offSchoolবেটা

রসায়ন · অধ্যায় ৩ · টপিক ১৪

চিকিৎসা, কৃষি ও বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে আইসোটোপ ব্যবহারের সতর্কতা

পড়ার নোট

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ হলো এমন আইসোটোপ, যার নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিবর্তিত হয়ে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নিঃসরণ করে। আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি জীবন্ত কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসা, কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে উপকার পাওয়ার মূল শর্ত হলো নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার—নির্ধারিত উদ্দেশ্যে উপযুক্ত পরিমাণ, সময় ও সুরক্ষা মেনে ব্যবহার।

চিকিৎসায় যে বিকিরণ ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে, তা সুস্থ কোষেরও ক্ষতি করতে পারে। তাই রোগীর জন্য আইসোটোপের পরিমাণ ও ব্যবহারের সময় বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন। আয়োডিন-131-এর দ্রবণ বা কোবাল্ট-60-এর উৎস নিজের সিদ্ধান্তে ব্যবহার করার বিষয় নয়। রোগ নির্ণয়ে স্বল্পস্থায়ী তেজস্ক্রিয় উৎস ব্যবহারের উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বিকিরণের প্রভাব কমানো।

চিকিৎসাকর্মীদেরও অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দরকার। উপযুক্ত আড়াল, সুরক্ষিত কক্ষ ও কাজের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সুরক্ষাবস্ত্র বা দস্তানা ব্যবহার করা হলেও সেগুলো সব ধরনের বিকিরণ সম্পূর্ণ আটকায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। উৎসের ধরন অনুযায়ী সুরক্ষাব্যবস্থা আলাদা হতে পারে।

কৃষিতে তেজস্ক্রিয় ফসফরাস দিয়ে উদ্ভিদের সার গ্রহণ নিয়ে গবেষণা করা যায়। তবে গবেষণার উপকরণকে সাধারণ সার মনে করে ধানখেতে ছড়ানো যাবে না। প্রশিক্ষিত কর্মীর তত্ত্বাবধানে নমুনার পরিমাণ ও অবস্থানের হিসাব রাখা, সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো এবং নিরাপদ পাত্রে সংরক্ষণ করা জরুরি। নমুনা যেন খাবার, বীজ বা পুকুরের পানিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে না মেশে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিক্রিয়া ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ আবদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে হয়। পুরু সুরক্ষাবেষ্টনী, নিয়মিত পরীক্ষা এবং কর্মীদের বিকিরণ পর্যবেক্ষণ এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহৃত জ্বালানি ও বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলা যায় না; নির্ধারিত সুরক্ষিত ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে হয়। সব ধরনের বর্জ্যের জন্য একই সংরক্ষণপদ্ধতি প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশে হাসপাতালের চিকিৎসা, ধানখেতের গবেষণা বা রূপপুরের মতো বিদ্যুৎকেন্দ্র—প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ আলাদা হলেও মূল উদ্দেশ্য এক: প্রয়োজনীয় সুবিধা পাওয়ার সময় মানুষ ও পরিবেশের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ কমানো। সম্ভাব্য দুর্ঘটনার জন্যও প্রস্তুতি থাকা দরকার।

সাধারণ ভুল হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় বলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ ভাবা। উপকারিতা নিরাপত্তার বিকল্প নয়; সঠিক নিয়ন্ত্রণই উপকার পাওয়ার শর্ত।

মনে রাখো: তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের নিরাপদ ব্যবহার নির্ভর করে প্রশিক্ষিত তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ ও যথাযথ সুরক্ষার ওপর।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো