পড়ার নোট
আর্থ্রাইটিস বা বাত হলো অস্থিসন্ধির রোগ, যাতে সন্ধিতে প্রদাহ, ব্যথা ও শক্তভাব দেখা দেয়। শতাধিক প্রকারের বাতরোগের মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত অন্যতম। সাধারণত বয়স্করা এ রোগে আক্রান্ত হন।
অস্থিসন্ধি কেন গুরুত্বপূর্ণ
দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থল অস্থিসন্ধি, যা অঙ্গ নড়াতে সাহায্য করে। সাইনোভিয়াল সন্ধিতে অস্থির প্রান্ত তরুণাস্থিতে ঢাকা থাকে এবং সাইনোভিয়াল তরল ঘর্ষণ কমায়। আর্থ্রাইটিসে এই সন্ধিতে প্রদাহ হলে নড়াচড়া কষ্টকর ও বেদনাদায়ক হয়।
সব গিঁটে ব্যথাই একই রোগ নয়
- কম বয়সীদের গিঁটে ব্যথা রিউমেটিক ফিভার বা বাতজ্বরের মতো অন্য রোগের লক্ষণ হতে পারে।
- অস্থিসন্ধির অসুখের প্রকারভেদ অনুযায়ী চিকিৎসা আলাদা হয়। দুজন ভিন্ন প্রকারের অসুখে আক্রান্ত হলেও লক্ষণ আপাতদৃষ্টিতে একই রকম হতে পারে, কিন্তু তাদের চিকিৎসা আলাদা।
- তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাতের চিকিৎসা করা উচিত নয়; এতে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা বন্ধ করাও উচিত নয়।
প্রধান লক্ষণ সংক্ষেপে
অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ ও ব্যথা, সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া, নাড়াতে কষ্ট এবং গিঁট ফুলে যাওয়া।
অস্টিওপোরোসিসের সাথে পার্থক্য
| বিষয় | অস্টিওপোরোসিস | আর্থ্রাইটিস |
|---|---|---|
| আক্রান্ত অংশ | অস্থি নিজে | অস্থিসন্ধি |
| মূল সমস্যা | অস্থি পাতলা ও ভঙ্গুর | সন্ধিতে প্রদাহ, ব্যথা, শক্তভাব |
| প্রাথমিক লক্ষণ | প্রায় থাকে না | ব্যথা ও ফোলা টের পাওয়া যায় |
দীর্ঘদিন আর্থ্রাইটিসে ভুগলে অস্টিওপোরোসিস হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি।
উদাহরণ: 14 বছরের একটি ছেলের হাঁটু ও কনুইয়ের গিঁটে ব্যথা, সাথে জ্বর। তার দাদারও হাঁটুতে ব্যথা ও শক্তভাব আছে। দুজনের কি একই চিকিৎসা চলবে? না। ছেলেটির কম বয়সে জ্বরসহ গিঁটে ব্যথা বাতজ্বরের মতো রোগের লক্ষণ হতে পারে, আর দাদার বয়সজনিত গেঁটে বাত হতে পারে। লক্ষণ দেখতে একই হলেও রোগ আলাদা হতে পারে, তাই দুজনকেই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।
মনে রাখো: আর্থ্রাইটিস অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত রোগ, যার একটি সাধারণ রূপ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত; লক্ষণ একই হলেও রোগের প্রকার ভিন্ন হতে পারে, তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।