offSchoolবেটা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি · অধ্যায় ১ · টপিক ৫

ই-সার্ভিস ও বাংলাদেশ

পড়ার নোট

সরকারি ও বেসরকারি অনেক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জনগণকে সেবা দেয়, যেমন যাতায়াত বা জমির দলিলের নকল সরবরাহ। ডিজিটাল পদ্ধতির আগে সেবাগ্রহীতাকে সেবাদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হতো। এখন নিজ বাড়িতে বসে মোবাইল ফোনে বা ইন্টারনেটে সেবা নেওয়া যায়। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সেবা দেওয়াকে বলে ই-সার্ভিস বা ই-সেবা। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প খরচ, স্বল্প সময় এবং হয়রানিমুক্ত সেবা। সরকারের অনেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরে ই-সেবা চালু হয়েছে।

উদাহরণ: পাঠ্যপুস্তকের ডিজিটাল সংস্করণ, ই-পূর্জি, ই-পর্চা, ই-টিকিট, টেলিমেডিসিন, অনলাইন আয়কর হিসাব করার ক্যালকুলেটর ইত্যাদি।

  • ই-পূর্জি: ১৫টি চিনিকলের আখচাষিরা এসএমএসে জানতে পারেন কখন আখ সরবরাহ করতে হবে। পূর্জি হলো নির্দিষ্ট সময়ে আখ দেওয়ার অনুমতিপত্র। চাষিদের হয়রানি কমেছে, চিনিকলের উৎপাদনও বেড়েছে।
  • ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম (ই-এমটিএস): ডাক বিভাগের মাধ্যমে নিরাপদে, দ্রুত ও কম খরচে টাকা পাঠানো যায়। ১ মিনিটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠানো যায়, প্রায় সব ডাকঘরে এ সেবা আছে।
  • ই-পর্চা সেবা: আগে কর্মচারীরা বড়ো রেকর্ড বই থেকে হাতে লিখে পর্চা দিতেন। এখন দেশ-বিদেশ থেকে ফি জমা দিয়ে অনলাইনে জমির রেকর্ডের নকল পাওয়া যায়।
  • ই-স্বাস্থ্যসেবা: সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা মোবাইল ফোনে পরামর্শ দেন, তাই প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে একটি মোবাইল ফোন আছে। টেলিমেডিসিনে উপজেলার রোগী জেলা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পান।
  • রেলওয়ের ই-টিকিটিং ও মোবাইল টিকিটিং: আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট মোবাইল ফোনে বা অনলাইনে কেনা যায়, কমলাপুরে লাইনে দাঁড়াতে হয় না; ট্রেন ছাড়ার অল্প আগে স্টেশনে অনলাইন কপি দেখালেই চলে।

মনে রাখো: ই-সার্ভিস মানে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটে কম খরচে, কম সময়ে, হয়রানি ছাড়া সেবা পাওয়া।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়াচালিয়ে দেখো

    নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীম নীলক্ষেতের একটি বইয়ের দোকান থেকে ৫০০ টাকার আইসিটি (ICT) সহায়ক বই কিনল। হাতে নগদ অর্থ না থাকায় সে তার মোবাইল ফোনে বিকাশ বা নগদ-এর মাধ্যমে বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ (merchant payment) করতে গেল। শামীম মার্চেন্ট নম্বর ও টাকার পরিমাণ (৫০০ টাকা) লিখে তার ৫ অঙ্কের (digit) গোপন পিন (PIN) চেপে সেন্ড (Send) বোতামে চাপ দিল। মাত্র ৩ s-এর মধ্যে শামীম ও দোকানদার উভয়ের ফোনেই ট্রানজ্যাকশন আইডি (TrxID) সহ নিশ্চিতকরণ এসএমএস (SMS) চলে এলো। ফোন, সার্ভার, ব্যাংক ও মার্চেন্টের এই পুরো লেনদেন শৃঙ্খলে শামীমের দেওয়া গোপন পিনটি আসলে কোথায় সংরক্ষিত তথ্যের সাথে মিলিয়ে যাচাই করা হয়েছে?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. বাংলাদেশের একজন গ্রাহক দোকানে কেনাকাটার পর মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) সেবার মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করার সময় ৫ অঙ্কের গোপন পিন (PIN) চাপলেন। লেনদেনের নিরাপত্তায় গ্রাহকের এই পিন নম্বরটি প্রকৃতপক্ষে কোথায় সংরক্ষিত তথ্যের সাথে যাচাই করা হয়?

