পড়ার নোট
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রেও আইসিটির বহুমুখী ব্যবহার ও প্রভাব দেখা যায়, এবং তা ক্রমশ বাড়ছে। প্রভাব দুই রকম।
১. বিদ্যমান কাজে আইসিটি: প্রচলিত কর্মক্ষেত্র ও পুরনো ব্যবসায় আইসিটি আসায় কর্মীদের দক্ষতা বেড়েছে এবং বাজার বড়ো হয়েছে। পেশাজীবীদের দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়েছে, সেবার মানও বেড়েছে। যেকোনো চাকরির জন্য আইসিটি দক্ষতা এখন প্রাথমিক যোগ্যতা। ব্যাংক, বিমা, বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি খাতের কর্মীদের জানতে হয়:
- ওয়ার্ড প্রসেসিং ও প্রেজেন্টেশন সফটওয়্যার
- ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও ই-মেইল ব্যবস্থাপনা
- বিশ্লেষণধর্মী সফটওয়্যার
- নিজ কাজের নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, যেমন ব্যাংকিং সফটওয়্যার
২. আইসিটি নিজেই নতুন কাজ সৃষ্টি করেছে: হার্ডওয়্যার তৈরি, সফটওয়্যার ও ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদিতে বড়ো কর্মবাজার তৈরি হয়েছে। দক্ষ মানুষ দেশে-বিদেশে কাজ করতে পারেন বা নিজের আইসিটি প্রতিষ্ঠান গড়তে পারেন। বছরের পর বছর বাংলাদেশে আইসিটি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে।
বড়ো একটি অংশের কাজ ঘরে বসেই করা যায়। অনেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে, যেমন বিদেশি ক্লায়েন্টের জন্য ফ্রিল্যান্সিং করে, দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। তাই আইসিটি দক্ষতা থাকলে তরুণরা দেশে, বিদেশে বা নিজ উদ্যোগে কাজ পেতে পারে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কেন বাড়ে, তা একটি উদাহরণে বোঝা যায়। জেলা শহরের কোনো ব্যাংকে আগে হিসাব হাতে লেখা খাতায় রাখা হলে ভুল খুঁজে পেতে সময় লাগত। ব্যাংকিং সফটওয়্যারে প্রতিটি লেনদেনের রেকর্ড থাকে, কে কখন কোন কাজ করেছেন তা দেখা যায় এবং গ্রাহক দ্রুত সেবা পান। আবার গ্রামের একজন তরুণ গ্রাফিক ডিজাইন শিখে ঘরে বসে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাজ করে আয় করতে পারেন; এটি আইসিটির তৈরি নতুন কাজের উদাহরণ।
সাধারণ ভুল হলো মনে করা যে আইসিটি শুধু প্রোগ্রামার বা কম্পিউটার বিশেষজ্ঞদের জন্য চাকরি তৈরি করে। আসলে ব্যাংক, বিমা বা সরকারি অফিসের মতো প্রচলিত কর্মক্ষেত্রের প্রায় সব কর্মীকেই এখন আইসিটি ব্যবহার করতে জানতে হয়।
মনে রাখো: আইসিটি বিদ্যমান কাজের মান বাড়ায় এবং নতুন কাজ সৃষ্টি করে; প্রায় সব চাকরিতেই আইসিটি দক্ষতা এখন প্রাথমিক চাহিদা।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।