পড়ার নোট
সালফারের উৎস ও আহরণ
সালফার হলুদ রঙের একটি অধাতব খনিজ; এর খনি থাকে মাটির অনেক গভীরে। একে ফ্রাশ পদ্ধতিতে তোলা হয়: একই কেন্দ্রবিশিষ্ট তিনটি নল (ফ্রাশ পাইপ) সালফারের স্তর পর্যন্ত ঢোকানো হয়। সালফার 115°C তাপমাত্রায় গলে, তাই বাইরের নল দিয়ে অতিতপ্ত পানি (বেশি চাপে 100°C–374°C এর পানি) পাঠিয়ে সালফার গলানো হয়। কেন্দ্রের নল দিয়ে 20–22 atm চাপে গরম বাতাস পাঠালে গলিত সালফার মাঝের নল দিয়ে উপরে উঠে আসে।
ব্যবহার: সালফিউরিক এসিড তৈরি; রাবারকে টেকসই করতে রাবারে সালফার মেশানো (ভালকানাইজিং); ব্যাকটেরিয়ানাশক সালফা ওষুধ তৈরি।
পরিবেশের উপর প্রভাব: সালফার পুড়ে তৈরি হয় সালফার ডাই-অক্সাইড: । এটি তীব্র গন্ধযুক্ত বিষাক্ত গ্যাস, চোখে জ্বালা করে। সালফারযুক্ত কয়লা বা পেট্রোলিয়াম পোড়ালে বাতাসে মেশে এবং বৃষ্টির পানির সাথে এসিড তৈরি করে (), যা এসিড বৃষ্টি হিসেবে মাটিতে নামে।
সালফিউরিক এসিড: সংস্পর্শ পদ্ধতি
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বলে সালফিউরিক এসিডকে রাসায়নিকের রাজা বলে। শিল্পে সংস্পর্শ পদ্ধতিতে তৈরি হয়:
- চুল্লিতে সালফার ও শুষ্ক বাতাস:
- 450°C–500°C তাপমাত্রায় ভ্যানাডিয়াম পেন্টাঅক্সাইড প্রভাবকে:
- সরাসরি পানিতে দিলে ঘন কুয়াশা তৈরি হয়, তাই প্রথমে গাঢ় এ শোষণ করে ওলিয়াম: ; তারপর পানি যোগ করে ।
রাসায়নিক ধর্ম
- এসিড ধর্ম: ক্ষারের সাথে লবণ ও পানি দেয়: ।
- জারণ ধর্ম (গাঢ় এসিড): ।
- পানি শোষণ ধর্ম (গাঢ় এসিড): চিনি থেকে পানি সরিয়ে কালো কার্বন রেখে দেয়: । লঘু এসিডে শেষ দুটি ধর্ম নেই।
শিল্পে গুরুত্ব: সার, বিভিন্ন রাসায়নিক, ইস্পাত শিল্প, রঞ্জক ও রং, প্লাস্টিক, সাবান ও ডিটারজেন্ট এবং ধাতব লবণ তৈরিতে।
উদাহরণ: একটি টেস্টটিউবে চিনিতে কয়েক ফোঁটা গাঢ় সালফিউরিক এসিড দিলে চিনি কালো হয়ে যায়। কারণ এসিড চিনির অণু থেকে পানি সরিয়ে নিয়ে কার্বন রেখে দেয়; এটি পানি শোষণ ধর্ম। সাবধানে করতে হবে, কারণ গাঢ় এসিড ক্ষয়কারী।
মনে রাখো: সালফার ফ্রাশ পদ্ধতিতে তোলা হয় এবং এর এসিড বৃষ্টি ঘটায়; সালফিউরিক এসিড সংস্পর্শ পদ্ধতিতে তৈরি হয় এবং এর এসিড, জারণ ও পানি শোষণ ধর্ম আছে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।