পড়ার নোট
মানুষ আদিকাল থেকেই নিজেকে প্রকাশ করতে নানা মাধ্যম (মিডিয়া) ব্যবহার করছে। লেখা একটি মাধ্যম, শব্দ একটি মাধ্যম, ছবিও একটি মাধ্যম। যখন অনেকগুলো প্রকাশ মাধ্যমকে একসঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে মাল্টিমিডিয়া বলে। সহজ কথায়, মাল্টিমিডিয়া মানে বহু মাধ্যম।
আমরা অন্তত তিনটি মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের প্রকাশ করি: বর্ণ, চিত্র ও শব্দ। এগুলো কখনো আলাদাভাবে, কখনো একসঙ্গে আমাদের সামনে আসে। কাগজের প্রকাশনা, রেডিয়ো, টেলিভিশন, ভিডিও, সিনেমা, ভিডিয়োগেমস, শিক্ষামূলক সফটওয়্যার, ওয়েবপেজ এসবের মধ্য দিয়েই আমরা এগুলো চিনি। তবে এদের সবগুলোকে মাল্টিমিডিয়া বলা ঠিক নয়। টেলিভিশন, ভিডিও ও সিনেমাকে মাল্টিমিডিয়া বলা যায়।
অ্যানালগ ও ডিজিটাল যুগ: আগে মিডিয়াগুলো আলাদা আলাদাভাবে ব্যবহার হতো। ডিজিটাল যুগে সেগুলো একসঙ্গে মিলেছে, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল যন্ত্রের প্রোগ্রামিং করার ক্ষমতা।
ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া: বহুমাধ্যমের সঙ্গে প্রোগ্রামিংয়ের ক্ষমতা যুক্ত হওয়ায় যে মাল্টিমিডিয়ায় ব্যবহারকারী নিজে যোগাযোগ বা মিথস্ক্রিয়া করতে পারে, তাকে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া বলে। ভিডিয়োগেমস, শিক্ষামূলক সফটওয়্যার ও ওয়েবপেজ এর উদাহরণ।
মাল্টিমিডিয়া সাধারণত ডিজিটাল যন্ত্রের সাহায্যে ধারণ ও পরিচালনা করা হয় এবং সরাসরি মঞ্চে বা অন্যভাবে প্রদর্শিত হতে পারে। ১৮৯৫ সালে সিনেমার উদ্ভবের পর তাতে বর্ণ, চিত্র, শব্দ ও গতি যুক্ত হয়, তাই সিনেমাকে মাল্টিমিডিয়ার পূর্বপুরুষ বলা হয়।
একটি উদাহরণ: বিজ্ঞান ক্লাসে নদীভাঙন নিয়ে একটি ভিডিওতে চলমান ছবি, ধারাবর্ণনার শব্দ এবং পর্দায় লেখা ক্যাপশন একসঙ্গে আসে; এটি মাল্টিমিডিয়া। কিন্তু দর্শক এখানে শুধু দেখে, কিছু বদলাতে পারে না। একই বিষয়ে একটি শিক্ষামূলক সফটওয়্যারে শিক্ষার্থী নিজে বোতাম চেপে নদীর পানির স্রোত বাড়ালে বা কমালে কী হয় দেখতে পারলে সেটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া।
সাধারণ ভুল হলো সব মাল্টিমিডিয়াকে ইন্টারঅ্যাকটিভ ভাবা। টেলিভিশন বা সিনেমা মাল্টিমিডিয়া হলেও এতে ব্যবহারকারীর মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ নেই।
মনে রাখো: একাধিক মাধ্যমের (বর্ণ, চিত্র, শব্দ) সমন্বয়ই মাল্টিমিডিয়া; ব্যবহারকারী যেখানে সাড়া দিতে পারে সেটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।