দিয়ে বইয়ের প্রচ্ছদ ও পোস্টার বানানো যায়;
  • অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে বাদ দেওয়া যায়;
  • ছবির দাগ বা ছোপ মুছে ফেলা যায়।

পিক্সেল ও রেজুলিউশন: ফটোশপে ছবি তৈরি হয় পিক্সেল দিয়ে। পিক্সেল হলো ছবির বর্গাকার ক্ষুদ্রতম একক। প্রতি ইঞ্চিতে ৭২ পিক্সেল মানে আড়াআড়ি ও উলম্বভাবে ৭২টি করে লাইন, তাই এক বর্গ ইঞ্চিতে মোট 72×72=518472 \times 72 = 5184 পিক্সেল। প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পিক্সেলের এই পরিমাণকে রেজুলিউশন বলে। ছবি বেশি বড় করলে পিক্সেলগুলো আলাদা দেখা যায়, একে পিক্সেলেটেড হওয়া বা ছবি ফেটে যাওয়া বলে।

রঙের মোড: কম্পিউটার, টেলিভিশনের মনিটরে ছবি RGB (Red, Green, Blue) মোডে দেখা যায়। ছাপার কাজে সাধারণত CMYK মোড উপযুক্ত।

উদাহরণ: ফটোশপে প্রস্থ 77 ইঞ্চি, উচ্চতা 88 ইঞ্চি এবং প্রতি ইঞ্চিতে 7272 পিক্সেল দিয়ে নতুন ফাইল খুললে আড়াআড়ি 7×72=5047\times72=504 টি ও উলম্বভাবে 8×72=5768\times72=576 টি পিক্সেল থাকে, মোট 504×576=290304504\times576=290304 টি পিক্সেল। প্রতি ইঞ্চিতে 130130 পিক্সেল দিলে এক বর্গ ইঞ্চিতে 130×130=16900130\times130=16900 টি পিক্সেল থাকে, তাই একই আকারের ছবিতে খুঁটিনাটি বেশি ধরা পড়ে।

সাধারণ ভুল হলো কম রেজুলিউশনের ছোট ছবিকে বড়ো ব্যানারের জন্য টেনে বড়ো করা; তখন ছবি পিক্সেলেটেড হয়ে যায়। আরেকটি ভুল হলো ছাপার কাজেও RGB মোডে নকশা করা; ছাপার জন্য সাধারণত CMYK মোড উপযুক্ত।

মনে রাখো: গ্রাফিক্স মানে ছবি সম্পাদনা ও নকশা; ছবি গঠিত হয় পিক্সেল দিয়ে, আর প্রতি বর্গ ইঞ্চির পিক্সেল সংখ্যাই রেজুলিউশন।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • ছবির রেজোলিউশন ও ফাইলের আকার: মাত্রা দ্বিগুণ হলে কী ঘটে?চালিয়ে দেখো

    রাফি তার বিদ্যালয়ের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরায় ১টি ছবি তুলল। ছবিটির প্রস্থ (Width) ১০২৪ পিক্সেল ও উচ্চতা (Height) ১০২৪ পিক্সেল, এবং রঙের গভীরতা ২৪-বিট ট্রু কালার (True Colour)। কম্পিউটার মেমোরিতে ছবিটির অসংকুচিত (uncompressed) ফাইলের আকার ৩ MB। রাফি যদি ছবির স্পষ্টতা বাড়াতে প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই দ্বিগুণ করে ২০৪৮ × ২০৪৮ পিক্সেল করে, তবে ছবিটির ফাইলের আকার কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. গ্রাফিক্স সফটওয়্যারে তৈরি একটি রঙিন পোস্টার যদি কম্পিউটারের মনিটরে প্রদর্শনের পর সরাসরি প্রিন্টিং প্রেসে অফসেট মেশিনে মুদ্রণ (print) করার জন্য পাঠানো হয়, তবে সঠিক রঙের পুনরুৎপাদনের জন্য কালার মোড (Color Mode) কোনটি নির্ধারণ করতে হবে?

    1. ক

      CMYK মোড

    2. খ

      RGB মোড

    3. গ

      গ্রেস্কেল (Grayscale) মোড

    4. ঘ

      বিটম্যাপ (Bitmap) মোড

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) CMYK মোড

    1. পাঠ্যপুস্তক অনুসারে গ্রাফিক্স সফটওয়্যারে দুটি প্রধান কালার মোড রয়েছে: আরজিবি (RGB) এবং সিএমওয়াইকে (CMYK)।
    2. কম্পিউটার বা টেলিভিশনের ইলেকট্রনিক পর্দায় প্রদর্শনের জন্য RGB (Red, Green, Blue) মোড ব্যবহৃত হয়, কিন্তু কাগজে বা প্রেসে মুদ্রণের জন্য চারটি রঙের কালির সমন্বয়ে গঠিত CMYK (Cyan, Magenta, Yellow, blacK) মোড নির্বাচন করতে হয়।
  2. ময়মনসিংহের একটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা একটি অসংকুচিত ছবির প্রাথমিক ফাইলের আকার ২ MB। ছবির স্পষ্টতা ও বিস্তারিত মান বাড়াতে এর প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই দ্বিগুণ পিক্সেলে বৃদ্ধি করা হলো। রঙের গভীরতা (Colour depth) অপরিবর্তিত থাকলে মেমোরিতে নতুন ছবিটির ফাইলের আকার কত হবে?

