পড়ার নোট
কম্পিউটার শুরুতে ছিল হিসাব-নিকাশের যন্ত্র, পরে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও যোগাযোগ এবং লেখালেখির কাজে ব্যবহার শুরু হয়। তখন একটিমাত্র মিডিয়া ছিল: বর্ণ। ধীরে ধীরে এর সঙ্গে যুক্ত হলো চিত্র ও শব্দ, আর কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ক্ষমতা তো ছিলই। এখন কম্পিউটার ছাড়াও মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে মাল্টিমিডিয়া চলে।
মাল্টিমিডিয়ার প্রধান মাধ্যম ছয়টি:
- বর্ণ বা টেক্সট: আগে টাইপরাইটারে যে লেখা হতো, এখন অফিস-আদালত থেকে ছাপাখানা পর্যন্ত সবই কম্পিউটারে হয়।
- চিত্র বা গ্রাফিক্স: ডিজাইন, সম্পাদনা, আঁকা সবই কম্পিউটারে হয়। আমাদের দেশে মুদ্রণ ও প্রকাশনায় নব্বইয়ের দশকে ফটোশপ দিয়ে স্ক্যান করা ছবি সম্পাদনার মধ্য দিয়ে এর ব্যবহার শুরু হয়।
- ভিডিয়ো: এটি এক ধরনের গ্রাফিক্স, বলা ভালো চলমান গ্রাফিক্স। টিভি, হোম ভিডিয়ো, মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার ও ওয়েবে এর ব্যাপক ব্যবহার।
- অ্যানিমেশন: এটিও গ্রাফিক্স; চলমান বা স্থির, দ্বিমাত্রিক বা ত্রিমাত্রিক হতে পারে। এটি কখনো একা ব্যবহার হয় না, অডিয়ো, ভিডিয়ো, টেক্সটের সঙ্গে মিলে কাজ করে।
- শব্দ বা অডিয়ো: রেকর্ডিং ও সম্পাদনার কাজ এখন কম্পিউটারেই হয়; পুরোনো অ্যানালগ পদ্ধতি প্রায় অচল।
- ইন্টারঅ্যাকটিভ কম্পিউটিং: লেখায় স্টাইল দিলে বা ভিডিয়োতে ইফেক্ট দিলেই ইন্টারঅ্যাকটিভ হয় না। ফ্ল্যাশ, ডিরেক্টর বা অথরওয়্যারের মতো সফটওয়্যারে বানানো যে কাজে ব্যবহারকারী ও কম্পিউটারের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সম্ভব, সেটিই ইন্টারঅ্যাকটিভিটি।
একটি উদাহরণে ছয়টি মাধ্যম একসঙ্গে দেখা যায়: পানিচক্র নিয়ে একটি ডিজিটাল পাঠে মেঘ ও নদীর ছবি (চিত্র), বৃষ্টি পড়ার অ্যানিমেশন, একটি ছোট ভিডিও, বর্ণনার শব্দ, প্রতিটি অংশের নাম লেখা (বর্ণ) এবং শেষে শিক্ষার্থী নিজে উত্তর বেছে নিতে পারে এমন কুইজ (ইন্টারঅ্যাকটিভ কম্পিউটিং) থাকতে পারে।
সাধারণ ভুল হলো ভিডিয়ো ও অ্যানিমেশনকে গ্রাফিক্স থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কিছু মনে করা। দুটিই গ্রাফিক্সেরই রূপ; ভিডিয়ো চলমান গ্রাফিক্স, আর অ্যানিমেশন স্থির ছবিকে নড়াচড়া করায়।
মনে রাখো: বর্ণ, চিত্র, ভিডিয়ো, অ্যানিমেশন, শব্দ ও ইন্টারঅ্যাকটিভ কম্পিউটিং: এই ছয়টি মাল্টিমিডিয়ার প্রধান মাধ্যম।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।