তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ৫
বিজ্ঞান মেলার ভিডিওর আকার: ফ্রেম রেট দ্বিগুণ হলে কী ঘটে?
মান বদলাও, চালাও, আর দেখো কী ঘটে।
রাফি তার বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলার জন্য ১ মিনিটের একটি ফুল এইচডি (Full HD) ভিডিও রেকর্ড করল। ভিডিওটির প্রতি ফ্রেমের রেজোলিউশন ১৯২০ × ১০৮০ পিক্সেল, রঙের গভীরতা ২৪-বিট ট্রু কালার, এবং ফ্রেম রেট প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেম (30 fps)। কম্পিউটার মেমোরিতে অসংকুচিত (uncompressed) অবস্থায় ভিডিওটির ফাইলের আকার দাঁড়ায় প্রায় ১০.৪ GB। রাফি যদি ভিডিওর ফ্রেম রেট দ্বিগুণ করে ৬০ fps করে, তবে ভিডিওটির ফাইলের আকার কত হবে?
ফ্রেম রেট ৩০ থেকে ৬০ fps করলে ভিডিওটির ফাইলের আকার কত হবে?
- দ্বিগুণ হবে (প্রায় ২০.৯ GB): প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেম দ্বিগুণ হওয়ায় মোট ডেটাও দ্বিগুণ হবে
- একই থাকবে: ফ্রেম রেট কেবল গতি মসৃণ করে, মেমোরিতে ফাইলের আকার পরিবর্তন করে না
- চার গুণ হবে (প্রায় ৪১.৭ GB): মান দ্বিগুণ করায় আকার ৪ গুণ বৃদ্ধি পাবে
যা বদলাতে পারবে
- প্রস্থ (Width): ১৬০ থেকে ৩,৮৪০ px
- উচ্চতা (Height): ১৬০ থেকে ৩,৮৪০ px
- ফ্রেম রেট (Frame rate): ১০ থেকে ৬০ fps
- সময়কাল (Duration): ১ থেকে ১২০ s
- রঙের গভীরতা (Colour depth): ১-বিট (সাদা-কালো / ২ রং), ৮-বিট (২৫৬ রং), ১৬-বিট (হাই কালার / ৬৫,৫৩৬ রং), ২৪-বিট (ট্রু কালার / ১.৬৭ কোটি রং), ৩২-বিট (স্বচ্ছতাসহ ট্রু কালার)
যা মেপে দেখাবে
- ভিডিওর মোট আকার (MB)
- ১টি ফ্রেমের আকার (MB)
- প্রতি ফ্রেমে পিক্সেল
চালানোর সময় খেয়াল করো
- ফ্রেম রেট ৩০ থেকে ৬০ fps করে চালিয়ে দেখো। প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেম সংখ্যা দ্বিগুণ হলে মোট ভিডিওর আকার কত হয়?
নিজে করে দেখো
- ১০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি অসংকুচিত ভিডিও ক্লিপ তৈরি করো যার আকার ৫০০ MB-এর কম হতে হবে।
ইঙ্গিত
ভিডিওর রেজোলিউশন (প্রস্থ ও উচ্চতা), রঙের গভীরতা অথবা ফ্রেম রেট কমিয়ে আকার ৫০০ MB-এর নিচে আনো।
- ১২৮০ × ৭২০ রেজোলিউশন, ২৪-বিট রঙের গভীরতা ও ৫ সেকেন্ড ক্লিপের জন্য সর্বোচ্চ ফ্রেম রেট (fps) খুঁজে বের করো যাতে আকার ১ GB (১০২৪ MB) বা তার কম থাকে।
ইঙ্গিত
১২৮০ × ৭২০ এবং ২৪-বিটে ১ ফ্রেমের আকার প্রায় ২.৬৪ MB। ৫ সেকেন্ডে ৬০ fps পর্যন্ত ফ্রেম রেট বাড়ালেও মোট আকার প্রায় ৭৯১ MB থাকে, যা ১ GB-এর চেয়ে কম।
ধারণাটা কী?আগে নিজে চালিয়ে দেখো, তারপর খোলো।
ভিডিও ফাইলের আকার: ভিডিও আকার = ১টি ফ্রেমের আকার × ফ্রেম রেট (fps) × সময় (সেকেন্ড)
ভিডিও এবং অ্যানিমেশন হলো আসলে পর পর দ্রুত প্রদর্শিত স্থির ছবির সমষ্টি (ফ্রেম)। ১ সেকেন্ডে যতগুলো ফ্রেম প্রদর্শিত হয় তাকে ফ্রেম রেট বা fps (frames per second) বলে। ১টি ফ্রেমের আকার নির্ধারিত হয় ছবির রেজোলিউশন (প্রস্থ × উচ্চতা) এবং রঙের গভীরতা দিয়ে। মোট ভিডিওর আকার হলো একটি ফ্রেমের আকার, প্রতি সেকেন্ডের ফ্রেম সংখ্যা এবং মোট সময়ের গুণফল। ফ্রেম রেট ৩০ থেকে ৬০ fps করলে প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেম সংখ্যা ঠিক দ্বিগুণ হয়, তাই ফাইলের আকারও দ্বিগুণ হয় (১০.৪ GB থেকে ২০.৯ GB)। ১ মিনিটের একটি ১৯২০ × ১০৮০ ফুল এইচডি আনকম্প্রেসড ভিডিও প্রায় ১০.৪ GB মেমোরি দখল করে। এত বিশাল আকারের কারণেই বাস্তব জীবনে ভিডিওকে MP4 ফরম্যাটে সংকোচন (compression) করে সংরক্ষণ ও শেয়ার করা হয়।
অন্য উত্তরগুলো কেন ভুল
ফ্রেম রেট বাড়ালে চোখে গতি বেশি মসৃণ মনে হলেও কম্পিউটারের কাছে প্রতিটি ফ্রেমই একটি আলাদা পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ছবি। প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেম ৩০ থেকে ৬০টি করলে ১ মিনিটে মোট ফ্রেম সংখ্যা ১৮০০ থেকে বেড়ে ৩৬০০টি হয়, ফলে ফাইলের আকার ঠিক দ্বিগুণ হয়। রেজোলিউশনের মতো এখানে প্রস্থ ও উচ্চতা উভয় দিক বাড়ে না, কেবল সময়ের সাথে ফ্রেম সংখ্যা সরলরৈখিকভাবে বাড়ে, তাই আকার চার গুণ নয় বরং দ্বিগুণ হয়।
যেসব ভুল ধারণা হয়
- ফ্রেম রেট বাড়ালে কেবল ভিডিও মসৃণ হয় কিন্তু ফাইলের আকার একই থাকে
- ফ্রেম রেট দ্বিগুণ করলে ভিডিও ফাইলের আকার চার গুণ বাড়ে
বাস্তবে কোথায় দেখা যায়
- বাংলাদেশ সংসদ টেলিভিশন ও অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম: সীমিত ইন্টারনেট ডেটায় শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ক্লাস সম্প্রচার করতে রেজোলিউশন ও ফ্রেম রেটের সুষম সমন্বয় করা।
- সিসিটিভি ও ট্রাফিক নজরদারি ক্যামেরা: দিনরাত ২৪ ঘণ্টা একটানা ভিডিও ধারণে হার্ডডিস্ক স্টোরেজ সাশ্রয় করতে ১৫ বা ২৫ fps ফ্রেম রেট এবং আধুনিক সংকোচন পদ্ধতি ব্যবহার করা।