পড়ার নোট
শিলা
বিভিন্ন খনিজ পদার্থ মিশে শক্ত কণা তৈরি করে, আর এসব কণা একত্র হয়ে যে পদার্থ গঠন করে তাকে শিলা বলে। গঠনের ধরন অনুযায়ী শিলা তিন প্রকার:
- আগ্নেয় শিলা: আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া গলিত পদার্থের মিশ্রণ বা ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে কঠিন হলে তৈরি হয়; যেমন গ্রানাইট। আগ্নেয় শিলা থেকে অনেক মূল্যবান খনিজ পাওয়া যায়।
- পাললিক শিলা: বৃষ্টি, বাতাস, কুয়াশা ও ঝড়ে মাটির উপরের কাদা ও বালি ধুয়ে পলি হিসেবে জমা হয়, পরে স্তরে স্তরে জমে শিলা হয়; যেমন বেলেপাথর।
- রূপান্তরিত শিলা: আগ্নেয় বা পাললিক শিলা তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে নতুন ধরনের শিলা হয়।
মাটির নিচে শিলা স্তরে স্তরে সাজানো থাকে; অভিকর্ষজ বল, তাপমাত্রা ও চাপ এই স্তর গঠনে ভূমিকা রাখে।
খনিজ
মাটির উপরে ও নিচে যেসব পদার্থ থেকে প্রয়োজনীয় ধাতু ও অধাতু পাওয়া যায়, সেগুলোকে খনিজ বলে।
আকরিক
যে খনিজ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাকে আকরিক বলে। যেমন গ্যালেনা () থেকে লাভজনকভাবে লেড পাওয়া যায়, তাই গ্যালেনা লেডের আকরিক।
তিনটির সম্পর্ক
শিলা হলো বড় পরিসর, যার ভেতরে খনিজ থাকে; খনিজের মধ্যে যেগুলো থেকে লাভজনকভাবে ধাতু পাওয়া যায়, শুধু সেগুলোই আকরিক। তাই সব আকরিকই খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয়।
উদাহরণ: নেত্রকোনার বিজয়পুরের সাদা মাটি বা কেওলিনে অ্যালুমিনিয়াম আছে, তাই এটি অ্যালুমিনিয়ামের একটি খনিজ। কিন্তু এ থেকে লাভজনকভাবে অ্যালুমিনিয়াম নিষ্কাশন করা যায় না, তাই কেওলিন অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক নয়। অন্যদিকে গ্যালেনা লেডের খনিজও, আবার আকরিকও।
সাধারণ ভুল হলো যেকোনো ধাতুযুক্ত পাথরকে আকরিক বলা। কোনো খনিজ আকরিক কি না, তা নির্ভর করে তা থেকে ধাতু লাভজনকভাবে নিষ্কাশন করা যায় কি না তার উপর।
মনে রাখো: শিলা খনিজের সমষ্টি, খনিজ থেকে ধাতু বা অধাতু পাওয়া যায়, আর লাভজনকভাবে নিষ্কাশনযোগ্য খনিজই আকরিক; সব আকরিক খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।