offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ৫

ছবির রেজোলিউশন ও ফাইলের আকার: মাত্রা দ্বিগুণ হলে কী ঘটে?

মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।

রাফি তার বিদ্যালয়ের বার্ষিক বিজ্ঞান মেলার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরায় ১টি ছবি তুলল। ছবিটির প্রস্থ (Width) ১০২৪ পিক্সেল ও উচ্চতা (Height) ১০২৪ পিক্সেল, এবং রঙের গভীরতা ২৪-বিট ট্রু কালার (True Colour)। কম্পিউটার মেমোরিতে ছবিটির অসংকুচিত (uncompressed) ফাইলের আকার ৩ MB। রাফি যদি ছবির স্পষ্টতা বাড়াতে প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই দ্বিগুণ করে ২০৪৮ × ২০৪৮ পিক্সেল করে, তবে ছবিটির ফাইলের আকার কত হবে?

প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই দ্বিগুণ (২০৪৮ × ২০৪৮) করলে ফাইলের আকার কত হবে?

  1. ৬ MB — প্রস্থ ও উচ্চতা দ্বিগুণ, তাই ফাইলের আকারও দ্বিগুণ হবে (৩ × ২ = ৬ MB)
  2. ১২ MB — প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই দ্বিগুণ হওয়ায় মোট পিক্সেল ৪ গুণ বাড়ে (৩ × ৪ = ১২ MB)
  3. ৩ MB — রেজোলিউশন বাড়ালে কেবল ছবির স্পষ্টতা বাড়ে, মেমোরিতে ফাইলের আকার একই থাকে

যা বদলাতে পারবে

  • প্রস্থ (Width): ২৫৬ থেকে ৪,০৯৬ px
  • উচ্চতা (Height): ২৫৬ থেকে ৪,০৯৬ px
  • রঙের গভীরতা (Colour depth): ১-বিট (সাদা-কালো / ২ রং), ৮-বিট (২৫৬ রং), ১৬-বিট (হাই কালার / ৬৫,৫৩৬ রং), ২৪-বিট (ট্রু কালার / ১.৬৭ কোটি রং), ৩২-বিট (স্বচ্ছতাসহ ট্রু কালার)

যা মেপে দেখাবে

  • মোট পিক্সেল সংখ্যা
  • মেগাপিক্সেল (MP)
  • ফাইলের আকার (মেমোরিতে) (MB)
  • সম্ভাব্য রঙের সংখ্যা

চালানোর সময় খেয়াল করো

  • প্রস্থ এবং উচ্চতা দুটোই ২০৪৮ পিক্সেল করো। মোট পিক্সেল এবং ফাইলের আকারে কী পরিবর্তন ঘটল তা লক্ষ্য করো।

নিজে করে দেখো

  1. এসএসসি অনলাইন ফর্মের ছবি ১ MB-এর কম হতে হবে, কিন্তু রং ২৪-বিটই থাকবে। মাপ বেছে নাও।
    ইঙ্গিত

    আকার = প্রস্থ × উচ্চতা × ৩ বাইট।

  2. ৪০৯৬ × ৪০৯৬ পিক্সেলের একটি সাদাকালো (১-বিট) পোস্টার বানাও। এর আকার কত?
    ইঙ্গিত

    ৮ পিক্সেল মিলে ১ বাইট।

ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।

ছবির রেজোলিউশন ও দ্বিমাত্রিক স্কেলিং: ফাইলের আকার (বাইট) = (প্রস্থ × উচ্চতা × রঙের গভীরতা) ÷ ৮

ডিজিটাল ছবি তৈরি হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রঙের বিন্দুর গ্রিড বা পিক্সেল (Pixel) দিয়ে। মোট পিক্সেল সংখ্যা হলো প্রস্থ ও উচ্চতার গুণফল (প্রস্থ × উচ্চতা)। যখন কোনো ছবির প্রস্থ ও উচ্চতা উভয়ই দ্বিগুণ করা হয়, তখন তার মোট পিক্সেল সংখ্যা ২ × ২ = ৪ গুণ বৃদ্ধি পায়। ২৪-বিট ট্রু কালারে প্রতিটি পিক্সেল সংরক্ষণে ৩ বাইট (২৪ বিট ÷ ৮) ডেটা লাগে। তাই ১০২৪ × ১০২৪ পিক্সেলের ছবির আকার যেখানে ৩ MB (১০২৪ × ১০২৪ × ৩ বাইট ÷ ১০২৪²), সেখানে ২০৪৮ × ২০৪৮ পিক্সেলে মোট পিক্সেল ৪ গুণ হওয়ায় ফাইলের আকারও ঠিক ৪ গুণ বেড়ে ৩ × ৪ = ১২ MB হয়ে যায়।

অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল

প্রস্থ ও উচ্চতা দ্বিগুণ করায় আমাদের আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে ছবির ফাইলের আকারও কেবল ২ গুণ বাড়বে। কিন্তু ছবি কোনো একমাত্রিক রেখা নয়, এটি একটি দ্বিমাত্রিক (2D) ক্ষেত্রফল। প্রস্থ বরাবর পিক্সেল দ্বিগুণ হয় এবং একই সাথে উচ্চতা বরাবরও পিক্সেল দ্বিগুণ হয়, ফলে মোট পিক্সেল সংখ্যা ৪ গুণ বাড়ে। প্রতিটি পিক্সেলের জন্যই কম্পিউটার মেমোরিতে আলাদা ডেটা সংরক্ষণ করতে হয়, তাই ফাইলের আকার ২ গুণ নয়, বরং সরাসরি ৪ গুণ বৃদ্ধি পায়।

যেসব ভুল ধারণা হয়

  • ছবির প্রস্থ ও উচ্চতা দ্বিগুণ করলে ফাইলের আকার কেবল দ্বিগুণ হয়
  • ছবির রেজোলিউশন বা পিক্সেল সংখ্যা বাড়ালেও মেমোরিতে ফাইলের আকার পরিবর্তন হয় না

বাস্তবে কোথায় দেখা যায়

  • বাংলাদেশ সরকারি চাকরির আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষার পোর্টাল (যেমন টেলিটক / Teletalk) — অনলাইনে ছবি আপলোড করার সময় ফাইলের আকার সর্বোচ্চ ১০০ KB এবং রেজোলিউশন ৩০০ × ৩০০ পিক্সেল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যাতে সার্ভারের মেমোরি ও ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সাশ্রয় হয়।
  • স্মার্টফোন ক্যামেরা ও মেমোরি কার্ড ব্যবস্থাপনা — ৫০ বা ১০৮ মেগাপিক্সেল হাই-রেজোলিউশন মোডে ছবি তুললে কেন প্রতিটি ছবি নিমেষেই মেমোরির বহু মেগাবাইট জায়গা দখল করে তা বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ক্যামেরা মোড নির্বাচন করা।

পাঠ্যবইয়ের টপিক