    1. ক

      ৪ MB

    2. খ

      ৮ MB

    3. গ

      ২ MB

    4. ঘ

      ১৬ MB

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ৮ MB

    1. ডিজিটাল ছবির মোট পিক্সেল সংখ্যা হলো প্রস্থ ও উচ্চতার গুণফল: মোট পিক্সেল=প্রস্থ×উচ্চতা\text{মোট পিক্সেল} = \text{প্রস্থ} \times \text{উচ্চতা}।
    Total pixels=W×H\text{Total pixels} = W \times H
    1. ছবির প্রস্থ ২ গুণ এবং উচ্চতা ২ গুণ করা হলে নতুন মোট পিক্সেল সংখ্যা হয় মূল পিক্সেলের ২×২=৪২ \times ২ = ৪ গুণ।
    W′×H′=(2W)×(2H)=4(W×H)W' \times H' = (2W) \times (2H) = 4(W \times H)
    1. যেহেতু রঙের গভীরতা একই থাকে, তাই অসংকুচিত ছবির ফাইলের আকারও ঠিক ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে হবে ২ MB×৪=৮ MB২\text{ MB} \times ৪ = ৮\text{ MB}।
    New Size=2 MB×4=8 MB\text{New Size} = 2\text{ MB} \times 4 = 8\text{ MB}
  3. খুলনার একটি বিদ্যালয়ের বার্ষিক বিজ্ঞান ও পরিবেশ প্রদর্শনীর জন্য সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একটি উচ্চমানের ডিজিটাল ছবি ক্যামেরায় ধারণ করা হলো। ছবিটির প্রস্থ (Width) ২,০৪৮ পিক্সেল এবং উচ্চতা (Height) ১,০২৪ পিক্সেল। ছবিটির রঙের গভীরতা (Colour depth) ২৪-বিট ট্রু কালার (২৪ বিট = ৩ বাইট)। মেমোরিতে ছবিটির অসংকুচিত (uncompressed) ফাইলের আকার কত megabyte (MB) হবে? (এখানে ১ MB = ১,০২৪ × ১,০২৪ বাইট ধরে হিসাব করো। সূত্র: ফাইলের আকার = (প্রস্থ × উচ্চতা × প্রতি পিক্সেলের বাইট) ÷ (১,০২৪ × ১,০২৪))

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৬ MB

    1. ছবিটির মোট পিক্সেল সংখ্যা: N=প্রস্থ×উচ্চতা=২,০৪৮×১,০২৪=২,০৯৭,১৫২ পিক্সেলN = \text{প্রস্থ} \times \text{উচ্চতা} = ২,০৪৮ \times ১,০২৪ = ২,০৯৭,১৫২\text{ পিক্সেল}।
    N=2048×1024=2097152 pixelsN = 2048 \times 1024 = 2097152\text{ pixels}
    1. ২৪-বিট ট্রু কালারে প্রতি পিক্সেলে প্রয়োজনীয় বাইট: b=২৪ bits৮ bits/Byte=৩ Bytesb = \frac{২৪\text{ bits}}{৮\text{ bits/Byte}} = ৩\text{ Bytes}। সুতরাং মোট বাইট = ২,০৯৭,১৫২×৩=৬,২৯১,৪৫৬ Bytes২,০৯৭,১৫২ \times ৩ = ৬,২৯১,৪৫৬\text{ Bytes}।
    Total Bytes=2097152×3=6291456 Bytes\text{Total Bytes} = 2097152 \times 3 = 6291456\text{ Bytes}
    1. প্রদত্ত রূপান্তর নিয়ম অনুযায়ী মেগাবাইটে ফাইলের আকার: SMB=৬,২৯১,৪৫৬১,০২৪×১,০২৪=২,০৪৮×১,০২৪×৩১,০৪৮,৫৭৬=৬ MBS_{\text{MB}} = \frac{৬,২৯১,৪৫৬}{১,০২৪ \times ১,০২৪} = \frac{২,০৪৮ \times ১,০২৪ \times ৩}{১,০৪৮,৫৭৬} = ৬\text{ MB}।
    SMB=2048×1024×31024×1024=6 MBS_{\text{MB}} = \frac{2048 \times 1024 \times 3}{1024 \times 1024} = 6\text{ MB}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো