offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১৩ · টপিক ৮

জীববৈচিত্র্য এবং এর প্রকারভেদ

পড়ার নোট

পরিবেশ হলো অসংখ্য ধরনের জীব ও জড় পদার্থের সমাবেশ। পৃথিবীতে কত ধরনের জীব আছে, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন, তবে প্রজাতির হিসেবে বলা সহজ। যারা দৈহিক ও জননগত বৈশিষ্ট্যে একে অপরের মতো এবং একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত, তারা একটি প্রজাতি। এ পর্যন্ত প্রায় 13 লক্ষ প্রাণী ও 4 লক্ষ উদ্ভিদের বর্ণনা ও নামকরণ করা সম্ভব হয়েছে। সংক্ষেপে, পৃথিবীতে বিদ্যমান জীবের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই জীববৈচিত্র্য।

জীববৈচিত্র্যের প্রকার

১. প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: পৃথিবীতে বিদ্যমান মোট প্রজাতির ভিন্নতা। প্রতিটি প্রজাতি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা; যেমন হরিণ আকার, অভ্যাস, হিংস্রতা, সংখ্যা ও প্রজনন পদ্ধতিতে বাঘ থেকে আলাদা। কাঁঠাল একটি প্রজাতি, বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখে একে অন্য প্রজাতি থেকে আলাদা করা যায়।

২. জিনগত বৈচিত্র্য: একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যেও গঠন, আকার, রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকূল পরিবেশ সহ্য করার ক্ষমতায় পার্থক্য থাকে। এ পার্থক্য আসে তাদের জিনের গঠনের সামান্য ভিন্নতা থেকে। বংশগত বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে প্রজন্মান্তরে যায়, এবং জিনের গঠন ও বিন্যাসের পরিবর্তনে বৈশিষ্ট্য বদলায়, এমনকি নতুন প্রজাতিও সৃষ্টি হতে পারে। পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ একই প্রজাতির হলেও কেউ কারও হুবহু একরকম নয়।

৩. বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য: বাস্তুতন্ত্রের ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব উপাদানের ধীর পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে সেখানকার জীবেও পরিবর্তন আসে; এভাবে গড়ে ওঠা বৈচিত্র্যই বাস্তুতন্ত্রগত বৈচিত্র্য। ছোট পুকুরের উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাস নদীর বাস্তুতন্ত্র থেকে আলাদা; বন, তৃণভূমি, হ্রদ, নদী, পাহাড়, সমুদ্র ও মরুভূমিতে নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জীবসম্প্রদায় গড়ে ওঠে।

উদাহরণ:

পর্যবেক্ষণবৈচিত্র্যের ধরন
একই খেতের কিছু ধানগাছ রোগে আক্রান্ত, কিছু নয়জিনগত
সুন্দরবনে বাঘ, হরিণ, কুমির ও সুন্দরীগাছপ্রজাতিগত
পাহাড়ি বন আর হাওরে ভিন্ন ধরনের জীববাস্তুতন্ত্রগত

বর্ণিত প্রজাতির মোট সংখ্যা প্রায় 13+4=1713 + 4 = 17 লক্ষ, যদিও প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

মনে রাখো: পৃথিবীর জীবের প্রাচুর্য ও ভিন্নতাই জীববৈচিত্র্য, যা প্রজাতিগত, জিনগত ও বাস্তুতন্ত্রগত এই তিন প্রকার।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. একটি প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রে অধিক জীববৈচিত্র্য কীভাবে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য রক্ষা করে? সংক্ষেপে কারণ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    একটি বাস্তুতন্ত্রে জীববৈচিত্র্য যত বেশি হয়, সেখানে খাদ্যশৃঙ্খলগুলোর মিলনে গঠিত খাদ্যজাল তত বেশি জটিল ও সুসংহত হয়। ফলে কোনো একটি প্রজাতির সংখ্যা আকস্মিক হ্রাস পেলে বা বিলুপ্ত হলে খাদকরা বিকল্প খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে, যার ফলে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয় না। এই বহুমুখী খাদ্যপ্রবাহের উপস্থিতির কারণেই বাস্তুতন্ত্রটি প্রতিকূল পরিবেশ বা পরিবর্তনের মুখে সহজে ভেঙে না পড়ে তার স্বাভাবিক ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।

    1. খাদ্যজালের জটিলতা বৃদ্ধি: অধিক জীববৈচিত্র্যের কারণে বাস্তুতন্ত্রে অসংখ্য খাদ্যশৃঙ্খল পরস্পর যুক্ত হয়ে একটি সুদৃঢ় ও জটিল খাদ্যজাল তৈরি করে।
    2. বিকল্প খাদ্য উৎসের প্রাপ্যতা: কোনো একটি প্রজাতির খাদক অন্য কোনো খাদ্য উৎসের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প শিকার ভক্ষণ করে জীবনধারণ করতে পারে।
    3. বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা রক্ষা: একক কোনো প্রজাতির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীলতা না থাকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও সামগ্রিক শক্তি ও পুষ্টি প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে।
  2. উদ্দীপকে কৃষকের জমিতে চাষকৃত ধানের এই বৈচিত্র্য কোন ধরনের জীববৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে?

    1. ক

      বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্য

    2. খ

      প্রজাতিগত বৈচিত্র্য

    3. গ

      জিনগত বৈচিত্র্য

    4. ঘ

      আঞ্চলিক বৈচিত্র্য

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) জিনগত বৈচিত্র্য

    1. কাটারিভোগ, ব্রি ধান-২৮ ও নাজিরশাইল সবই একই ধান প্রজাতির (Oryza sativaOryza\ sativa) অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন জাত বা প্রকরণ।
    2. একই প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে বিদ্যমান জিনের পার্থক্যের কারণে যে বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা সৃষ্টি হয়, তাকে জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity) বলে; বিভিন্ন জাত ভিন্ন প্রজাতি নয় বলে এটি প্রজাতি বৈচিত্র্য নয়।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো