offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ১০ · টপিক ২২

পারকিনসন রোগ

পড়ার নোট

পারকিনসন রোগ হলো মস্তিষ্কের একটি স্নায়ুবিক রোগ, যাতে কাঁপুনি, পেশির দৃঢ়তা এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দেয়। এটি সাধারণত ধীরে শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে বাড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পঞ্চাশ বছরের পরে দেখা দিলেও কম বয়সেও হতে পারে। অল্প বয়সে রোগ দেখা দেওয়ার ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাব থাকতে পারে।

মস্তিষ্কের কিছু স্নায়ুকোষ ডোপামিন নামের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। এটি পেশির স্বাভাবিক চলন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পারকিনসন রোগে ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। ফলে পেশির চলন নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুসংকেতের কাজ ব্যাহত হয়। পেশি থাকলেও তাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রথম দিকে হাত-পা কাঁপা বা পা নাড়াতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। বিশ্রামের সময় কাঁপুনি বেশি লক্ষ করা যেতে পারে। পরে চলন ধীর হয়, পেশি শক্ত লাগে, ছোট ছোট পা ফেলে হাঁটা এবং সোজা হয়ে চলা কঠিন হয়। দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় অস্বস্তি ও ভারসাম্যের অভাবে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

অন্যান্য লক্ষণের মধ্যে চোখের পাতা কাঁপা, মুখের পেশির দৃঢ়তা, মুখের অভিব্যক্তি কমে যাওয়া, পেশিতে ব্যথা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে। কথা নরম বা অস্পষ্ট হতে পারে এবং খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে। সব রোগীর সব লক্ষণ একই সময়ে দেখা দেয় না।

ধরো, একজন দাদা আগে সহজে বাজারের তালিকা লিখতেন ও জামার বোতাম লাগাতেন। এখন হাত কাঁপায় লেখা এবং চলন ধীর হওয়ায় বোতাম লাগাতে বেশি সময় লাগছে। এই উদাহরণ দেখায়, রোগটি শুধু হাঁটায় নয়, হাতের সূক্ষ্ম কাজ ও দৈনন্দিন স্বাধীনতাতেও প্রভাব ফেলে। তবে এমন লক্ষণ দেখেই নিজে রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়।

চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ, ফিজিওথেরাপি, নিয়মিত উপযোগী ব্যায়াম, সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবনযাপন লক্ষণ সামলাতে সাহায্য করে। পরিবারের ধৈর্য ও মানসিক সহায়তা দৈনন্দিন কাজ সহজ করে।

সাধারণ ভুল হলো পারকিনসনকে ছোঁয়াচে রোগ বা কেবল স্বাভাবিক বার্ধক্য ভাবা। এটি ছোঁয়াচে নয় এবং চিকিৎসা দরকার। আবার রোগীর বুদ্ধি বা স্মৃতি কখনো প্রভাবিত হয় না—এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া যায় না। চিকিৎসা উপসর্গ কমাতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ নিরাময়ের নিশ্চয়তা দেয় না।

মনে রাখো: ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষের ক্ষয়ে পারকিনসনে চলন ব্যাহত হয়; চিকিৎসা ও সহায়ক যত্ন জীবনযাপন সহজ করে।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. পারকিনসন (Parkinson's disease) রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পায়ে অনৈচ্ছিক কাঁপুনি সৃষ্টি হয় এবং চলাফেরা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে কেন? মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তনের আলোকে কারণ ব্যাখ্যা করো।

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    মস্তিষ্কের যে স্নায়ুকোষগুলো পেশির চলন ও শারীরিক ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলো ডোপামিন (dopamine) নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে। পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্কের এই ডোপামিন উৎপাদনকারী স্নায়ুকোষগুলো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্ক থেকে সংকেত বা উদ্দীপনা পেশিতে যথাযথভাবে পৌঁছাতে পারে না, যার কারণে পেশি স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং রোগীর হাত-পায়ে অনৈচ্ছিক কাঁপুনি (tremor), পেশির আড়ষ্টতা ও হাঁটাচলায় তীব্র সমস্যা দেখা দেয়।

    1. ডোপামিন (dopamine) হলো মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার যা স্নায়ুকোষ থেকে কঙ্কালপেশিতে চলন সমন্বয়ের নির্দেশ পাঠাতে অপরিহার্য।
    2. পারকিনসন রোগে ডোপামিন ক্ষরণকারী স্নায়ুকোষগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে ডোপামিনের ঘাটতি ঘটে এবং পেশিতে উদ্দীপনা প্রবাহ ব্যাহত হয়ে হাত-পায়ের অনৈচ্ছিক কম্পন ও পেশির অসাড়তা সৃষ্টি হয়।
  2. উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—

    i. মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়

    ii. হাত-পায়ে অনৈচ্ছিক কম্পন ও পেশির অনমনীয়তা দেখা দেয়

    iii. নিয়মিত ফিজিওথেরাপি ও ওষুধ সেবনের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

    নিচের কোনটি সঠিক?

    1. ক

      i ও ii

    2. খ

      i ও iii

    3. গ

      ii ও iii

    4. ঘ

      i, ii ও iii

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) i, ii ও iii

    1. উদ্দীপকের লক্ষণগুলো (হাত-পা কাঁপা, পেশির অনমনীয়তা ও ভারসাম্যের সমস্যা) পারকিনসন রোগকে (Parkinson's disease) নির্দেশ করে, যা ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক বৈকল্যের কারণে হয়।
    2. এ রোগে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশের স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে ডোপামিন হরমোন বা নিউরোট্রান্সমিটারের উৎপাদন কমে যায়। রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির সাহায্যে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো