পড়ার নোট
অন্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ দেরিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশ শুরু করেছে, তাই কিছু ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে। কিন্তু কোনো জাতি কোনো এক সময় কোনো প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকলে সবসময় পিছিয়ে থাকে না; সে অন্যদের টপকে যেতে পারে। বাংলাদেশ সে চেষ্টাই করছে।
বর্তমান অবস্থান:
- আইটিইউ-এর ২০২৪ সালের আইসিটি উন্নয়ন সূচকে (IDI) বাংলাদেশের স্কোর ১০০-তে ৬২, যা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর গড় ৬৪.৮ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় ৭৭.৩ থেকে কম। মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও ভুটান এগিয়ে।
- জাতিসংঘের ২০২৪ সালের ই-গভর্নমেন্ট উন্নয়ন সূচকে (EGDI), যেখানে ইন্টারনেট অবকাঠামো, অনলাইন সেবা, টেলিযোগাযোগ ও মানুষের আইসিটি ব্যবহারের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়, বাংলাদেশের অবস্থান ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১০০তম।
যা গড়ে উঠেছে:
- সারা দেশে ফাইবার অপটিক সংযোগ এবং সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট
- এখন প্রায় প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ফোন আছে
- ইউনিয়ন পর্যায়ের তথ্যসেবা কেন্দ্র (ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার), জেলা ও জাতীয় তথ্য কোষ, এবং মোবাইল মানি লেনদেনের ই-সেন্টারে রূপান্তরিত ডাকঘর
- ভর্তি পরীক্ষার নিবন্ধন, পরীক্ষার ফল ও ট্রেনের টিকিট মোবাইল ফোনে
- স্কুল-কলেজে আইসিটি পাঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স; তরুণরা সফটওয়্যার কোম্পানিতে যোগ দিচ্ছে, নিজেরা প্রতিষ্ঠান গড়ছে এবং আউটসোর্সিংয়ে আয় করছে
২০১৮ সালের ১২ মে বাংলাদেশ ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইট 'বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১' মহাকাশে উৎক্ষেপণ করেছে। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিভিশন ও জাতীয় নিরাপত্তায় কাজে লাগবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ছড়াতে সহজ করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আয়ে সাহায্য করবে।
মনে রাখো: ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে; অবকাঠামো ও স্যাটেলাইট আছে, তবে আইসিটি ব্যবহারে আরও অনেক কাজ বাকি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।