পড়ার নোট
শ্বাসক্রিয়া
শ্বসনের সঙ্গে যুক্ত অঙ্গগুলো শুধু গলবিলের দিক দিয়ে বাইরে খোলা। স্নায়ু উদ্দীপনা শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- প্রশ্বাস (শ্বাস গ্রহণ): পাঁজরের মাঝের পেশি ও মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়; মধ্যচ্ছদা নিচে নামে এবং বক্ষগহ্বর প্রসারিত হয়। বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ায় ভেতরের বায়ুচাপ বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপের চেয়ে কমে যায়। ফলে ফুসফুস প্রসারিত হয় এবং নাক ও শ্বাসনালি দিয়ে বাতাস ভেতরে ঢোকে।
- নিঃশ্বাস (শ্বাস ত্যাগ): পেশিগুলো শিথিল হলে মধ্যচ্ছদা ও বুকের খাঁচা আগের অবস্থায় ফেরে, বায়ুচাপ বাড়ে, ফুসফুস সংকুচিত হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড-সমৃদ্ধ আর্দ্র বাতাস বাইরে বের হয়।
এভাবে অবিরাম চলা শ্বাসক্রিয়াকে বহিঃশ্বসন বলে।
গ্যাসীয় বিনিময়
ফুসফুসের বাতাস ও রক্তনালির মধ্যে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান ব্যাপন প্রক্রিয়ায় হয়, অ্যালভিওলাস ও রক্তের মধ্যে গ্যাসের চাপের পার্থক্যের কারণে।
- অক্সিজেন শোষণ: রক্তে ঢোকা অক্সিজেনের সামান্য অংশ প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়; বেশির ভাগ হিমোগ্লোবিনের লৌহ অংশের সঙ্গে আলগাভাবে যুক্ত হয়ে অস্থায়ী যৌগ অক্সিহিমোগ্লোবিন তৈরি করে। কোষের কাছে এটি সহজেই ভেঙে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়, যা লসিকা হয়ে কোষে পৌঁছায়।
- কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহণ: খাদ্যের জারণে তৈরি কোষ থেকে লসিকা হয়ে রক্তে আসে এবং প্রধানত বাইকার্বনেট হিসেবে (প্লাজমায় , লোহিত কণিকায় ) ফুসফুসে যায়। সেখানে মুক্ত হয়ে অ্যালভিওলাসে ব্যাপিত হয় এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে বের হয়।
উদাহরণ (নিঃশ্বাসের বাতাসের প্রকৃতি): দুটি টেস্টটিউবে সমান চুনের পানি নাও। একটিতে সিরিঞ্জ দিয়ে সাধারণ বাতাস, অন্যটিতে নল দিয়ে নিজের নিঃশ্বাসের বাতাস বুদবুদ আকারে দাও। কিছুক্ষণ পর শুধু নিঃশ্বাসের বাতাস দেওয়া চুনের পানি ঘোলা হয়। কারণ নিঃশ্বাসের বাতাসে সাধারণ বাতাসের চেয়ে বেশি।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে ফুসফুস নিজে পেশির মতো প্রসারিত হয়ে বাতাস টানে। আসলে মধ্যচ্ছদা ও পাঁজরের পেশির নড়াচড়ায় বক্ষগহ্বরের চাপ বদলায়, আর সেই চাপের পার্থক্যে বাতাস ঢোকে-বের হয়।
মনে রাখো: প্রশ্বাসে মধ্যচ্ছদা নেমে বক্ষগহ্বর বড়ো হয় ও চাপ কমে বাতাস ঢোকে; ফুসফুসে গ্যাস বিনিময় হয় ব্যাপনে, অক্সিজেন বাহিত হয় অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে আর বাইকার্বনেট হিসেবে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।