পড়ার নোট
অস্টিওপোরোসিসে অস্থির ঘনত্ব ও পুরুত্ব কমে অস্থি দুর্বল হয়ে যায়। এর লক্ষণগুলো সেই দুর্বলতারই প্রকাশ।
প্রধান লক্ষণ
- অস্থি ভঙ্গুর হওয়া: অস্থির পুরুত্ব কমে যায়, অস্থি সহজে ভেঙে যায়।
- পেশির শক্তি কমে যাওয়া।
- পিঠে ব্যথা।
- অস্থিতে ব্যথা।
নিঃশব্দে বাড়ে
রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ টের পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম যে ঘটনায় রোগটি ধরা পড়ে, তা হলো হঠাৎ কোমরের হাড় বা অন্য কোনো অস্থি ভেঙে যাওয়া, হয়তো সামান্য পড়ে গিয়েই। তাই ঝুঁকিতে থাকা মানুষের আগে থেকে পরীক্ষা করানো ভালো।
রোগ নির্ণয়
অস্থির ঘনত্ব পরিমাপক যন্ত্র দিয়ে অস্থির ঘনত্ব পরীক্ষা করে রোগটি নির্ণয় করা হয়। ঘনত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে বোঝা যায় অস্থি পাতলা হয়ে গেছে।
লক্ষণ ও কারণের সম্পর্ক
| লক্ষণ | পেছনের কারণ |
|---|---|
| অস্থি সহজে ভাঙা | অস্থির ঘনত্ব ও পুরুত্ব কমে যাওয়া |
| পিঠ ও অস্থিতে ব্যথা | দুর্বল অস্থির উপর দেহের ভার |
| পেশির শক্তি কমা | কম শারীরিক পরিশ্রম ও দুর্বল কাঠামো |
উদাহরণ: 65 বছরের একজন নারী বাড়িতে সামান্য হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেন এবং তার কোমরের হাড় ভেঙে গেল। এর আগে কয়েক মাস ধরে তার পিঠে ব্যথা ও দুর্বলতা ছিল। কোন রোগের সন্দেহ হয়, আর কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে? বয়স, রজোনিবৃত্তি-পরবর্তী সময়, সামান্য আঘাতে হাড় ভাঙা, পিঠে ব্যথা ও দুর্বলতা অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণের সাথে মেলে। অস্থির ঘনত্ব পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সাধারণ ভুল হলো বয়স্কদের পিঠে ব্যথা বা হাড় ভাঙাকে "বয়সের স্বাভাবিক ব্যাপার" বলে অবহেলা করা। এগুলো অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ হতে পারে, যার চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্ভব।
মনে রাখো: অস্টিওপোরোসিসের লক্ষণ হলো ভঙ্গুর ও পাতলা অস্থি, পেশির শক্তি কমা, পিঠে ও অস্থিতে ব্যথা; প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ থাকে না বলে অনেক সময় হঠাৎ হাড় ভাঙাই প্রথম সংকেত।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।