পড়ার নোট
ঘনবস্তু হলো এমন বস্তু যা সমতল বা বক্রতল দিয়ে ঘেরা এবং কিছু জায়গা দখল করে। বই, ইট, বাক্স, ক্রিকেট বল সবই ঘনবস্তু। যেগুলোর আকার নিয়মিত তাদের বলে সুষম ঘনবস্তু, আর পাথরের টুকরো বা কয়লার খণ্ডের মতো অনিয়মিতগুলো বিষম ঘনবস্তু।
মাত্রা: দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার প্রত্যেকটি একটি মাত্রা।
- বিন্দু-র কোনো মাত্রা নেই, তাই এটি শূন্য-মাত্রিক।
- রেখা-র শুধু দৈর্ঘ্য আছে, তাই এক-মাত্রিক।
- তল-এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আছে, তাই দ্বি-মাত্রিক।
- ঘনবস্তুর তিনটিই আছে, তাই ত্রি-মাত্রিক।
সমতল: কোনো তলের যেকোনো দুই বিন্দুর সংযোগকারী সরলরেখা পুরোপুরি ঐ তলে থাকলে তলটি সমতল। শান্ত পুকুরের পানির উপরিতল এর ভালো উদাহরণ। যে তলে এমন হয় না তা বক্রতল, যেমন গোলকের তল।
কিছু প্রয়োজনীয় সংজ্ঞা
- একই সমতলে থাকা রেখাগুলো সমতলীয়। যে রেখাগুলো একই তলে থাকে না তারা নৈকতলীয়। দুটি পেন্সিল ক্রস করে বাঁধলে নৈকতলীয় রেখা পাওয়া যায়।
- একই তলের দুটি রেখা ছেদ না করলে সমান্তরাল। দুটি তল বা একটি রেখা ও একটি তল পরস্পরকে ছেদ না করলেও সমান্তরাল।
- রেখা কোনো তলের সব রেখার সঙ্গে লম্ব হলে তা তলের উপর লম্ব। লম্বও নয়, সমান্তরালও নয়, এমন রেখা তির্যক।
- ঝুলন্ত ওলনের সমান্তরাল রেখা বা তল খাড়া; খাড়া রেখার সঙ্গে লম্ব তল অনুভূমিক।
- দুটি তল যে রেখায় ছেদ করে তা ধার। ইট বা বাক্সের ৬টি তল ও ১২টি ধার থাকে।
সম্পর্ক: একটি রেখা ও তলের দুটি সাধারণ বিন্দু থাকলে পুরো রেখাই ঐ তলে থাকে। রেখা তলকে ছেদ করলে সাধারণ বিন্দু মাত্র একটি। দুটি তল ছেদ করলে তারা একটি সরলরেখায় মেলে।
প্রতীকীয় চিত্র: কাগজে ঘনবস্তু আঁকতে সামনের ধারগুলো পূর্ণ রেখায় এবং আড়ালের ধারগুলো ড্যাশ রেখায় দেখানো হয়। সমান্তরাল ধারগুলো সমান্তরাল করে আঁকলে আকারটি স্পষ্ট হয়।
মনে রাখো: বিন্দু, রেখা, তল ও ঘনবস্তুর মাত্রা যথাক্রমে ০, ১, ২ ও ৩; আর ঘনবস্তুর আড়ালের ধার ড্যাশ রেখায় আঁকতে হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।