পড়ার নোট
সসীমতা
ধাতুর আকরিক এবং কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি তৈরি হয়েছে লক্ষ-কোটি বছরের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায়, ভূগর্ভের তাপ ও চাপে। মানুষ যে হারে এগুলো তুলছে, প্রকৃতি সে হারে নতুন করে তৈরি করতে পারে না। পৃথিবীতে প্রতিটি মৌলের পরিমাণ নির্দিষ্ট। তাই এসব সম্পদ সসীম: একবার ফুরিয়ে গেলে আর পাওয়া যাবে না।
আমাদের দেশের প্রাকৃতিক গ্যাস রান্না, যানবাহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর মজুদও সীমিত।
সসীম সম্পদ ব্যবহারের সমস্যা
- মজুদ দ্রুত কমে যাওয়া।
- খনন ও নিষ্কাশনে পরিবেশ দূষণ; যেমন সালফাইড আকরিকের তাপজারণ এবং সালফারযুক্ত কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পোড়ানোয় তৈরি হয়ে এসিড বৃষ্টি হয়।
সংরক্ষণের উপায়
- পুনঃচক্রায়ণ: বাতিল ধাতু ফেলে না দিয়ে কারখানায় পাঠিয়ে নতুন ধাতু তৈরি করা।
- পুনঃব্যবহার: জিনিস মেরামত করে বেশি দিন ব্যবহার করা।
- ক্ষয় রোধ: রং করা, তড়িৎ প্রলেপন ও গ্যালভানাইজিং করে লোহার জিনিসকে মরিচা থেকে বাঁচানো, যাতে ধাতু নষ্ট না হয়।
- সংকর ধাতু ব্যবহার: টেকসই সংকর ধাতু, যেমন স্টেইনলেস স্টিল, জিনিসের আয়ু বাড়ায়।
- জ্বালানির অপচয় রোধ: প্রয়োজন ছাড়া চুলা জ্বালিয়ে না রাখা, গ্যাসের লাইনের ছিদ্র মেরামত করা।
- বিকল্প ব্যবহার: সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা কমানো।
উদাহরণ: ধরা যাক কোনো সম্পদের মজুদ 120 একক এবং প্রতিবছর 6 একক ব্যবহার হয়। তাহলে মজুদ চলবে বছর। সাশ্রয়ী ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়ণে বার্ষিক ব্যবহার 4 এককে নামালে চলবে বছর, অর্থাৎ 10 বছর বেশি।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে মাটির নিচে খনিজ ও গ্যাস অফুরন্ত। এগুলো সসীম; সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঞ্চিত হবে।
মনে রাখো: ধাতুসম্পদ ও জীবাশ্ম জ্বালানি সসীম; পুনঃচক্রায়ণ, ক্ষয় রোধ, অপচয় কমানো ও বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।