পড়ার নোট
পরিবেশ হলো অসংখ্য ধরনের জীব ও জড় পদার্থের সমাবেশ। পৃথিবীতে কত ধরনের জীব আছে, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন, তবে প্রজাতির হিসেবে বলা সহজ। যারা দৈহিক ও জননগত বৈশিষ্ট্যে একে অপরের মতো এবং একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত, তারা একটি প্রজাতি। এ পর্যন্ত প্রায় 13 লক্ষ প্রাণী ও 4 লক্ষ উদ্ভিদের বর্ণনা ও নামকরণ করা সম্ভব হয়েছে। সংক্ষেপে, পৃথিবীতে বিদ্যমান জীবের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই জীববৈচিত্র্য।
জীববৈচিত্র্যের প্রকার
১. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: পৃথিবীতে বিদ্যমান মোট প্রজাতির ভিন্নতা। প্রতিটি প্রজাতি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা; যেমন হরিণ আকার, অভ্যাস, হিংস্রতা, সংখ্যা ও প্রজনন পদ্ধতিতে বাঘ থেকে আলাদা। কাঁঠাল একটি প্রজাতি, বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখে একে অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা করা যায়।
২. জিনগত বৈচিত্র্য: একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যেও গঠন, আকার, রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতায় পার্থক্য থাকে। এ পার্থক্য আসে তাদের জিনের গঠনের সামান্য ভিন্নতা থেকে। বংশগত বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে যায়, এবং জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তনে বৈশিষ্ট্য বদলায়, এমনকি নতুন প্রজাতিও সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ একই প্রজাতির হলেও কেউ কারও হুবহু একরকম নয়।
৩. বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য: বাস্তুতন্ত্রের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব উপাদানের ধীর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে সেখানকার জীবেও পরিবর্তন আসে; এভাবে গড়ে ওঠা বৈচিত্র্যই বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য। ছোট পুকুরের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাস নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে আলাদা; বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র ও মরুভূমিতে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জীবসম্প্রদায় গড়ে ওঠে।
উদাহরণ:
| পর্যবেক্ষণ | বৈচিত্র্যের ধরন |
|---|---|
| একই খেতের কিছু ধানগাছ রোগে আক্রান্ত, কিছু নয় | জিনগত |
| সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ, কুমির ও সুন্দরীগাছ | প্রজাতিগত |
| পাহাড়ি বন আর হাওরে ভিন্ন ধরনের জীব | বাস্তুতন্ত্রগত |
বর্ণিত প্রজাতির মোট সংখ্যা প্রায় লক্ষ, যদিও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
মনে রাখো: পৃথিবীর জীবের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই জীববৈচিত্র্য, যা প্রজাতিগত, জিনগত ও বাস্তুতন্ত্রগত এই তিন প্রকার।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।