পড়ার নোট
আকরিক থেকে ধাতু পাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধাতু নিষ্কাশন বলে। ধাতুগুলোর ধর্ম আলাদা বলে সব ধাতুর জন্য একটি প্রক্রিয়া নেই। সোনা ও প্লাটিনামের মতো নিষ্ক্রিয় ধাতু কখনো মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়, কিন্তু বেশির ভাগ ধাতু থাকে অক্সাইড, সালফাইড, নাইট্রেট বা কার্বনেট যৌগ হিসেবে। নিষ্কাশনের সাধারণ ধাপগুলো:
১. আকরিক চূর্ণ করা: খনি থেকে তোলা বড় পাথর প্রথমে জো ক্রাশারে ছোট টুকরা, তারপর বল ক্রাশারে গুঁড়া করা হয়।
২. আকরিকের ঘনীকরণ: আকরিকে মিশে থাকা অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বা অপদ্রব্য আলাদা করা হয়।
- হাইড্রোলাইটিক পদ্ধতি: ভারী অক্সাইড আকরিক ঢালু টেবিলে থেকে যায়, হালকা অপদ্রব্য পানিতে ধুয়ে যায়।
- ফেনা ভাসমান পদ্ধতি: সালফাইড আকরিকের জন্য; পানি ও তেলের মিশ্রণে বাতাস দিলে আকরিক তেলে মিশে ফেনার সাথে ভেসে ওঠে, বালি নিচে থাকে।
- চৌম্বকীয় পৃথকীকরণ: আকরিক বা অপদ্রব্যের একটি চুম্বকে আকৃষ্ট হলে।
- রাসায়নিক পদ্ধতি: যেমন বক্সাইটকে NaOH এর সাথে বিক্রিয়া করিয়ে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড পাওয়া।
৩. অক্সাইডে রূপান্তর: ভস্মীকরণে বাতাসের অনুপস্থিতিতে গলনাঙ্কের নিচে তাপ দিয়ে পানি ও দূর করা হয়, যেমন । তাপজারণে সালফাইড আকরিককে বাতাসে তাপ দেওয়া হয়, যেমন ।
৪. অক্সাইড থেকে মুক্ত ধাতু: তড়িৎ বিশ্লেষণ, কার্বন বিজারণ বা স্ববিজারণ পদ্ধতিতে; কোনটি হবে তা সক্রিয়তা সিরিজে ধাতুর অবস্থান ঠিক করে।
৫. ধাতু বিশোধন: অপদ্রব্য ক্ষারীয় হলে অম্লীয় বিগালক () এবং অম্লীয় হলে ক্ষারীয় বিগালক যোগ করা হয়; বিগালক ও অপদ্রব্য মিলে ধাতুমল তৈরি করে, যা আলাদা করা হয়। আরও বিশুদ্ধ করতে তড়িৎ বিশ্লেষণে অবিশুদ্ধ ধাতুকে অ্যানোড আর বিশুদ্ধ ধাতুকে ক্যাথোড করা হয়; এতে 98% বিশুদ্ধ কপার থেকে 99.9% বিশুদ্ধ কপার পাওয়া যায়।
আকরিকের ধর্ম অনুযায়ী ধাপ বাছাই হয়; সব আকরিকে সব ধাপ লাগে না।
উদাহরণ: জিংক ব্লেন্ড () থেকে জিংক: চূর্ণ করা → ফেনা ভাসমান পদ্ধতিতে ঘনীকরণ (সালফাইড বলে) → তাপজারণে → কার্বন বিজারণ ।
মনে রাখো: ধাতু নিষ্কাশনের ধাপ চূর্ণন, ঘনীকরণ, অক্সাইডে রূপান্তর, বিজারণে মুক্ত ধাতু এবং বিশোধন; আকরিকের ধর্মই ঠিক করে কোন ধাপ লাগবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।