সুশাসনের জন্য দরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। শাসনব্যবস্থা ও প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল পদ্ধতির প্রয়োগই হলো ই-গভর্ন্যান্স। এতে সরকারি ব্যবস্থা আধুনিক হয়, নাগরিকের হয়রানি কমে এবং সেবা দ্রুত পাওয়া যায়।
উদাহরণ:
পরীক্ষার ফল: মাত্র দুই দশক আগেও এসএসসি বা এইচএসসির ফল প্রকাশের সাত দিন পরেও অনেকে জানতে পারত না। এখন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে ও এসএমএসে জানা যায়।
ভর্তির আবেদন: আগে যশোরের একজন শিক্ষার্থীকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে সিলেটে যেতে হতো। এখন মোবাইল ফোনেই আবেদন করা যায়।
জেলা ই-সেবা কেন্দ্র: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এটি চালু আছে। আগে যে সেবা পেতে ২/৩ সপ্তাহ লাগত, এখন ২-৫ দিনেই পাওয়া যায়; সিদ্ধান্ত নিতে সময় কম লাগে, দলিল ও পর্চার নকল দেওয়ার দক্ষতাও বেড়েছে।
বিল পরিশোধ: বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল লাইনে দাঁড়িয়ে দিতে পুরো দিন লেগে যেত। এখন মোবাইল ফোন বা অনলাইনে দেওয়া যায়।
২৪ ঘণ্টা সেবা: ATM, Mobile ব্যাংকিং, তথ্য সেবা ইত্যাদি সারাক্ষণ পাওয়া যায়, নাগরিক সুবিধামতো সময়ে সেবা নিতে পারে।
সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ বাড়ে, কর্মীদের দক্ষতা বাড়ে, ফলে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্স চালু হয়েছে বেশ কয়েক বছর, তবে সব ক্ষেত্রে এখনো হয়নি; সব ক্ষেত্রে হলে দেশ সুশাসনের পথে অনেক এগিয়ে যাবে।
মনে রাখো: ই-গভর্ন্যান্স মানে সরকারি কাজে ডিজিটাল পদ্ধতি, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনে এবং নাগরিককে হয়রানিমুক্ত রাখে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।
অনুশীলনের প্রশ্ন
১
বাংলাদেশের চিনি শিল্পের আখচাষিদের হয়রানি বন্ধে এবং চিনিকলে সময়মতো আখ সরবরাহের অনুমোদনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে সরকারের চালুকৃত সফল ই-সার্ভিস কোনটি?
ক
ই-পর্চা সেবা
খ
ই-পুর্জি সেবা
গ
ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম
ঘ
জাতীয় ই-তথ্যকোষ
উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
খ) ই-পুর্জি সেবা
পূর্বে চিনিকলে আখ সরবরাহের জন্য কৃষকদের মিলের কার্যালয় থেকে সরাসরি কাগজের পুর্জি নিতে হতো, যার ফলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগী ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে দুর্ভোগে পড়তেন।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে দেশের চিনিকলগুলোতে এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ডিজিটাল ই-পুর্জি ব্যবস্থা চালু হওয়ায় কৃষকরা সঠিক সময়ে সরবরাহের নোটিশ পান এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।
২
নাটোরের নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের ই-পুর্জি (e-Purjee) সেবার আওতায় নিবন্ধিত ১,২০০ জন আখচাষিকে মোবাইল ফোনে সরবরাহ অনুমোদনের ডিজিটাল বার্তা পাঠানো হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় এসএমএস (SMS) গেটওয়েটি প্রতি সেকেন্ডে ২৫টি বার্তা (২৫ SMS/s) প্রেরণ করতে পারে। সকল চাষির কাছে বার্তা পাঠাতে মোট কত সেকেন্ড (s) সময় লাগবে? (সূত্র: মোট সময় = মোট বার্তার সংখ্যা ÷ প্রতি সেকেন্ডে প্রেরিত বার্তা)
উত্তর ও ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর:
৪৮ s
মোট সময় হিসাবের সূত্র: t=প্রতিসেকেন্ডেপ্রেরিতবার্তামোটবার্তারসংখ্যা।
t=rN
মান বসিয়ে পাই: t=২৫ s−১১,২০০=৪৮ s।
t=251200=48 s
এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?
মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।