পড়ার নোট
পরমাণুর মডেল হলো পরমাণুর ভেতরের গঠন ও ইলেকট্রনের আচরণ বোঝানোর একটি ধারণাগত বর্ণনা। পরমাণুর কোন অংশে ভর কেন্দ্রীভূত, ইলেকট্রন কোথায় থাকে এবং শক্তি গ্রহণ বা ত্যাগ করলে কী ঘটে—এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে মডেল ব্যবহার করা হয়। পরীক্ষার ফল ব্যাখ্যা করতে না পারলে মডেলের সংশোধন প্রয়োজন হয়।
ডেমোক্রিটাস ও পরে ডাল্টনের ধারণায় পরমাণু অবিভাজ্য ছিল। কিন্তু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রনের পরিচয় পাওয়ার ফলে বোঝা যায়, পরমাণুরও অভ্যন্তরীণ গঠন আছে। এই গঠন বোঝাতে রাদারফোর্ড ও বোরের মডেল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
নিউক্লিয়াস হলো পরমাণুর অত্যন্ত ক্ষুদ্র, ঘন কেন্দ্রীয় অংশ। এতে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে; সাধারণ হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াসে নিউট্রন নেই। প্রোটনের জন্য নিউক্লিয়াস ধনাত্মক চার্জযুক্ত। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এখানে কেন্দ্রীভূত, কারণ ইলেকট্রনের ভর তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম। নিউক্লিয়াসের বাইরের অধিকাংশ স্থান ফাঁকা।
রাদারফোর্ডের মডেল ১৯১১ সালে প্রস্তাবিত হয়। বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর কেন্দ্র হিসেবে ধনাত্মক চার্জযুক্ত ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসের প্রস্তাব করেন। এই মডেলে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘোরে, যেমন গ্রহ সূর্যকে ঘিরে ঘোরে। তাই একে সৌর মডেল ও নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। তবে ইলেকট্রন কেন শক্তি হারিয়ে নিউক্লিয়াসে পড়ে যায় না, তা এটি বোঝাতে পারেনি।
বোরের মডেল ১৯১৩ সালে নির্দিষ্ট অনুমোদিত কক্ষপথের ধারণা দেয়। এসব প্রধান শক্তিস্তর বা শেল K, L, M, N নামে পরিচিত। একটি স্থির কক্ষপথে ঘোরার সময় ইলেকট্রন শক্তি শোষণ বা বিকিরণ করে না। উচ্চ শক্তিস্তরে যেতে শক্তি শোষণ করে; নিচে নামলে শক্তি বিকিরণ করে।
বিদ্যালয়ের সিঁড়ির নির্দিষ্ট ধাপের সঙ্গে অনুমোদিত শক্তিস্তরের তুলনা করতে পারো। ধাপ বদলানো আর একই ধাপে থাকা আলাদা ব্যাপার। এটি কেবল বোঝার উপমা; পরমাণুতে সত্যিকারের সিঁড়ি নেই।
সাধারণ ভুল হলো মডেলকে পরমাণুর হুবহু ছবি ভাবা, অথবা ইলেকট্রনের ভর একেবারে শূন্য বলা। মডেল ব্যাখ্যা দেয়, আর ইলেকট্রনের ভর অতি ক্ষুদ্র হলেও শূন্য নয়।
মনে রাখো: রাদারফোর্ডের মডেল কেন্দ্রীয় নিউক্লিয়াস এবং বোরের মডেল নির্দিষ্ট শক্তিস্তরের সাহায্যে পরমাণুর গঠন বোঝায়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।