পড়ার নোট
জীবন রক্ষায় অক্সিজেন অপরিহার্য; অক্সিজেন সরবরাহ – মিনিট বন্ধ থাকলে মৃত্যু অবধারিত। শ্বসনে যে অঙ্গগুলো অংশ নেয়, তাদের একত্রে শ্বসনতন্ত্র বলে। প্রধান অংশগুলো:
- নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ: শ্বসনতন্ত্রের শুরু। নাসাপথের সামনের অংশে সিলিয়া এবং পেছনে শ্লেষ্মা নিঃসরণকারী ঝিল্লি থাকে। সিলিয়া ও শ্লেষ্মা মিলে ধুলাবালি ও জীবাণু আটকে দেয়। নাসাপথ দিয়ে যাওয়ার সময় বাতাস গরম ও আর্দ্র হয়, ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসের ক্ষতি করতে পারে না। নাকে ঘ্রাণের অনুভূতিও হয়।
- গলবিল: মুখ খুললে পেছনে দেখা যায়; নাসাপথের পেছন থেকে স্বরযন্ত্রের উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। খাবার গেলার সময় মুখগহ্বরের ছাদের পেছনের নরম অংশ নাসাপথের পেছন দিক বন্ধ করে, তাই খাবার নাক দিয়ে বের হয় না।
- স্বরযন্ত্র: গলবিলের নিচে ও শ্বাসনালির মাথায় থাকে; এর দুই পাশে দুটি স্বররজ্জু থাকে। জিহ্বার পেছনের নরম ঢাকনা এপিগ্লটিস খাবার খাওয়ার সময় স্বরযন্ত্রের মুখ ঢেকে দেয়, যাতে খাবার শ্বাসনালিতে না ঢোকে।
- শ্বাসনালি: অন্ননালির সামনে থাকা ফাঁপা নল, অসম্পূর্ণ তরুণাস্থির বলয়ে দৃঢ়। ভেতরের সিলিয়ার ছন্দময় নড়াচড়া ধুলা ও জীবাণু বের করে দেয়।
- ব্রংকাস: শ্বাসনালির নিচের প্রান্ত দুই ভাগ হয়ে ডান ও বাম ফুসফুসে যায়; এগুলো বারবার বিভক্ত হয়ে সরু ব্রংকিওল তৈরি করে।
- ফুসফুস: শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ, যেখানে গ্যাস বিনিময় হয়।
- মধ্যচ্ছদা: বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরকে আলাদা করা ছাতার মতো পেশির পর্দা, যা শ্বাসক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ: বাতাস যে পথে ফুসফুসে পৌঁছায় তা ক্রমানুসারে: নাসারন্ধ্র → নাসাপথ → গলবিল → স্বরযন্ত্র → শ্বাসনালি → ব্রংকাস → ব্রংকিওল → ফুসফুসের বায়ুথলি (অ্যালভিওলাস)।
সাধারণ ভুল হলো মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়াকে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সমান ভাবা। নাসাপথ বাতাসকে ছেঁকে, গরম ও আর্দ্র করে ফুসফুসের জন্য উপযোগী করে; মুখ দিয়ে নিলে এ সুবিধা মেলে না।
মনে রাখো: শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অংশ নাসারন্ধ্র ও নাসাপথ, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা; নাসাপথ বাতাসকে পরিষ্কার, উষ্ণ ও আর্দ্র করে।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।