    1. ক

      গ্রাহকের মোবাইল ফোনের সিমকার্ডে

    2. খ

      মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির কেন্দ্রীয় সুরক্ষিত সার্ভারে

    3. গ

      দোকানদারের (মার্চেন্টের) পিওএস (POS) মেশিনে

    4. ঘ

      গ্রাহকের এলাকার নিকটস্থ মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ারে

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির কেন্দ্রীয় সুরক্ষিত সার্ভারে

    1. মোবাইল ফোন বা সিমকার্ড কখনোই গ্রাহকের গোপন পিন (PIN) সংরক্ষণ করে রাখে না বা স্থানীয়ভাবে পিন সঠিক কি না তা পরীক্ষা করে না।
    2. গ্রাহকের প্রবেশকৃত পিনটি টিএলএস (TLS) ক্রিপ্টোগ্রাফিতে এনক্রিপ্ট হয়ে মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির কেন্দ্রীয় ক্লাউড সার্ভারে যায় এবং সেখানে সুরক্ষিত ডেটাবেজের সাথে মিলিয়ে লেনদেন অনুমোদন করা হয়।
  2. বাংলাদেশের চিনি শিল্পের আখচাষিদের হয়রানি বন্ধে এবং চিনিকলে সময়মতো আখ সরবরাহের অনুমোদনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে সরকারের চালুকৃত সফল ই-সার্ভিস কোনটি?

    1. ক

      ই-পর্চা সেবা

    2. খ

      ই-পুর্জি সেবা

    3. গ

      ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম

    4. ঘ

      জাতীয় ই-তথ্যকোষ

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ই-পুর্জি সেবা

    1. পূর্বে চিনিকলে আখ সরবরাহের জন্য কৃষকদের মিলের কার্যালয় থেকে সরাসরি কাগজের পুর্জি নিতে হতো, যার ফলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগী ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগে পড়তেন।
    2. তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দেশের চিনিকলগুলোতে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ডিজিটাল ই-পুর্জি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় কৃষকরা সঠিক সময়ে সরবরাহের নোটিশ পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।
  3. পটুয়াখালীর একটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (UDC) স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৯০ megabyte (MB) আকারের একটি মাল্টিমিডিয়া ই-লার্নিং পাঠ ডাউনলোড করা হচ্ছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ডাউনলোড গতি অবিচ্ছিন্নভাবে ১.৫ MB/s (megabyte per second) বজায় থাকলে সম্পূর্ণ ফাইলটি ডাউনলোড হতে কত সেকেন্ড (s) সময় লাগবে? (সূত্র: সময় = ফাইলের আকার ÷ ডাউনলোডের গতি)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৬০ s

    1. ডাউনলোডের প্রয়োজনীয় সময় হিসাবের সূত্র: t=ফাইলের আকারডাউনলোডের গতিt = \frac{\text{ফাইলের আকার}}{\text{ডাউনলোডের গতি}}।
    t=File sizeDownload speedt = \frac{\text{File size}}{\text{Download speed}}
    1. মান বসিয়ে পাই: t=৯০ MB১.৫ MB/s=৬০ st = \frac{৯০\text{ MB}}{১.৫\text{ MB/s}} = ৬০\text{ s}।
    t=90 MB1.5 MB/s=60 st = \frac{90\text{ MB}}{1.5\text{ MB/s}} = 60\text{ s}

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো