offSchoolবেটা

জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৭ · টপিক ৭

ব্রংকাইটিস

পড়ার নোট

শ্বাসনালি ও ব্রংকাসের কোনো অংশের ভেতরের আবরণী ঝিল্লির তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহকে ব্রংকাইটিস বলে। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এ রোগ হয়। একবার ব্রংকাইটিস হলে বারবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাধারণত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি আক্রান্ত হন।

কারণ: ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং কলকারখানার ধুলাবালি ও ধোঁয়ার মতো দূষণ প্রধান কারণ। স্যাঁতসেঁতে ধুলামিশ্রিত আবহাওয়ায় থাকা এবং ঠান্ডা লাগা থেকেও এ রোগ হতে পারে।

লক্ষণ:

  • কাশি, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট; কাশির সময় বুকে প্রচণ্ড ব্যথা।
  • জ্বর ও ধীরে ধীরে দুর্বলতা।
  • রোগী শক্ত খাবার খেতে পারে না।
  • কাশির সঙ্গে কফ বের হয়।

প্রতিকার: ধূমপান, মদ্যপান ও তামাক বা সাদাপাতা খাওয়া বন্ধ করা; চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করানো; রোগীকে সহনীয় উষ্ণতা ও শুষ্ক পরিবেশে রাখা; গরম দুধ, স্যুপের মতো পুষ্টিকর তরল ও গরম খাবার দেওয়া এবং পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া।

প্রতিরোধ: ধূমপান ও তামাকের মতো বদ অভ্যাস ত্যাগ করা, ধুলাবালি ও ধোঁয়াপূর্ণ পরিবেশে কাজ থেকে বিরত থাকা এবং শিশু ও বয়স্কদের যেন ঠান্ডা না লাগে সেদিকে নজর রাখা।

ক্রনিক ব্রংকাইটিস: কাশির সঙ্গে কফ যদি একটানা অন্তত 33 মাস থাকে এবং এমন অসুস্থতা পরপর 22 বছর দেখা দেয়, তবে তাকে ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস বলা হয়।

উদাহরণ: একজন বয়স্ক ব্যক্তি, যিনি বহু বছর ধূমপান করেন, গত বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এবং এ বছরও একই সময়ে প্রায় চার মাস কফসহ কাশিতে ভুগেছেন। কফসহ কাশি একটানা 33 মাসের বেশি এবং পরপর 22 বছর, তাই এটি ক্রনিক ব্রংকাইটিসের সংজ্ঞার সঙ্গে মেলে।

সাধারণ ভুল হলো কফসহ কাশিকে সাধারণ ঠান্ডা ভেবে ধূমপান চালিয়ে যাওয়া। ধূমপান এ রোগের প্রধান কারণগুলোর একটি; ধূমপান চালিয়ে গেলে বারবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

মনে রাখো: ব্রংকাইটিস হলো শ্বাসনালি ও ব্রংকাসের ভেতরের ঝিল্লির প্রদাহ, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়; ধূমপান ও দূষণ প্রধান কারণ, আর একটানা 33 মাস কফ পরপর 22 বছর হলে তা ক্রনিক।

২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।

এই টপিক নিয়ে প্রশ্ন আছে?

মেন্টরকে বাংলায় বা ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করো, বা খাতার ছবি দাও। সিমুলেশন চালিয়ে বুঝিয়ে দেবে।

মেন্টরকে জিজ্ঞেস করো