offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ৫

সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন প্রজনন

পড়ার নোট

সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন প্রজননে পরপর দুটি ধাপ: পরাগায়ন ও নিষেক।

পরাগায়ন

পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের বা একই প্রজাতির অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরকে পরাগায়ন বলে; এটি ফল ও বীজ তৈরির পূর্বশর্ত।

  • স্বপরাগায়ন: একই ফুলে বা একই গাছের দুটি ফুলে; যেমন সরিষা, শসা, ধুতুরা। পরাগের অপচয় কম, বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না, প্রজাতির বিশুদ্ধতা থাকে; কিন্তু নতুন বৈশিষ্ট্য আসে না, অভিযোজন ক্ষমতা কমে।
  • পরপরাগায়ন: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন গাছের ফুলে; যেমন শিমুল, পেঁপে। নতুন বৈশিষ্ট্য ও নতুন জাত আসে, বীজ বেশি সতেজ হয়; কিন্তু বাহকনির্ভর বলে পরাগায়ন নিশ্চিত নয়, পরাগের অপচয় বেশি।

পরাগায়নের মাধ্যম বাতাস, পানি, কীটপতঙ্গ, পাখি, বাদুড়, শামুক, এমনকি মানুষ। কীটপরাগী ফুল বড়, রঙিন, মধুগ্রন্থি ও সুগন্ধযুক্ত (জবা, লাউ, সরিষা); বায়ুপরাগী ফুল হালকা, গন্ধ ও মধুগ্রন্থিহীন, গর্ভমুণ্ড শাখাযুক্ত ও আঠালো (ধান)।

জননকোষ তৈরি

  • পরাগরেণু: পরাগ মাতৃকোষ (2n2n) মিয়োসিসে চারটি পরাগরেণু (nn) তৈরি করে। পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস মাইটোসিসে একটি বড় নালিকোষ ও একটি ছোট জনন কোষে ভাগ হয়; নালিকোষ থেকে পরাগনালি হয় এবং জনন কোষ থেকে দুটি পুং জননকোষ তৈরি হয়।
  • ভ্রূণথলি: ডিম্বকের একটি কোষ মিয়োসিসে চারটি (nn) কোষ দেয়; তিনটি নষ্ট হয়, একটি বড় হয়ে ভ্রূণথলি হয়। এতে ডিম্বাণু, দুটি সহকারী কোষ, প্রতিপাদ কোষ এবং ডিপ্লয়েড সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস থাকে।

দ্বিনিষেক

গর্ভমুণ্ডে পড়া পরাগরেণু থেকে পরাগনালি গর্ভদণ্ড ভেদ করে ভ্রূণথলিতে দুটি পুং জননকোষ ছাড়ে। একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট (2n2n) তৈরি করে; অন্যটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে ট্রিপ্লয়েড (3n3n) শস্য তৈরি করে। প্রায় একই সময়ে ঘটা এই দুটি মিলনকে দ্বিনিষেক বলে। পরে ডিম্বক বীজে এবং গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।

উদাহরণ: ধরা যাক একটি উদ্ভিদের দেহকোষে 2n=242n = 24। পরাগরেণু ও ডিম্বাণুতে n=12n = 12, জাইগোট ও ভ্রূণে 12+12=2412 + 12 = 24, আর শস্যে 12+24=3612 + 24 = 36, অর্থাৎ 3n3n।

মনে রাখো: সপুষ্পক উদ্ভিদে পরাগায়নের পর দ্বিনিষেক ঘটে: একটি পুং জননকোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট (2n2n) এবং অন্যটি সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে শস্য (3n3n) তৈরি করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

চালিয়ে দেখো

  • আমের ফুল থেকে ফল ও বীজ সৃষ্টিচালিয়ে দেখো

    বসন্তের শুরুতে রাজশাহীর একটি আম বাগানে গিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ক দেখল আম গাছে প্রচুর মুকুল ফুটেছে। মুকুলের ছোট ছোট ফুলগুলোতে মৌমাছিরা ঘুরে ঘুরে মধু ও পরাগরেণু সংগ্রহ করছে। শিক্ষক বললেন, এই পরাগায়ন ও নিষেকের ফলেই ফুলগুলো ফলে রূপান্তরিত হবে। কয়েক সপ্তাহ পর দেখা গেল ফুলের পাপড়ি ও পুংকেশর ঝরে গেছে এবং ছোট ছোট সবুজ গুটি আম বড় হচ্ছে, যার ভেতরে একটি শক্ত আঁটি রয়েছে। উদ্ভিদের যৌন প্রজননের এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় মূলত ফুলের কোন অংশটি বৃদ্ধি ও রূপান্তরিত হয়ে মিষ্টি ও রসালো খাদ্যোপযোগী আমে (ফলে) পরিণত হয়?

