offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ৫ · টপিক ১

মাল্টিমিডিয়ার ধারণা

পড়ার নোট

মানুষ আদিকাল থেকেই নিজেকে প্রকাশ করতে নানা মাধ্যম (মিডিয়া) ব্যবহার করছে। লেখা একটি মাধ্যম, শব্দ একটি মাধ্যম, ছবিও একটি মাধ্যম। যখন অনেকগুলো প্রকাশ মাধ্যমকে একসঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে মাল্টিমিডিয়া বলে। সহজ কথায়, মাল্টিমিডিয়া মানে বহু মাধ্যম।

আমরা অন্তত তিনটি মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের প্রকাশ করি: বর্ণ, চিত্র ও শব্দ। এগুলো কখনো আলাদাভাবে, কখনো একসঙ্গে আমাদের সামনে আসে। কাগজের প্রকাশনা, রেডিয়ো, টেলিভিশন, ভিডিও, সিনেমা, ভিডিয়োগেমস, শিক্ষামূলক সফটওয়্যার, ওয়েবপেজ এসবের মধ্য দিয়েই আমরা এগুলো চিনি। তবে এদের সবগুলোকে মাল্টিমিডিয়া বলা ঠিক নয়। টেলিভিশন, ভিডিও ও সিনেমাকে মাল্টিমিডিয়া বলা যায়।

অ্যানালগ ও ডিজিটাল যুগ: আগে মিডিয়াগুলো আলাদা আলাদাভাবে ব্যবহার হতো। ডিজিটাল যুগে সেগুলো একসঙ্গে মিলেছে, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল যন্ত্রের প্রোগ্রামিং করার ক্ষমতা।

ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া: বহুমাধ্যমের সঙ্গে প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় যে মাল্টিমিডিয়ায় ব্যবহারকারী নিজে যোগাযোগ বা মিথস্ক্রিয়া করতে পারে, তাকে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া বলে। ভিডিয়োগেমস, শিক্ষামূলক সফটওয়্যার ও ওয়েবপেজ এর উদাহরণ।

মাল্টিমিডিয়া সাধারণত ডিজিটাল যন্ত্রের সাহায্যে ধারণ ও পরিচালনা করা হয় এবং সরাসরি মঞ্চে বা অন্যভাবে প্রদর্শিত হতে পারে। ১৮৯৫ সালে সিনেমার উদ্ভবের পর তাতে বর্ণ, চিত্র, শব্দ ও গতি যুক্ত হয়, তাই সিনেমাকে মাল্টিমিডিয়ার পূর্বপুরুষ বলা হয়।

একটি উদাহরণ: বিজ্ঞান ক্লাসে নদীভাঙন নিয়ে একটি ভিডিওতে চলমান ছবি, ধারাবর্ণনার শব্দ এবং পর্দায় লেখা ক্যাপশন একসঙ্গে আসে; এটি মাল্টিমিডিয়া। কিন্তু দর্শক এখানে শুধু দেখে, কিছু বদলাতে পারে না। একই বিষয়ে একটি শিক্ষামূলক সফটওয়্যারে শিক্ষার্থী নিজে বোতাম চেপে নদীর পানির স্রোত বাড়ালে বা কমালে কী হয় দেখতে পারলে সেটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া।

সাধারণ ভুল হলো সব মাল্টিমিডিয়াকে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভাবা। টেলিভিশন বা সিনেমা মাল্টিমিডিয়া হলেও এতে ব্যবহারকারীর মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ নেই।

মনে রাখো: একাধিক মাধ্যমের (বর্ণ, চিত্র, শব্দ) সমন্বয়ই মাল্টিমিডিয়া; ব্যবহারকারী যেখানে সাড়া দিতে পারে সেটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. টেলিভিশনে প্রচারিত পদ্মা সেতুর একটি তথ্যচিত্রের তুলনায় কম্পিউটারভিত্তিক কোনো শিক্ষামূলক মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারকে 'ইন্টারেক্টিভ মাল্টিমিডিয়া' (Interactive Multimedia) বলার মূল কারণ কোনটি?

    1. ক

      এতে ব্যবহারকারী সরাসরি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনের গতি ও প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে

    2. খ

      এতে কেবল রঙিন স্থির ছবি ও লিখিত টেক্সট ব্যবহার করা যায়

    3. গ

      এটি প্রদর্শনের জন্য কোনো ডিজিটাল ডিভাইসের প্রয়োজন হয় না

    4. ঘ

      এতে ব্যবহারকারীর পছন্দ ছাড়াই তথ্য একটি নির্দিষ্ট ধারায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে থাকে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ক) এতে ব্যবহারকারী সরাসরি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনের গতি ও প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে

    1. ইন্টারেক্টিভ মাল্টিমিডিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো ব্যবহারকারীর সাথে যন্ত্রের দ্বিমুখী মিথস্ক্রিয়া বা সক্রিয় যোগাযোগ (Interactivity)।
    2. টেলিভিশনের তথ্যচিত্রে দর্শক কেবল নিষ্ক্রিয়ভাবে অনুষ্ঠান দেখে, কিন্তু শিক্ষামূলক মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যারে ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজনমতো ক্লিক বা কমান্ড দিয়ে বিষয়বস্তুর গতিপথ ও প্রদর্শন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
  2. প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে পুরানো মাল্টিমিডিয়া মাধ্যম কোনটি?

    1. ক

      টেলিভিশন

    2. খ

      রেডিও

    3. গ

      কম্পিউটার

    4. ঘ

      সিনেমা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) সিনেমা

    1. এনসিটিবি পাঠ্যবই অনুসারে, প্রায় ১০০ বছর পূর্বে উদ্ভাবিত সিনেমা বা চলচ্চিত্রই হলো প্রকৃতপক্ষে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে পুরানো মাল্টিমিডিয়া মাধ্যম, যেখানে চলমান চিত্র ও শব্দের সমন্বয় ঘটেছিল।
    2. টেলিভিশন বা কম্পিউটার আধুনিক যুগে মাল্টিমিডিয়া হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও সিনেমা এগুলোর বহু পূর্বে তৈরি হয়েছিল।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো