পড়ার নোট
এপিলেপসি (মৃগীরোগ বা মূর্ছারোগ) হলো মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে খিঁচুনি দেখা দেয় এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগী সংজ্ঞা হারান। খিঁচুনি বলতে দেহের পেশির অনিচ্ছাকৃত সংকোচন ও ঝাঁকুনিকে বোঝায়। আক্রমণের সময় রোগী সাময়িকভাবে স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে মাটিতে পড়ে যেতে পারেন। এ রোগ যেকোনো বয়সে দেখা দিতে পারে। একে ‘মাথা খারাপ’ বলা সঠিক নয়।
কারণ ও আক্রমণের প্রকাশ
এপিলেপসির মূল কারণ সব ক্ষেত্রে জানা যায় না। তবে মস্তিষ্কের কিছু আঘাত, রোগ বা জন্মগত সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে আছে:
- মাথায় আঘাত লাগা।
- মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো সংক্রমণ।
- মস্তিষ্কের জন্মগত ত্রুটি।
- মস্তিষ্কে টিউমার।
- আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া।
আক্রমণের ঘটনাটি সহজভাবে এভাবে বোঝা যায়: প্রথমে খিঁচুনি দেখা দেয়; এর ফলে রোগী নিজের স্বাভাবিক চলাফেরা ও কাজের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান এবং দেহে অনিয়ন্ত্রিত ঝাঁকুনি হয়। তবে প্রত্যেক রোগীর প্রতিটি আক্রমণে সংজ্ঞা হারাবেই—এমন নয়। কেবল অজ্ঞান হওয়া দেখেই এপিলেপসি নিশ্চিত করা যায় না; বিশেষজ্ঞের রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
বিপদের কারণ ও চিকিৎসার গুরুত্ব
পানি বা আগুনের সঙ্গে এ রোগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে আক্রমণের সময় রোগী নিজেকে রক্ষা করতে পারেন না, তাই পানি বা আগুনের কাছে থাকলে বিপদ হতে পারে। যেমন, পুকুরের ধারে খিঁচুনি শুরু হয়ে কেউ পানিতে পড়লে নিজের চেষ্টায় উঠে আসতে না-ও পারেন। এতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একইভাবে আগুনের কাছেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পুকুর, আগুন ও অন্যান্য বিপজ্জনক স্থানের কাছে নিরাপত্তার ব্যবস্থা জরুরি।
কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব থাকে না; আবার কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা থাকতে পারে। এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। রোগীকে দোষারোপ না করে সহানুভূতি ও সহায়তা দেওয়া উচিত।
মনে রাখো: মৃগীরোগে খিঁচুনি ও সাময়িক সংজ্ঞাহীনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই নিরাপত্তা ও বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।