পড়ার নোট
ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণে এর ক্ষতি হতে পারে। বায়ুদূষণ, ধুলাবালি ও রাসায়নিক পদার্থের কারণেও ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে। অসাবধানতায় সাধারণ রোগও জটিল আকার নিতে পারে। শ্বসনতন্ত্রের প্রধান রোগগুলোর কারণ, লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ জানা থাকলে জটিলতা ও মৃত্যু অনেক কমানো যায়।
শ্বসনতন্ত্রের প্রধান কয়েকটি রোগ:
| রোগ | প্রধান কারণ | সংক্রামক কি না |
|---|---|---|
| হাঁপানি (অ্যাজমা) | অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা; ধোঁয়া, ধুলা, ফুলের রেণু, কিছু খাবার | না |
| ব্রংকাইটিস | ব্যাকটেরিয়া; ধূমপান ও দূষণ | জীবাণুবাহিত |
| নিউমোনিয়া | Pneumococcus ব্যাকটেরিয়া, অন্য ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক | জীবাণুবাহিত |
| যক্ষ্মা | Mycobacterium tuberculosis | হ্যাঁ, বায়ুবাহিত |
| ফুসফুসের ক্যান্সার | ধূমপান, বায়ুদূষণ, অ্যাসবেস্টস-আর্সেনিকের মতো দূষক | না |
এসব রোগের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে আছে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা। তবে প্রতিটি রোগের নিজস্ব লক্ষণ আছে: যেমন হাঁপানিতে সাধারণত জ্বর থাকে না, কিন্তু নিউমোনিয়ায় উচ্চ জ্বর থাকে; যক্ষ্মায় কাশি ও ঠান্ডা তিন সপ্তাহের বেশি থাকে।
প্রতিরোধের সাধারণ উপায়: ধূমপান, তামাক, জর্দা ও গুল পরিহার করা; আলো-বাতাসপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা; ধুলাবালি ও ধোঁয়াপূর্ণ জায়গায় কাজ এড়ানো; শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডা লাগা থেকে রক্ষা করা; শিশুদের সময়মতো বিসিজি টিকা দেওয়া; এবং লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
উদাহরণ: একটি শিশুর তিন দিন ধরে উচ্চ জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। জ্বর থাকায় হাঁপানির চেয়ে নিউমোনিয়ার সম্ভাবনা বেশি; দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে, কারণ নিউমোনিয়া শিশুদের জন্য বিপজ্জনক।
সাধারণ ভুল হলো শ্বাসকষ্ট হলেই নিজে থেকে ঔষধ খাওয়া বা হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। লক্ষণ মিললেও রোগ আলাদা হতে পারে; সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
মনে রাখো: শ্বসনতন্ত্রের প্রধান রোগ হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ও ফুসফুসের ক্যান্সার; জীবাণু, দূষণ ও ধূমপান এদের বড়ো কারণ।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।