offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১১ · টপিক ৬

প্রাণীর অযৌন ও যৌন প্রজনন

পড়ার নোট

প্রাণিজগতে প্রজনন দুই ধরনের: অযৌন প্রজনন ও যৌন প্রজনন।

অযৌন প্রজনন

নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন হয়। এতে জননকোষের মিলন লাগে না, একটি প্রাণী থেকেই নতুন প্রাণী তৈরি হয়। কয়েকটি উপায়:

  • দ্বিবিভাজন: একটি এককোষী প্রাণী সরাসরি দুই ভাগ হয়ে দুটি প্রাণী তৈরি করে; যেমন অ্যামিবা।
  • মুকুলোদ্গম: দেহের গায়ে একটি মুকুলের মতো অংশ গজিয়ে বড় হয়, পরে আলাদা হয়ে নতুন প্রাণী হয়; যেমন হাইড্রা।
  • খণ্ডায়ন: দেহ কয়েক খণ্ডে ভেঙে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন প্রাণী তৈরি হয়।

অযৌন প্রজননে মাইটোসিস বিভাজন হয়, তাই অপত্য প্রাণী মাতৃপ্রাণীর হুবহু মতো।

যৌন প্রজনন

বিপরীত লিঙ্গের দুটি প্রাণী (পুরুষ ও স্ত্রী) পুং ও স্ত্রী জননকোষ তৈরি করে, নিষেক ঘটায় এবং এভাবে বংশধর তৈরি করে; এই প্রক্রিয়াকে যৌন প্রজনন বলে।

  1. জনন মাতৃকোষ মিয়োসিসে বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করে।
  2. সক্রিয় শুক্রাণু ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং দুটির নিউক্লিয়াস মিলিত হয়; একে নিষেক বলে।
  3. মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি হয়, যাতে দুই সেট ক্রোমোজোম থাকে।
  4. জাইগোট মাইটোসিসে বারবার বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ ও পরে পূর্ণাঙ্গ প্রাণী হয়।

নিষেকের পূর্বশর্ত হলো শুক্রাণু ও ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়া, এবং নিষেক কেবল একই প্রজাতির জননকোষের মধ্যে হয়।

অযৌনযৌন
জননকোষলাগে নাশুক্রাণু ও ডিম্বাণু লাগে
পিতামাতাএকটিদুটি (পুরুষ ও স্ত্রী)
বিভাজনমাইটোসিসমিয়োসিসে জননকোষ, মাইটোসিসে দেহ
বৈচিত্র্যখুব কমবেশি

উদাহরণ: হাইড্রার গায়ে ছোট একটি মুকুল গজিয়ে কিছুদিন পর আলাদা হয়ে নতুন হাইড্রা হলো। এটি অযৌন প্রজনন (মুকুলোদ্গম), তাই নতুন হাইড্রা মাতৃ হাইড্রার মতো। অন্যদিকে একটি ব্যাঙের ডিম ও শুক্রাণু মিলে ব্যাঙাচি হওয়া যৌন প্রজনন।

সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে প্রাণীতে শুধু যৌন প্রজনন হয়। অ্যামিবা ও হাইড্রার মতো নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজননও হয়।

মনে রাখো: নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে দ্বিবিভাজন, মুকুলোদ্গম ও খণ্ডায়নের মতো অযৌন প্রজনন হয়, আর যৌন প্রজননে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষেকে জাইগোট তৈরি হয়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো