পড়ার নোট
তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদনে দুই ভাবে নতুন যুগ এনেছে: বিনোদন গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এবং বিনোদনের বিষয়গুলোতে পরিবর্তন।
বিনোদন গ্রহণের নতুন উপায়। আগে বিনোদনের জন্য বাইরে যেতে হতো: সিনেমা দেখতে সিনেমা হলে, ফুটবল খেলা দেখতে মাঠে, গান শুনতে অনুষ্ঠানে। প্রথমে রেডিও, তারপর টেলিভিশন, পরে কম্পিউটার এবং সবশেষ ইন্টারনেট এসেছে। এখন ঘরে বসেই সব সম্ভব। কম্পিউটারে শক্তিশালী প্রসেসর ও বিপুল স্টোরেজ থাকায় তা লেখা বা গণনার পাশাপাশি বিনোদনেও ব্যবহৃত হয়; এমনকি গান তৈরি, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও ছবি সম্পাদনাও করা যায়। সংগীতকে ডিজিটাল রূপ দেওয়ায় (যেমন MP3) কম্পিউটারে গান শোনা যায়। সিডি রম বা ডিভিডিতে বিপুল তথ্য রাখা যায় বলে সিনেমা হলে না গিয়ে ঘরে বসে চলচ্চিত্র দেখা এখন সাধারণ বিষয়। ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহারের পর দ্রুতগতির ইন্টারনেটে সরাসরি গান ও চলচ্চিত্র উপভোগ করা যায়। রেডিয়ো ও টেলিভিশন চ্যানেলও ইন্টারনেটে শোনা-দেখা যায়, অনেক সময় রেকর্ড করা থাকে, তাই যখন ইচ্ছা তখনই দেখা যায়।
নতুন ধরনের বিনোদন।
- কম্পিউটার গেম এখন বিশাল শিল্প। ছোটো শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে রুচি অনুযায়ী আনন্দ দেয়; অন্যের সঙ্গে, কম্পিউটারের সঙ্গে বা নেটওয়ার্কে দূরের কারও সঙ্গে খেলা যায়।
- অ্যানিমেশন বা কার্টুন তৈরি আগে খুব কঠিন ছিল, শক্তিশালী কম্পিউটারে এখন সহজ।
- সত্যিকারের অভিনেতা ছাড়াই গ্রাফিক্সনির্ভর চলচ্চিত্রে ডিজিটাল অভিনেতা-অভিনেত্রী, কল্পিত ডাইনোসর বা এলিয়েন তৈরি করা যায়।
সতর্কতা: কম্পিউটার গেমের প্রতি তীব্র টান আসক্তিতে রূপ নিতে পারে, তাই পরিমিত ব্যবহার করতে হয়।
মনে রাখো: আইসিটি ঘরে বসে ইচ্ছামতো বিনোদন এনে দিয়েছে এবং গেম, অ্যানিমেশনের মতো নতুন বিনোদন সৃষ্টি করেছে, তবে ব্যবহারে সংযম দরকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।