পড়ার নোট
খাদ্যলবণ ()
সমুদ্রের পানিতে প্রচুর সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং অল্প পরিমাণে এর মতো অন্যান্য লবণ দ্রবীভূত থাকে; মাটির নিচেও খনিজ হিসেবে NaCl পাওয়া যায়। আমাদের দেশে লবণ আসে সমুদ্রের পানি থেকে। উপকূলের লবণচাষিরা জমির চারপাশে বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি আটকে রাখেন; সূর্যের তাপে পানি বাষ্পীভূত হলে লবণ জমে। একে লবণ চাষ বলে।
এ লবণে বালি মিশে থাকে। বিশুদ্ধকরণে লবণকে পানিতে গুলে ছেঁকে বালি আলাদা করা হয়, তারপর দ্রবণে তাপ দিয়ে পানি বাষ্পীভূত করলে বিশুদ্ধ লবণ পাওয়া যায়। ব্যবহার: তরকারির স্বাদ, শিল্পে NaOH তৈরি, এবং ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতায় স্যালাইন তৈরি; দেহে এর ঘাটতি NaCl ও পানি খেয়ে পূরণ হয়।
খাবার সোডা ও বেকিং পাউডার
খাবার সোডা বা বেকিং সোডা হলো সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট ()। NaCl এর সম্পৃক্ত দ্রবণে প্রথমে , পরে চালনা করে এটি তৈরি হয়:
;
খাবার সোডার সাথে টারটারিক এসিড () মেশালে হয় বেকিং পাউডার, যা কেক ফোলাতে ব্যবহৃত হয়।
ভিনেগার
ইথানয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিডের 4%–10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 25°C–35°C তাপমাত্রায় স্টিলের পাত্রে ইথানল ও অ্যাসিটোব্যাক্টরের মধ্যে অক্সিজেন চালনা করে এটি তৈরি হয়: । আচারে ভিনেগার দিলে এর এসিডের অম্লীয় পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া খাবার পচাতে পারে না, তাই আচার অনেক দিন ভালো থাকে।
কোমল পানীয়
ঠান্ডা তাপমাত্রা ও উচ্চ চাপে পানিতে দ্রবীভূত করে কোমল পানীয় তৈরি হয়; এতে ও পানি মিলে কার্বনিক এসিড () তৈরি করে। অনেকে হজমের জন্য কোমল পানীয় পান করেন, কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
উদাহরণ: 200 g একটি দ্রবণে 10 g ইথানয়িক এসিড আছে। শতকরা পরিমাণ , যা 4%–10% এর মধ্যে, তাই দ্রবণটি ভিনেগার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
মনে রাখো: লবণ আসে সমুদ্রের পানি থেকে, খাবার সোডা , বেকিং পাউডার হলো খাবার সোডা ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণ, আর ভিনেগার 4%–10% ইথানয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।