offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১২ · টপিক ২১

প্রজাতির টিকে থাকায় বিবর্তনের গুরুত্ব

পড়ার নোট

পরিবেশ সবসময় একরকম থাকে না। খাদ্যের প্রাপ্যতা, আবহাওয়া, বাসস্থান ও অন্য জীবের সঙ্গে সম্পর্ক বদলালে টিকে থাকার শর্তও বদলে যায়। অভিযোজন হলো পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়া। জৈব অভিব্যক্তির মাধ্যমে সুবিধাজনক বংশগত বৈশিষ্ট্য প্রজন্ম ধরে বেশি দেখা গেলে একটি প্রজাতির পরিবর্তিত পরিবেশে টিকে থাকার সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে সব প্রজাতি সমানভাবে খাপ খাওয়াতে পারে না। নতুন প্রজাতির উদ্ভবের পাশাপাশি অনেক প্রজাতি সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায়। যে প্রজাতি পরিবেশ, জীবনপ্রবাহ ও জনসংখ্যার পরিস্থিতির সঙ্গে বেশি মানিয়ে নিতে পারে, তার দীর্ঘকাল টিকে থাকার সুযোগ বেশি। তাই অভিব্যক্তি শুধু নতুন জীবের উদ্ভব বোঝায় না; প্রজাতির ধারাবাহিক অস্তিত্ব বোঝাতেও গুরুত্বপূর্ণ।

এই ধারণার ব্যবহার বাংলাদেশের কৃষিকাজে পরিচিত উদাহরণ দিয়ে বোঝা যায়। একজন কৃষক ভালো ফলন ও ভালো গুণের ধানগাছের বীজ পরের মৌসুমের জন্য রেখে দিলেন। তিনি আসলে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের গাছকে বেশি বংশবিস্তারের সুযোগ দিলেন। ভালো বৈশিষ্ট্য বংশগত হলে পরের প্রজন্মেও তা পাওয়া যেতে পারে। বহু প্রজন্ম ধরে এই নির্বাচন চালালে নতুন জাত উদ্ভাবিত হতে পারে। আজকের বহু শস্যের উৎপত্তিতে এভাবে নির্বাচনের ভূমিকা আছে।

মশা নিয়ন্ত্রণেও অভিব্যক্তির গুরুত্ব দেখা যায়। বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে সব মশা সমানভাবে মারা যায় না। প্রতিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত মশা টিকে থেকে বংশবিস্তার করলে পরবর্তী প্রজন্মে প্রতিরোধী মশার অনুপাত বাড়তে পারে। ব্যাকটেরিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্বাচনের গুরুত্ব আছে। তাই একসময় কার্যকর উপায় পরে কম কার্যকর হতে পারে।

রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমাতে জিনগতভাবে পরিবর্তিত পুরুষ মশা ব্যবহারের পদ্ধতিও আছে। এমন পুরুষের সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলন হলেও সফল সন্তান উৎপাদন হয় না। পর্যাপ্ত সংখ্যায় এদের ব্যবহার করলে কয়েক প্রজন্মে মশার বংশবিস্তার কমানো বা বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়। এতে বংশবিস্তারের সাফল্যকে নিয়ন্ত্রণের কাজে লাগানো হচ্ছে।

সাধারণ ভুল হলো প্রতিটি মশা রাসায়নিকের সংস্পর্শে এসে নিজের প্রয়োজনমতো প্রতিরোধ তৈরি করে ভাবা। মূল বিষয় হলো সদস্যদের পার্থক্য এবং প্রতিরোধী সদস্যদের তুলনামূলক বেশি বংশবিস্তার। একইভাবে নতুন জাত তৈরি হওয়া মানেই প্রতিবার নতুন প্রজাতি তৈরি হওয়া নয়।

মনে রাখো: পরিবর্তিত পরিবেশে উপযোগী বংশগত বৈশিষ্ট্যের বিস্তার প্রজাতির টিকে থাকতে সাহায্য করে; এই জ্ঞান কৃষি ও জীব নিয়ন্ত্রণেও কাজে লাগে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • সবুজ ধানের ক্ষেতে প্রাকৃতিক নির্বাচন: ঘাসফড়িংয়ের অভিযোজনচালিয়ে দেখো

    ময়মনসিংহের একটি সবুজ আমন ধানের ক্ষেতে ঘাসফড়িংয়ের একটি দল বাস করে। শুরুতে প্রকরণ হিসেবে দলের মাত্র ২০% (০.২০) ঘাসফড়িং ছিল সবুজ এবং বাকি ৮০% (০.৮০) ছিল বাদামি। সবুজ ধানের পাতায় সবুজ রঙের ফড়িং মিশে থাকে (ছদ্মবেশ বা ক্যামোফ্লেজ), তাই ফিঙে ও শালিক পাখি সহজে তাদের দেখতে পায় না। ফলে প্রতি প্রজন্মে সবুজ ঘাসফড়িংয়ের বেঁচে থাকার হার ০.৮ (৮০%)। অন্যদিকে বাদামি ঘাসফড়িং সবুজ পাতার ওপর সহজে চোখে পড়ে বলে প্রতি প্রজন্মে তাদের বেঁচে থাকার হার মাত্র ০.৪ (৪০%)। অনুকূল প্রকরণের এই বেঁচে থাকার সুবিধার কারণে ৪ প্রজন্ম পর ঘাসফড়িংয়ের দলটিতে সবুজ ঘাসফড়িংয়ের প্রত্যাশিত অনুপাত কত হবে?

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো