পড়ার নোট
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ চিকিৎসা, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগে, কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বা দুর্ঘটনা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বলতে তেজস্ক্রিয় উৎস থেকে নির্গত আলফা, বিটা ও গামার মতো বিকিরণ বোঝায়। ক্ষতির বিষয়টি বুঝতে উপকারী ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বিকিরণের সংস্পর্শকে আলাদা করে ভাবতে হবে।
মানুষের কোষের জিনগত উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। জিনগত পরিবর্তন হলো কোষের বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনকারী উপাদানের পরিবর্তন। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ এমন পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যান্সারের মতো রোগের কারণ হতে পারে। মাত্রাতিরিক্ত বিকিরণে গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুও ঘটতে পারে। কিছু ক্ষতির প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে বোঝা না গেলেও পরে প্রকাশ পেতে পারে।
পরিবেশে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়লে সমস্যা শুধু উৎসের জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাতাস, মাটি ও পানি দূষিত হতে পারে। এর ফলে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোনো এলাকার স্বাভাবিক বসবাস বা কৃষিকাজ ব্যাহত হতে পারে। তবে সব দুর্ঘটনার ক্ষতি বা স্থায়িত্ব এক রকম নয়।
বাংলাদেশের গ্রামের একটি পুকুরের কথা ভাবো, যার পানি মানুষ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে এবং যেখানে মাছ থাকে। সেখানে তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশলে একই দূষণ মানুষ ও জলজ জীবের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। এটি সম্ভাব্য দূষণের পথ বোঝার উদাহরণ; সাধারণ পুকুরের পানি তেজস্ক্রিয়—এমন দাবি নয়।
ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ও কিছু বর্জ্যের তেজস্ক্রিয়তা দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। তাই বর্জ্য সংরক্ষণে ত্রুটি হলে মাটি বা পানিতে দূষণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তেজস্ক্রিয়তা চোখে দেখা যায় না বলে কোনো বর্জ্য দেখতে সাধারণ মনে হলেই নিরাপদ বলা যায় না।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে বিপুল প্রাণহানি ঘটে। 1986 সালের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনাও প্রাণহানি ও পরিবেশদূষণ ঘটায়। ঘটনাগুলো অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শক্তির গুরুতর পরিণতি দেখায়।
সাধারণ ভুল হলো, সব আইসোটোপকে তেজস্ক্রিয় ও ক্ষতিকর ভাবা। আবার উপকারী বলে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ঝুঁকি অস্বীকার করাও ভুল। ক্ষতি প্রতিরোধে উৎস, ব্যবহার ও বর্জ্য—সব পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ দরকার।
মনে রাখো: অনিয়ন্ত্রিত তেজস্ক্রিয় বিকিরণ কোষের ক্ষতি এবং দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশদূষণের কারণ হতে পারে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।