পড়ার নোট
উদ্ভিদের জীবনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলো সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন, এবং মূলত এ দুটির মাধ্যমেই উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। সালোকসংশ্লেষণে উদ্ভিদ বায়ু থেকে নেয় ও ছাড়ে; শ্বসনে নেয় ও ছাড়ে।
প্রাণীর মতো উদ্ভিদের শ্বাস নেওয়ার কোনো বিশেষ অঙ্গ নেই। পাতার পত্ররন্ধ্র (স্টোমাটা) এবং পরিণত কাণ্ডের বাকলে থাকা লেন্টিসেলের মাধ্যমে অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাসের বিনিময় হয়। প্রাণীর মতো ঘন ঘন এই বিনিময় হয় না।
দিনে: পর্যাপ্ত আলোতে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি। এতে তৈরি অক্সিজেনের কিছু অংশ উদ্ভিদ নিজেই শ্বসনে খরচ করে, আবার শ্বসনে তৈরি কার্বন ডাই-অক্সাইডের কিছু অংশ সালোকসংশ্লেষণে লাগে। তাই বিনিময় হওয়া গ্যাসের পরিমাণ প্রায় সমান থাকে।
রাতে: সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায় বন্ধ থাকে, তাই অক্সিজেন তৈরি হয় না। কিন্তু শ্বসন দিনরাত চলে, ফলে তৈরি হতে থাকে এবং পত্ররন্ধ্র ও লেন্টিসেল দিয়ে পরিবেশে বের হয়।
উদ্ভিদ প্রয়োজনীয় গ্যাস পরিবেশ থেকেই সংগ্রহ করে। পাতা যেমন বাতাস থেকে গ্যাস শোষণ করে, মূল তেমনি মাটি থেকে পানি শোষণ করে; এই পানি ও এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন আবার বায়ুমণ্ডলে ফিরে যায়।
উদাহরণ: দিনে ও রাতে একটি গাছের গ্যাস বিনিময় তুলনা করো।
| সময় | চলমান প্রক্রিয়া | গাছ যা বের করে |
|---|---|---|
| দিন | সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন | (বিনিময় প্রায় সমান) |
| রাত | শুধু শ্বসন |
রাতে আলো না থাকায় অক্সিজেন তৈরি হয় না, কিন্তু শ্বসন চলায় বের হতে থাকে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে উদ্ভিদ শুধু রাতে শ্বসন করে এবং দিনে শুধু সালোকসংশ্লেষণ করে। শ্বসন দিনরাত সবসময় চলে; দিনে এর সঙ্গে সালোকসংশ্লেষণও চলে।
মনে রাখো: উদ্ভিদ পত্ররন্ধ্র ও লেন্টিসেল দিয়ে গ্যাস বিনিময় করে; দিনে সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন দুটিই চলে, আর রাতে শুধু শ্বসন চলে বলে বের হয়।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।