পড়ার নোট
ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। বক্ষগহ্বরের ভেতরে হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে ডান ও বাম দুটি ফুসফুস থাকে। এগুলো স্পঞ্জের মতো নরম, হালকা ও হালকা লালচে রঙের।
খণ্ড: ডান ফুসফুস তিন খণ্ডবিশিষ্ট এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডবিশিষ্ট।
প্লুরা: প্রতিটি ফুসফুসের পুরো পৃষ্ঠ দুই স্তরের একটি পর্দায় ঢাকা, যার নাম প্লুরা। দুই স্তরের মাঝের ফাঁকে একধরনের তরল থাকে। শ্বাসক্রিয়ার সময় ফুসফুস বুকের খাঁচার সঙ্গে ঘষা খায়; এই তরল ঘর্ষণ থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করে।
ভেতরের গঠন: ফুসফুসের ভেতরে থাকে অসংখ্য বায়ুথলি বা অ্যালভিওলাস (বহুবচনে অ্যালভিওলাই), সরু ব্রংকিওল এবং রক্তনালি। সবচেয়ে সরু ব্রংকিওলগুলো অ্যালভিওলাসে গিয়ে শেষ হয়, ফলে নাসাপথ থেকে বাতাস সরাসরি অ্যালভিওলাসে পৌঁছাতে পারে।
অ্যালভিওলাসের বৈশিষ্ট্য: প্রতিটি অ্যালভিওলাসের প্রাচীর মাত্র এক স্তরের এপিথেলিয়াল টিস্যু দিয়ে তৈরি, এবং এর চারপাশ ঘিরে থাকে কৈশিক জালিকা। বাতাস ঢুকলে অ্যালভিওলাস বেলুনের মতো ফুলে ওঠে, পরে নিজে থেকেই সংকুচিত হয়। অ্যালভিওলাস ও কৈশিক নালির প্রাচীর এত পাতলা যে এদের মধ্যে সহজেই গ্যাস বিনিময় হয়।
উদাহরণ: দুই ফুসফুসে মোট খণ্ড টি।
অসংখ্য অ্যালভিওলাস থাকায় ফুসফুসের ভেতরে গ্যাস বিনিময়ের মোট তল অনেক বড়ো হয়; আর প্রাচীর পাতলা এবং চারপাশে কৈশিক জালিকা থাকায় বিনিময় দ্রুত হয়। ফুসফুসের গঠন এভাবেই তার কাজের উপযোগী।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে গ্যাস বিনিময় শ্বাসনালি বা ব্রংকাসে হয়। এগুলো শুধু বাতাস বহনের পথ; প্রকৃত গ্যাস বিনিময় হয় অ্যালভিওলাস ও কৈশিক নালির মধ্যে।
মনে রাখো: ডান ফুসফুস তিন খণ্ডের, বাম ফুসফুস দুই খণ্ডের; প্লুরা ঘর্ষণ থেকে রক্ষা করে, আর এক স্তরের প্রাচীরের অ্যালভিওলাস ও চারপাশের কৈশিক জালিকায় গ্যাস বিনিময় হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।