পড়ার নোট
রসায়নে দুই ধরনের বিশ্লেষণ হয়: গুণগত বিশ্লেষণে মৌল ও তার ধর্ম শনাক্ত করা হয়, আর পরিমাণগত বিশ্লেষণে পদার্থের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। পরিমাণগত হিসাবকে একসাথে রাসায়নিক গণনা বলে, আর এর একক হলো মোল।
মোল ও অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা
যেকোনো পদার্থের যে পরিমাণে টি অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, তাকে ওই পদার্থের এক মোল বলে। এই সংখ্যাটিকে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা () বলে।
- 1 মোল পরমাণু টি পরমাণু
- 1 মোল অণু টি অণু
- 1 মোল আয়ন টি আয়ন
গ্রামে মোল
কোনো পদার্থের পারমাণবিক ভর বা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে পরিমাণ পাওয়া যায়, তা ওই পদার্থের এক মোল। অণুর আণবিক ভর হলো অণুতে থাকা সব পরমাণুর পারমাণবিক ভরের যোগফল।
| পদার্থ | আণবিক বা পারমাণবিক ভর | 1 মোলের ভর |
|---|---|---|
| C | 12 | 12 g |
| 18 g | ||
| 71 g | ||
| 58.5 g | ||
| 249.5 g |
অর্থাৎ 12 g কার্বনে যত পরমাণু, 18 g পানিতে তত অণু; দুটিই ।
উদাহরণ: একটি অণুর ভর কত? (C = 12, O = 16)
- এর আণবিক ভর , তাই 1 মোল g।
- 44 g এ অণু আছে টি।
- একটি অণুর ভর g।
ভর এত ক্ষুদ্র বলেই অণু আলাদা করে গোনা যায় না; মোল দিয়ে বিপুল সংখ্যক কণাকে একসাথে গোনা হয়।
সাধারণ ভুল হলো 1 মোল যেকোনো পদার্থের ভর সমান ভাবা। সব পদার্থের 1 মোলে কণার সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর আলাদা, কারণ আণবিক ভর আলাদা।
মনে রাখো: এক মোল পদার্থে টি (অ্যাভোগেড্রো সংখ্যা) কণা থাকে, আর গ্রাম এককে প্রকাশিত আণবিক বা পারমাণবিক ভরই ওই পদার্থের এক মোলের ভর।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।