offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ৫ · টপিক ৩

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার

  • শিক্ষার উপকরণ হিসাবে
  • বিনোদন
  • বিজ্ঞাপন
  • গেমস
  • এ্যানিমেশন

পড়ার নোট

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। প্রধান ক্ষেত্রগুলো:

  • শিক্ষার উপকরণ হিসেবে: শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করলে শিক্ষার্থী সহজে বিষয়টি বোঝে, আর শিক্ষকও পাঠ সহজে ও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। এর দুটি রূপ আছে:
    • মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার: বাংলাদেশে এ সফটওয়্যার তৈরি সবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-৭১, অবসর, বিশ্বকোষ, নামাজ শিক্ষা, বিজয় শিশু শিক্ষা এমন কয়েকটি সিডিতে এর প্রয়োগ হয়েছে, যদিও প্রকৃত ইন্টারঅ্যাকটিভিটি তখনো কম ছিল।
    • ডিজিটাল প্রকাশনা: আমাদের প্রকাশনা এখনো মূলত কাগজনির্ভর; আশা করা হয় ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্রকাশনা বাড়বে।
  • বিনোদন: সিনেমা ও নাটককে বিশেষ ইফেক্টের মাধ্যমে আরও প্রাণবন্ত করা হয়।
  • বিজ্ঞাপন: মাল্টিমিডিয়ার কল্যাণে বিজ্ঞাপন আকর্ষণীয় হয়েছে; বাস্তব ও কাল্পনিক দুই ধরনের বিষয়ই দেখানো যায়।
  • গেমস: কম্পিউটার ও ভিডিয়োগেমে মাল্টিমিডিয়ার ব্যবহারে খেলা বাস্তবের মতো মনে হয়।
  • অ্যানিমেশন: স্থির গ্রাফিক্স বা ছবিকে নড়াচড়া করানো হলো অ্যানিমেশন, যা দ্বিমাত্রিক বা ত্রিমাত্রিক হতে পারে। বিজ্ঞাপনে এটি জনপ্রিয়। এটি একা নয়, অডিয়ো, ভিডিয়ো, টেক্সট ও গ্রাফিক্স মিলিয়ে তৈরি হয়।

যিনি টেক্সট, গ্রাফিক্স, অডিয়ো, ভিডিয়ো, অ্যানিমেশন নিয়ে কাজ করেন, তাঁকে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ডেভেলপার বলে। কনটেন্ট তৈরি আর তাতে ইন্টারঅ্যাকটিভিটি যোগ করা আলাদা কাজ। যাঁরা কনটেন্টের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভিটি যুক্ত করে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেন, তাঁদের মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামার বা অথর বলা হয়।

একটি উদাহরণ: জেলা শহরের একটি স্কুলে শিক্ষক হৃৎপিণ্ডের কাজ বোঝাতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে একটি অ্যানিমেশন দেখালেন, যেখানে রক্ত প্রবাহের দিক তীর দিয়ে দেখানো হয় এবং পাশে বর্ণনা শোনা যায়। শুধু বই পড়ে যা বুঝতে সময় লাগে, তা চলমান ছবি ও শব্দের সাহায্যে দ্রুত স্পষ্ট হয়।

সাধারণ ভুল হলো বড়ো পর্দায় শুধু বইয়ের লেখা দেখানোকেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাস মনে করা। মাল্টিমিডিয়ার সুবিধা আসে লেখা, ছবি, শব্দ, ভিডিয়ো ও অ্যানিমেশন মিলিয়ে বিষয়টি বোঝানো থেকে।

মনে রাখো: শিক্ষা, বিনোদন, বিজ্ঞাপন, গেমস ও অ্যানিমেশন: মাল্টিমিডিয়ার এই ক্ষেত্রগুলো পাঠকে সহজ আর উপস্থাপনাকে আকর্ষণীয় করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • বিজ্ঞান মেলার ভিডিওর আকার: ফ্রেম রেট দ্বিগুণ হলে কী ঘটে?চালিয়ে দেখো

    রাফি তার বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলার জন্য ১ মিনিটের একটি ফুল এইচডি (Full HD) ভিডিও রেকর্ড করল। ভিডিওটির প্রতি ফ্রেমের রেজোলিউশন ১৯২০ × ১০৮০ পিক্সেল, রঙের গভীরতা ২৪-বিট ট্রু কালার, এবং ফ্রেম রেট প্রতি সেকেন্ডে ৩০ ফ্রেম (30 fps)। কম্পিউটার মেমোরিতে অসংকুচিত (uncompressed) অবস্থায় ভিডিওটির ফাইলের আকার দাঁড়ায় প্রায় ১০.৪ GB। রাফি যদি ভিডিওর ফ্রেম রেট দ্বিগুণ করে ৬০ fps করে, তবে ভিডিওটির ফাইলের আকার কত হবে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. ঢাকার একটি ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া স্টুডিওতে শিশুদের বর্ণমালা ও ছড়া শিক্ষার জন্য ৩০ সেকেন্ড (30 s) সময়কালের একটি দ্বিমাত্রিক (2D) অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। অ্যানিমেশনটি প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি ফ্রেম (২৫ fps) হারে প্রদর্শিত হয়। অ্যানিমেশন সফটওয়্যারে চূড়ান্ত ভিডিওটি রেন্ডারিং (rendering) করার সময় কম্পিউটারটি প্রতি সেকেন্ডে ১৫টি ফ্রেম (১৫ frames/s) প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে। সম্পূর্ণ অ্যানিমেশনটি রেন্ডার হতে মোট কত সেকেন্ড (s) সময় লাগবে? (সূত্র: মোট রেন্ডারিং সময় = মোট ফ্রেম সংখ্যা ÷ প্রতি সেকেন্ডে রেন্ডারকৃত ফ্রেম, যেখানে মোট ফ্রেম সংখ্যা = অ্যানিমেশনের সময়কাল × প্রতি সেকেন্ডের ফ্রেম)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৫০ s

    1. অ্যানিমেশনটির মোট ফ্রেম সংখ্যা: N=সময়কাল×ফ্রেম রেট=৩০ s×২৫ frames/s=৭৫০ টি ফ্রেমN = \text{সময়কাল} \times \text{ফ্রেম রেট} = ৩০\text{ s} \times ২৫\text{ frames/s} = ৭৫০\text{ টি ফ্রেম}।
    N=30×25=750 framesN = 30 \times 25 = 750\text{ frames}
    1. কম্পিউটারের রেন্ডারিং গতি প্রতি সেকেন্ডে ১৫টি ফ্রেম (r=১৫ frames/sr = ১৫\text{ frames/s})।
    r=15 frames/sr = 15\text{ frames/s}
    1. রেন্ডার হতে মোট প্রয়োজনীয় সময়: t=Nr=৭৫০১৫ frames/s=৫০ st = \frac{N}{r} = \frac{৭৫০}{১৫\text{ frames/s}} = ৫০\text{ s}।
    t=75015=50 st = \frac{750}{15} = 50\text{ s}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো