পড়ার নোট
pH দিয়ে বোঝা যায় কোনো দ্রবণ অম্লীয়, নিরপেক্ষ না ক্ষারীয়। pH 7 এর কম হলে অম্লীয়, 7 হলে নিরপেক্ষ এবং 7 এর বেশি হলে ক্ষারীয়। pH যত কম, আয়নের ঘনমাত্রা তত বেশি; pH এক একক কমলে এর ঘনমাত্রা 10 গুণ বাড়ে।
ত্বকের pH
আমাদের ত্বকের pH সাধারণত 4.8 থেকে 5.5 এর মধ্যে, অর্থাৎ ত্বক সামান্য অম্লীয়। ত্বকের এই অম্লীয় প্রকৃতি জীবাণুর আক্রমণ ও জন্মানো প্রতিরোধ করে। ত্বক ও চুল পরিষ্কার রাখতে এবং ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমরা সাবান, ক্রিম, শ্যাম্পুর মতো প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহার করি।
প্রসাধন সামগ্রীর উপযোগিতা
কোনো প্রসাধন সামগ্রীর pH যদি ত্বকের pH (4.8–5.5) এর চেয়ে বেশি হয়, তবে তা ব্যবহারে ত্বকের অম্লীয়তা কমে যায়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং জীবাণুর আক্রমণ বাড়ে। তাই প্রসাধন সামগ্রীর pH ত্বকের pH এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার। সাবান তৈরি হয় তেল বা চর্বির সাথে ক্ষারের বিক্রিয়ায়, তাই সাবানের pH সাধারণত 7 এর বেশি। আবার সাবানে ক্ষার বেশি থাকলে তা দেহের জন্য ক্ষতিকর; অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে ক্ষার হাতের ক্ষতি করে।
pH পেপার বা সার্বজনীন নির্দেশক দিয়ে ঘরেই কোনো প্রসাধনীর pH মোটামুটি বের করা যায়: সামান্য নমুনা পানিতে গুলে তাতে pH পেপার ভেজালে যে রং হয়, তা রঙের চার্টের সাথে মিলিয়ে pH পড়া যায়।
উদাহরণ: একটি ফেসওয়াশের pH 5.5 এবং একটি কাপড় কাচা সাবানের pH 10। কোনটি মুখে ব্যবহারের উপযোগী? ফেসওয়াশের pH ত্বকের pH সীমার (4.8–5.5) মধ্যে, তাই এটি উপযোগী। কাপড় কাচা সাবানের pH 10, যা ত্বকের চেয়ে একক বেশি ক্ষারীয়; এটি ত্বকের অম্লীয়তা কমিয়ে দেবে, তাই মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে যে প্রসাধনীতে বেশি ফেনা হয় সেটিই ত্বকের জন্য ভালো। উপযোগিতা নির্ভর করে pH ত্বকের সাথে মেলে কি না তার উপর।
মনে রাখো: ত্বকের pH 4.8–5.5, অর্থাৎ সামান্য অম্লীয়; প্রসাধন সামগ্রীর pH এর সাথে মিলে গেলে ত্বক সুরক্ষিত থাকে, আর বেশি ক্ষারীয় হলে ত্বকের ক্ষতি ও জীবাণুর আক্রমণ বাড়ে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।