পড়ার নোট
প্রাণিজগতে প্রজনন দুই ধরনের: অযৌন প্রজনন ও যৌন প্রজনন।
অযৌন প্রজনন
নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজনন হয়। এতে জননকোষের মিলন লাগে না, একটি প্রাণী থেকেই নতুন প্রাণী তৈরি হয়। কয়েকটি উপায়:
- দ্বিবিভাজন: একটি এককোষী প্রাণী সরাসরি দুই ভাগ হয়ে দুটি প্রাণী তৈরি করে; যেমন অ্যামিবা।
- মুকুলোদ্গম: দেহের গায়ে একটি মুকুলের মতো অংশ গজিয়ে বড় হয়, পরে আলাদা হয়ে নতুন প্রাণী হয়; যেমন হাইড্রা।
- খণ্ডায়ন: দেহ কয়েক খণ্ডে ভেঙে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন প্রাণী তৈরি হয়।
অযৌন প্রজননে মাইটোসিস বিভাজন হয়, তাই অপত্য প্রাণী মাতৃপ্রাণীর হুবহু মতো।
যৌন প্রজনন
বিপরীত লিঙ্গের দুটি প্রাণী (পুরুষ ও স্ত্রী) পুং ও স্ত্রী জননকোষ তৈরি করে, নিষেক ঘটায় এবং এভাবে বংশধর তৈরি করে; এই প্রক্রিয়াকে যৌন প্রজনন বলে।
- জনন মাতৃকোষ মিয়োসিসে বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি করে।
- সক্রিয় শুক্রাণু ডিম্বাণুতে প্রবেশ করে এবং দুটির নিউক্লিয়াস মিলিত হয়; একে নিষেক বলে।
- মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি হয়, যাতে দুই সেট ক্রোমোজোম থাকে।
- জাইগোট মাইটোসিসে বারবার বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ ও পরে পূর্ণাঙ্গ প্রাণী হয়।
নিষেকের পূর্বশর্ত হলো শুক্রাণু ও ডিম্বাণু পরিপক্ব হওয়া, এবং নিষেক কেবল একই প্রজাতির জননকোষের মধ্যে হয়।
| অযৌন | যৌন | |
|---|---|---|
| জননকোষ | লাগে না | শুক্রাণু ও ডিম্বাণু লাগে |
| পিতামাতা | একটি | দুটি (পুরুষ ও স্ত্রী) |
| বিভাজন | মাইটোসিস | মিয়োসিসে জননকোষ, মাইটোসিসে দেহ |
| বৈচিত্র্য | খুব কম | বেশি |
উদাহরণ: হাইড্রার গায়ে ছোট একটি মুকুল গজিয়ে কিছুদিন পর আলাদা হয়ে নতুন হাইড্রা হলো। এটি অযৌন প্রজনন (মুকুলোদ্গম), তাই নতুন হাইড্রা মাতৃ হাইড্রার মতো। অন্যদিকে একটি ব্যাঙের ডিম ও শুক্রাণু মিলে ব্যাঙাচি হওয়া যৌন প্রজনন।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে প্রাণীতে শুধু যৌন প্রজনন হয়। অ্যামিবা ও হাইড্রার মতো নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে অযৌন প্রজননও হয়।
মনে রাখো: নিম্নশ্রেণির প্রাণীতে দ্বিবিভাজন, মুকুলোদ্গম ও খণ্ডায়নের মতো অযৌন প্রজনন হয়, আর যৌন প্রজননে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষেকে জাইগোট তৈরি হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।