offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৭ · টপিক ৬

অ্যাজমা

পড়ার নোট

হাঁপানি বা অ্যাজমা সাধারণত দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিসক্রিয় হওয়ার কারণে হয়: ফুসফুসে কোনো বহিরাগত বস্তু ঢুকলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি তীব্রভাবে সাড়া দেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর পরিবারে এ রোগের ইতিহাস থাকে। এটি ছোঁয়াচে বা জীবাণুবাহিত রোগ নয়।

কারণ: যেসব খাবারে অ্যালার্জি হয় (চিংড়ি, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ ইত্যাদি); শ্বাসের সঙ্গে ধোঁয়া, ধুলাবালি, ফুলের রেণু ইত্যাদি ফুসফুসে ঢোকা। শিশুদের সর্দি-কাশি থেকেও হাঁপানির লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বছরের বিশেষ ঋতুতে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় রোগ বেড়ে যায়।

লক্ষণ:

  • হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়; দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা, ঠোঁট নীল হয়ে যায়, গলার শিরা ফুলে যায়।
  • রোগী জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে; বুকের ভেতর বাঁশির মতো আওয়াজ হয়।
  • বায়ুথলিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না বলে কষ্ট বাড়ে; কাশির সঙ্গে কখনো সাদা কফ বের হয়।
  • সাধারণত জ্বর থাকে না।
  • শ্বাস নেওয়ার সময় পাঁজরের মাঝের চামড়া ভেতরে ঢুকে যায়; রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রতিকার: চিকিৎসায় রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না, তবে সঠিক ঔষধে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। যেসব খাবারে শ্বাসকষ্ট বাড়ে তা না খাওয়া, আলো-বাতাসপূর্ণ ঘরে থাকা, পশুর লোম ও কৃত্রিম আঁশের মতো জিনিস এড়ানো, ধূমপান-তামাক-জর্দা-গুল পরিহার করা, শ্বাসকষ্টের সময় তরল খাবার দেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।

প্রতিরোধ: স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা, বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্রে হাঁপানি বাড়ায় এমন বস্তুর সংস্পর্শ এড়ানো, এবং সবসময় ইনহেলার ও ঔষধ সঙ্গে রেখে প্রয়োজনে ব্যবহার করা। হাতুড়ে চিকিৎসকেরা অনেক সময় উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড দেন, যা তাৎক্ষণিক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদি অপূরণীয় ক্ষতি করে; এমন চিকিৎসা এড়াতে হবে।

উদাহরণ: একজন শিক্ষার্থীর প্রতি বছর শীতের শুরুতে শ্বাসকষ্ট বাড়ে, বুকে বাঁশির মতো শব্দ হয়, কিন্তু জ্বর থাকে না। ঋতুভিত্তিক বৃদ্ধি ও জ্বরহীনতা হাঁপানির লক্ষণের সঙ্গে মেলে।

সাধারণ ভুল হলো হাঁপানি রোগীকে ছোঁয়াচে ভেবে এড়িয়ে চলা। হাঁপানি এক জন থেকে আরেক জনে ছড়ায় না।

মনে রাখো: হাঁপানি অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে হয়, ছোঁয়াচে নয়, সাধারণত জ্বর থাকে না; সম্পূর্ণ নিরাময় না হলেও সতর্কতা ও ঔষধে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

অনুশীলনের প্রশ্ন

  1. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সুমনের কষ্ট লাঘবে সবচেয়ে কার্যকর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ কোনটি?

    1. ক

      জীবাণু ধ্বংসের উদ্দেশ্যে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা

    2. খ

      শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে চিংড়ি ও গরুর মাংস খাওয়া

    3. গ

      ঠান্ডা বাতাস প্রতিরোধে রোগীকে বদ্ধ ও অন্ধকার ঘরে রাখা

    4. ঘ

      শ্বাসকষ্ট লাঘবে চিকিৎসকের নির্দেশে ইনহেলার ব্যবহার করা

    উত্তর ও ব্যাখ্যা
    সঠিক উত্তর:

    ঘ) শ্বাসকষ্ট লাঘবে চিকিৎসকের নির্দেশে ইনহেলার ব্যবহার করা

    1. উদ্দীপকে উল্লিখিত লক্ষণসমূহ (ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি, বাঁশির মতো শব্দ, সাদা কফ ও জ্বর না থাকা) শ্বাসনালীর অ্যালার্জিজজনিত প্রদাহ ও সংকোচন অর্থাৎ অ্যাজমা (হাঁপানি)-কে নির্দেশ করে।
    2. অ্যাজমা কোনো সংক্রামক বা জীবাণুবাহিত রোগ নয়, তাই এতে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর। সংকুচিত শ্বাসনালী দ্রুত প্রসারিত করে তাৎক্ষণিক শ্বাসকষ্ট লাঘব করতে ইনহেলার ব্যবহার করা সর্বাধিক কার্যকর।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো