পড়ার নোট
ছবি, আলোকচিত্র, অঙ্কন, চিত্রকর্ম, নকশা ইত্যাদিকে প্রথমে স্ক্যান করে কম্পিউটারে নিতে হয় সম্পাদনার জন্য। এখন ডিজিটাল ক্যামেরার ছবি সরাসরি কম্পিউটারে কপি করা যায়। সম্পাদনার পর ছবিগুলো নিমন্ত্রণপত্র, পোস্টার, ব্যানার, বিজ্ঞাপন ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয়। এটিই গ্রাফিক্স-এর কাজ ও গুরুত্ব।
ছবি সম্পাদনার অনেক প্রোগ্রামের মধ্যে ফটোশপ (Adobe Photoshop) সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। এর সাহায্যে সহজেই:
- পুরো ছবি বা অংশবিশেষ উজ্জ্বল বা অনুজ্জ্বল করা যায়;
- একাধিক ছবি দিয়ে বইয়ের প্রচ্ছদ ও পোস্টার বানানো যায়;
- অপ্রয়োজনীয় অংশ কেটে বাদ দেওয়া যায়;
- ছবির দাগ বা ছোপ মুছে ফেলা যায়।
পিক্সেল ও রেজুলিউশন: ফটোশপে ছবি তৈরি হয় পিক্সেল দিয়ে। পিক্সেল হলো ছবির বর্গাকার ক্ষুদ্রতম একক। প্রতি ইঞ্চিতে ৭২ পিক্সেল মানে আড়াআড়ি ও উলম্বভাবে ৭২টি করে লাইন, তাই এক বর্গ ইঞ্চিতে মোট পিক্সেল। প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে পিক্সেলের এই পরিমাণকে রেজুলিউশন বলে। ছবি বেশি বড় করলে পিক্সেলগুলো আলাদা দেখা যায়, একে পিক্সেলেটেড হওয়া বা ছবি ফেটে যাওয়া বলে।
রঙের মোড: কম্পিউটার, টেলিভিশনের মনিটরে ছবি RGB (Red, Green, Blue) মোডে দেখা যায়। ছাপার কাজে সাধারণত CMYK মোড উপযুক্ত।
উদাহরণ: ফটোশপে প্রস্থ ইঞ্চি, উচ্চতা ইঞ্চি এবং প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল দিয়ে নতুন ফাইল খুললে আড়াআড়ি টি ও উলম্বভাবে টি পিক্সেল থাকে, মোট টি পিক্সেল। প্রতি ইঞ্চিতে পিক্সেল দিলে এক বর্গ ইঞ্চিতে টি পিক্সেল থাকে, তাই একই আকারের ছবিতে খুঁটিনাটি বেশি ধরা পড়ে।
সাধারণ ভুল হলো কম রেজুলিউশনের ছোট ছবিকে বড়ো ব্যানারের জন্য টেনে বড়ো করা; তখন ছবি পিক্সেলেটেড হয়ে যায়। আরেকটি ভুল হলো ছাপার কাজেও RGB মোডে নকশা করা; ছাপার জন্য সাধারণত CMYK মোড উপযুক্ত।
মনে রাখো: গ্রাফিক্স মানে ছবি সম্পাদনা ও নকশা; ছবি গঠিত হয় পিক্সেল দিয়ে, আর প্রতি বর্গ ইঞ্চির পিক্সেল সংখ্যাই রেজুলিউশন।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।