পড়ার নোট
পরিবেশের উপাদানগুলো গভীরভাবে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত, এবং অসংখ্য জীবের কাজের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই একটি প্রজাতির বিলুপ্তিও বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে। বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতার জন্য জীববৈচিত্র্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো জীবই অপ্রয়োজনীয় নয়
একসময় যে জীবগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বা অবাঞ্ছিত মনে করা হতো, পরে দেখা গেছে সেগুলোও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখছে।
- ঝিনুক: যুক্তরাষ্ট্রের চেসাপিক উপকূলে একসময় অসংখ্য ঝিনুক মাত্র তিন দিনে পুরো এলাকার পানি পরিষ্কার করতে পারত। এখন সেসব ঝিনুকের 99% বিলুপ্ত; অবশিষ্টরা এক বছরেও সেই পানি পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে পানি ঘোলা হচ্ছে এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন কমছে।
- ব্যাঙ: একটি পূর্ণবয়স্ক ব্যাঙ দিনে নিজের দেহের ওজনের সমান কীটপতঙ্গ খায়, যারা ফসলের ক্ষতি করে। কীটনাশকের কারণে ব্যাঙ মারা যাচ্ছে।
- পাখি: কীটপতঙ্গ পাখির প্রধান খাদ্য, যার বড় অংশ মানুষ ও ফসলের ক্ষতিকর। পাখি পরাগায়নেও বড় ভূমিকা রাখে।
- শিকারি পাখি: পেঁচা, ঈগল, চিল ইঁদুর খেয়ে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে।
- মৃতভোজী: শকুন, চিল ও কাক মৃত ও পচা জৈব পদার্থ পরিষ্কার না করলে পৃথিবী সেগুলোতে ঢেকে যেত।
কোনো একটি জীব বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়, তাই টেকসই বাস্তুতন্ত্রের জন্য জীববৈচিত্র্যের ভূমিকা প্রশ্নাতীত।
উদাহরণ: একটি বাড়িতে এক জোড়া ইঁদুর বিনা বাধায় বংশবৃদ্ধি করলে এক বছর শেষে ইঁদুর হতে পারে প্রায় 880টি। একটি পেঁচা দিনে 3টি ইঁদুর খেলে বছরে খায় টি, যা 880 এর চেয়ে বেশি। অর্থাৎ একটি পেঁচাই একটি এলাকার ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবার 50 গ্রাম ওজনের একটি ব্যাঙ দিনে প্রায় 50 গ্রাম পোকা খেলে এক মাসে খায় প্রায় গ্রাম বা 1.5 কেজি পোকা।
সাধারণ ভুল হলো শুধু উপকারী বা সুন্দর প্রাণীকেই রক্ষার যোগ্য ভাবা। শকুন বা ব্যাঙের মতো অবহেলিত প্রাণীও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যে জরুরি।
মনে রাখো: প্রতিটি জীব বাস্তুতন্ত্রে কোনো না কোনো ভূমিকা রাখে, তাই একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলেও স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে; জীববৈচিত্র্য বাস্তুতন্ত্রকে স্থিতিশীল রাখে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।