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বি-নিষেক (double fertilization) প্রক্রিয়ায় একটি পুং-জননকোষ (nn) ডিম্বাণুর (nn) সাথে এবং দ্বিতীয় পুং-জননকোষটি (nn) গৌণ নিউক্লিয়াসের (2n2n) সাথে মিলিত হয়। নিষেকের পর উৎপন্ন ভ্রূণ (embryo) ও শস্য (endosperm) কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যাগত অবস্থা (ploidy) যথাক্রমে কী হবে?

    1. ক

      হ্যাপ্লয়েড (nn) ও ডিপ্লয়েড (2n2n)

    2. খ

      ডিপ্লয়েড (2n2n) ও ট্রিপ্লয়েড (3n3n)

    3. গ

      ডিপ্লয়েড (2n2n) ও ডিপ্লয়েড (2n2n)

    4. ঘ

      ট্রিপ্লয়েড (3n3n) ও টেট্রাপ্লয়েড (4n4n)

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    খ) ডিপ্লয়েড (2n2n) ও ট্রিপ্লয়েড (3n3n)

    1. একটি হ্যাপ্লয়েড পুং-জননকোষ (nn) হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণুকে (nn) নিষিক্ত করে ডিপ্লয়েড জাইগোট (2n2n) তৈরি করে, যা পরবর্তীতে মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বহুবিভাজিত হয়ে ভ্রূণে (embryo) পরিণত হয়।
    2. অপর হ্যাপ্লয়েড পুং-জননকোষটি (nn) দুটি পোলার নিউক্লিয়াসের মিলনে সৃষ্ট ডিপ্লয়েড গৌণ নিউক্লিয়াসের (2n2n) সাথে যুক্ত হয়ে ট্রিপ্লয়েড শস্য নিউক্লিয়াস (3n3n) সৃষ্টি করে। সুতরাং ভ্রূণ ডিপ্লয়েড (2n2n) ও শস্য ট্রিপ্লয়েড (3n3n)।
  2. গাজীপুরের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BARI) একটি গবেষণাগারে সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগায়ন ও গর্ভদণ্ডের ভেতর দিয়ে পরাগনালীর (pollen tube) বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা হলো। একটি পেঁপে (Carica papaya) ফুলের গর্ভমুণ্ডে পরাগরেণু সফলভাবে অঙ্কুরিত হওয়ার পর সৃষ্ট পরাগনালীটি গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ১.৬ mm (1.6 mm/h1.6\text{ mm/h}) সুষম হারে বৃদ্ধি পায়। পরাগনালীটি গর্ভদণ্ডের মধ্য দিয়ে ৩০ ঘণ্টা একটানা বৃদ্ধি পেয়ে গর্ভাশয়ে পৌঁছে ডিম্বককে নিষিক্ত করে। সূত্র: অতিক্রান্ত দূরত্ব = গড় বেগ × সময় (s=vts = vt)। গর্ভমুণ্ড থেকে ডিম্বক পর্যন্ত পরাগনালীটির অতিক্রান্ত মোট দৈর্ঘ্য কত মিলিমিটার (mm)?

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ৪৮ mm

    1. পরাগনালী বৃদ্ধির সুষম গড় বেগ v=1.6 mm/hv = 1.6\text{ mm/h} এবং মোট বৃদ্ধির সময়কাল t=30 ht = 30\text{ h}।
    v=1.6 mm/h,t=30 hv = 1.6\text{ mm/h}, \quad t = 30\text{ h}
    1. গর্ভমুণ্ড থেকে ডিম্বক পর্যন্ত পরাগনালীটির অতিক্রান্ত দৈর্ঘ্য s=v×t=1.6 mm/h×30 h=48 mms = v \times t = 1.6\text{ mm/h} \times 30\text{ h} = 48\text{ mm}।
    s=1.6×30=48 mms = 1.6 \times 30 = 48\text{ mm}
  3. উদ্দীপকে বর্ণিত ফুলটি কোন ফসলের এবং এতে কোন মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে?

    1. ক

      সরিষা — পতঙ্গপরাগী

    2. খ

      পাতাশ্যাওলা — জলপরাগী

    3. গ

      ধান — বায়ুপরাগী

    4. ঘ

      শিমুল — প্রাণীপরাগী

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    গ) ধান — বায়ুপরাগী

    1. বায়ুপরাগী ফুলের প্রধান অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য হলো ফুল ক্ষুদ্র, বর্ণহীন ও গন্ধহীন হয়, কোনো মকরন্দ থাকে না, পরাগরেণু হালকা হওয়ায় বাতাসে সহজে উড়ে যায় এবং শাখান্বিত বা পালকের মতো গর্ভমুণ্ড বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই ধারণ করে।
    2. এনসিটিবি পাঠ্যপুস্তক অনুসারে ধান হলো বায়ুপরাগী উদ্ভিদের উপযুক্ত উদাহরণ; পক্ষান্তরে সরিষা পতঙ্গপরাগী, পাতাশ্যাওলা জলপরাগী এবং শিমুল প্রাণীপরাগী ফুল।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো