পড়ার নোট
অস্টিওপোরোসিস ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ, তাই প্রতিকার ও প্রতিরোধের মূল কথা হলো অস্থিকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D ও শারীরিক সক্রিয়তা জোগানো।
প্রতিকার
- ক্যালসিয়াম গ্রহণ: 50 বছরের বেশি বয়সী নারী ও পুরুষের দৈনিক 1200 মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো পরিমাণ গ্রহণ করা উচিত।
- দুধ ও দুধজাত খাবার: ননী তোলা দুধ ও অন্যান্য দুধজাত খাদ্য।
- অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার: কমলার রস, সবুজ শাকসবজি, সয়া খাদ্য।
প্রতিরোধ
- পর্যাপ্ত সূর্যালোক: সূর্যালোক ত্বকে পড়ে যকৃৎ ও বৃক্কের মাধ্যমে ভিটামিন D তৈরিতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য।
- নিয়মিত ব্যায়াম: তবে যারা ইতিমধ্যে আক্রান্ত, তাদের ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, কারণ দুর্বল অস্থিতে ভুল ব্যায়ামে হাড় ভাঙতে পারে।
- সুষম ও আঁশযুক্ত খাদ্য।
কম বয়স থেকেই প্রস্তুতি
বয়স বাড়লে অস্থির ক্ষয় গঠনের চেয়ে বেশি হয়। তাই কম বয়স থেকেই নিয়মিত রোদে থাকা, খেলাধুলা ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য খেলে অস্থি মজবুত হয়, যা পরবর্তী জীবনে ক্ষয় সহ্য করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ: একজন 60 বছর বয়সী ব্যক্তিকে চিকিৎসক দৈনিক 1200 mg ক্যালসিয়াম গ্রহণের পরামর্শ দিলেন। ধরা যাক তিনি দুধ থেকে দিনে 600 mg এবং শাকসবজি ও অন্যান্য খাবার থেকে 300 mg পাচ্ছেন। ঘাটতি কত? mg। এই 300 mg আরও দুধজাত খাবার, সয়া বা চিকিৎসকের দেওয়া সম্পূরক থেকে পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি রোদে বসা ও হাঁটা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে ভিটামিন D তৈরি হয় এবং ক্যালসিয়াম কাজে লাগে।
সাধারণ ভুল হলো নিজে নিজে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম বড়ি খাওয়া শুরু করা। পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করতে হয়।
মনে রাখো: অস্টিওপোরোসিসের প্রতিকারে পঞ্চাশোর্ধ্বদের দৈনিক প্রায় 1200 mg ক্যালসিয়াম, দুধ, শাকসবজি ও সয়া খাদ্য দরকার; প্রতিরোধে পর্যাপ্ত সূর্যালোক, ভিটামিন D ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম আঁশযুক্ত খাদ্য জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।