পড়ার নোট
মানুষের সাধারণ দেহকোষে ৪৬টি বা ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া, অর্থাৎ ৪৪টি হলো অটোজোম। এগুলো দেহগঠন, ভ্রূণের বিকাশ ও শারীরবৃত্তীয় কাজে ভূমিকা রাখে। বাকি এক জোড়া হলো লিঙ্গ ক্রোমোজোম, যা মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদের X ও Y দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। Y ক্রোমোজোম X-এর তুলনায় ছোট।
নারীর দেহকোষে লিঙ্গ ক্রোমোজোমের বিন্যাস XX এবং পুরুষের দেহকোষে XY। এখানে X ও Y ক্রোমোজোমের পরিচয়বাহী প্রতীক, কোনো পরিমাপের রাশি নয়; এদের এসআই একক নেই। দেহকোষের এই বিন্যাস এবং জননকোষে থাকা ক্রোমোজোমের সংখ্যা এক করে ফেললে নিষেক বোঝায় ভুল হয়।
মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে জননকোষ তৈরির সময় ক্রোমোজোমসংখ্যা অর্ধেক হয়। প্রতিটি ডিম্বাণুতে ২২টি অটোজোমের সঙ্গে একটি X থাকে। পুরুষের শুক্রাণু দুই ধরনের: অর্ধেকের মধ্যে ২২টি অটোজোমের সঙ্গে X এবং বাকি অর্ধেকের মধ্যে ২২টি অটোজোমের সঙ্গে Y থাকে। প্রতিটি জননকোষে তাই মোট ২৩টি ক্রোমোজোম থাকে।
নিষেকে একটি ডিম্বাণুর সঙ্গে একটি শুক্রাণু মিলিত হয়। X বহনকারী শুক্রাণু X বহনকারী ডিম্বাণুর সঙ্গে মিললে জাইগোটে XX হয় এবং কন্যাসন্তান গঠিত হয়। Y বহনকারী শুক্রাণু মিললে XY হয় এবং পুত্রসন্তান গঠিত হয়। উভয় ক্ষেত্রেই জাইগোটে আবার ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
সমান সম্ভাবনা ধরে একটি অনুশীলন করো। প্রথমে মায়ের X-এর পাশে বাবার X বসাও: ফল XX। তারপর বাবার Y বসাও: ফল XY। দুটি সম্ভাবনার একটি কন্যা এবং একটি পুত্র। তাই প্রতিটির সম্ভাবনা । সম্ভাবনা এককবিহীন।
ধরা যাক, শুধু হিসাবের জন্য ৬০টি জন্ম বিবেচনা করা হলো। প্রত্যাশিত কন্যার সংখ্যা ; পুত্রের প্রত্যাশিত সংখ্যাও ৩০। বাস্তবে কোনো ছোট দলে ঠিক এই সংখ্যা হতেই হবে না।
বাংলাদেশের কোনো পরিবারে কন্যাসন্তান জন্মানোর জন্য মাকে দোষ দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অযৌক্তিক। মা সব ডিম্বাণুতেই X দেন; কোন ধরনের শুক্রাণু নিষেক করবে, তা অভিভাবকের ইচ্ছাধীন নয়। একটি সাধারণ ভুল হলো আগের সন্তান কন্যা হলে পরেরটি অবশ্যই পুত্র হবে ভাবা।
মনে রাখো: ডিম্বাণু সবসময় X দেয়; নিষেককারী শুক্রাণুর X বা Y সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।