পড়ার নোট
পৃথিবীতে প্রতিটি মৌলের পরিমাণ নির্দিষ্ট। ধাতব জিনিস ব্যবহারের পর ফেলে না দিয়ে সেগুলো ঐ ধাতু তৈরির কারখানায় পাঠানো হয়, আর সেখানে বাতিল ধাতু থেকে আবার ব্যবহারযোগ্য ধাতু তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়াকে ধাতুর পুনঃচক্রায়ণ বা পুনঃব্যবহার বলে।
উদাহরণ
- বাতিল অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিল অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় পাঠিয়ে নতুন অ্যালুমিনিয়াম তৈরি হয়।
- বাতিল লোহা স্টিল মিলে পাঠিয়ে আবার লোহা ও স্টিল তৈরি হয়।
- আমেরিকায় ব্যবহৃত মোট কপারের 21% পুনঃচক্রায়িত কপার, আর ইউরোপে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের 60% পুনঃচক্রায়িত।
আমাদের দেশেও ভাঙারি দোকানে পুরোনো লোহা, তামা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়াম কেনাবেচা হয়, এবং সেগুলো গলিয়ে নতুন জিনিস বানানো হয়।
কেন পুনঃচক্রায়ণ জরুরি
- সসীম সম্পদ রক্ষা: খনিজের পরিমাণ সীমিত; পুরোনো ধাতু আবার ব্যবহার করলে নতুন আকরিক কম লাগে, তাই খনিজ বেশি দিন টেকে।
- কম নিষ্কাশন: আকরিক চূর্ণ, ঘনীকরণ, তাপজারণ, বিজারণ ও বিশোধনের অনেকগুলো ধাপ এড়ানো যায়।
- পরিবেশ রক্ষা: কম খনন ও কম নিষ্কাশনে দূষণ কমে; যেমন সালফাইড আকরিকের তাপজারণে তৈরি এসিড বৃষ্টি ঘটায়, পুনঃচক্রায়ণে সে ধাপের প্রয়োজন কমে।
- বর্জ্য কমানো: বাতিল ধাতু ময়লার স্তূপে জমে না।
উদাহরণ: একটি কারখানা বছরে 1000 টন অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করে। ইউরোপের মতো 60% পুনঃচক্রায়িত হলে পুনঃচক্রায়িত অ্যালুমিনিয়াম টন, আর আকরিক থেকে নতুন করে নিষ্কাশন করতে হবে মাত্র টন। আবার 50 টন কপারের 21% পুনঃচক্রায়িত হলে তা টন।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে পুরোনো ধাতু শুধু বর্জ্য। বাতিল ধাতুও একটি মূল্যবান সম্পদ, যা থেকে আবার বিশুদ্ধ ধাতু পাওয়া যায়।
মনে রাখো: বাতিল ধাতু কারখানায় পাঠিয়ে নতুন ধাতু তৈরিই পুনঃচক্রায়ণ; এতে সসীম খনিজ সম্পদ বাঁচে, নিষ্কাশনের ধাপ ও দূষণ কমে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।