পড়ার নোট
সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন প্রজননে পরপর দুটি ধাপ: পরাগায়ন ও নিষেক।
পরাগায়ন
পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে পরাগায়ন বলে; এটি ফল ও বীজ তৈরির পূর্বশর্ত।
- স্বপরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের দুটি ফুলে; যেমন সরিষা, শসা, ধুতুরা। পরাগের অপচয় কম, বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না, প্রজাতির বিশুদ্ধতা থাকে; কিন্তু নতুন বৈশিষ্ট্য আসে না, অভিযোজন ক্ষমতা কমে।
- পরপরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন গাছের ফুলে; যেমন শিমুল, পেঁপে। নতুন বৈশিষ্ট্য ও নতুন জাত আসে, বীজ বেশি সতেজ হয়; কিন্তু বাহকনির্ভর বলে পরাগায়ন নিশ্চিত নয়, পরাগের অপচয় বেশি।
পরাগায়নের মাধ্যম বাতাস, পানি, কীটপতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ। কীটপরাগী ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থি ও সুগন্ধযুক্ত (জবা, লাউ, সরিষা); বায়ুপরাগী ফুল হালকা, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন, গর্ভমুণ্ড শাখাযুক্ত ও আঠালো (ধান)।
জননকোষ তৈরি
- পরাগরেণু: পরাগ মাতৃকোষ () মিয়োসিসে চারটি পরাগরেণু () তৈরি করে। পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস মাইটোসিসে একটি বড় নালিকোষ ও একটি ছোট জনন কোষে ভাগ হয়; নালিকোষ থেকে পরাগনালি হয় এবং জনন কোষ থেকে দুটি পুং জননকোষ তৈরি হয়।
- ভ্রূণথলি: ডিম্বকের একটি কোষ মিয়োসিসে চারটি () কোষ দেয়; তিনটি নষ্ট হয়, একটি বড় হয়ে ভ্রূণথলি হয়। এতে ডিম্বাণু, দুটি সহকারী কোষ, প্রতিপাদ কোষ এবং ডিপ্লয়েড সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস থাকে।
দ্বিনিষেক
গর্ভমুণ্ডে পড়া পরাগরেণু থেকে পরাগনালি গর্ভদণ্ড ভেদ করে ভ্রূণথলিতে দুটি পুং জননকোষ ছাড়ে। একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট () তৈরি করে; অন্যটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে ট্রিপ্লয়েড () শস্য তৈরি করে। প্রায় একই সময়ে ঘটা এই দুটি মিলনকে দ্বিনিষেক বলে। পরে ডিম্বক বীজে এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।
উদাহরণ: ধরা যাক একটি উদ্ভিদের দেহকোষে । পরাগরেণু ও ডিম্বাণুতে , জাইগোট ও ভ্রূণে , আর শস্যে , অর্থাৎ ।
মনে রাখো: সপুষ্পক উদ্ভিদে পরাগায়নের পর দ্বিনিষেক ঘটে: একটি পুং জননকোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট () এবং অন্যটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে শস্য () তৈরি করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।