পড়ার নোট
ডিএনএর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ নকশা তুলনা করে ব্যক্তি শনাক্ত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে ডিএনএ টেস্ট বলে। এর অন্য নাম ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বা ডিএনএ টাইপিং। এখানে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বলতে আঙুলের ছাপ নেওয়া বোঝায় না; ডিএনএ থেকে পাওয়া শনাক্তকরণযোগ্য নকশা বোঝায়। মানুষের ডিএনএর ব্যক্তিভেদে পার্থক্য এই পরীক্ষায় কাজে লাগে।
পরীক্ষার জন্য প্রথমে জৈব নমুনা দরকার। হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত, লালা ও বীর্য থেকে উপযুক্ত নমুনা পাওয়া যায়। অপরাধস্থল বা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সংগৃহীত নমুনার নকশা সন্দেহভাজন ব্যক্তির রক্ত বা অন্য জৈব নমুনার নকশার সঙ্গে তুলনা করা হয়। নমুনা কোথা থেকে এসেছে এবং কার সঙ্গে তুলনা হচ্ছে, তা তাই গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্ধতির প্রধান ধাপগুলো হলো:
- রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নমুনা থেকে ডিএনএ আলাদা করা হয়।
- রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে ডিএনএকে ছোট খণ্ডে কাটা হয়।
- জেল ইলেক্ট্রোফোরেসিস পদ্ধতিতে খণ্ডগুলো দৈর্ঘ্য অনুযায়ী পৃথক হয়ে ব্যান্ড তৈরি করে। এতে অ্যাগারোজ বা পলিঅ্যাক্রিলামাইড জেল ব্যবহার করা যায়।
- বিশেষ নাইট্রোসেলুলোজ কাগজে স্থানান্তরের পর তেজস্ক্রিয় চিহ্নিত ডিএনএ প্রোব ব্যবহার করা হয়। এক্স-রে ফিল্মে অটোরেডিওগ্রাফ পদ্ধতিতে ব্যান্ড দৃশ্যমান করা হয়।
- এরপর প্রাপ্ত ব্যান্ডের নকশা তুলনামূলক নমুনার নকশার সঙ্গে মেলানো হয়।
পিসিআর বা পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন পদ্ধতিতে অতি অল্প নমুনা থেকেও পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ডিএনএ পাওয়া যায়। ফলে ক্ষুদ্র নমুনাও শনাক্তকরণে কাজে লাগতে পারে।
ধরা যাক, বাংলাদেশের কোনো অপরাধস্থল থেকে রক্তের নমুনা পাওয়া গেল। তার ডিএনএ নকশা সন্দেহভাজনের নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে নমুনাটি ওই ব্যক্তির কি না, তা নির্ণয়ে সহায়তা পাওয়া যায়। এভাবে সাক্ষ্য ও অন্য প্রমাণের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষা বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডিএনএ প্রযুক্তির গুরুত্ব শুধু ব্যক্তি শনাক্তকরণে সীমিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং ওষুধশিল্পেও এর প্রয়োগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
একটি সাধারণ ভুল হলো, ডিএনএ নকশার মিল মানেই অপরাধের সব ঘটনা প্রমাণিত মনে করা। মিল নমুনার উৎস শনাক্ত করতে সাহায্য করে; ঘটনার ব্যাখ্যায় অন্য প্রমাণও বিবেচ্য।
মনে রাখো: ডিএনএ পরীক্ষায় জৈব নমুনার ডিএনএ নকশা তুলনা করে ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।