পড়ার নোট
আলো ও ক্লোরোফিল ছাড়াও আরও কিছু প্রভাবক সালোকসংশ্লেষণের হার নিয়ন্ত্রণ করে। এগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ, দুই ধরনের।
বাহ্যিক প্রভাবক
- কার্বন ডাই-অক্সাইড: বিজারিত হয়েই খাদ্য তৈরি হয়, তাই এটি ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ হয় না। বাতাসে থাকে , কিন্তু উদ্ভিদ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে; ততদূর বাড়ালে হার বাড়ে। খুব বেশি হলে মেসোফিল কোষে অম্লতা বাড়ে, পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয় এবং হার কমে।
- তাপমাত্রা: প্রায় এর মতো খুব কম এবং এর বেশি তাপমাত্রায় সালোকসংশ্লেষণ হয় না। উপযুক্ত তাপমাত্রা –; এর নিচে বা এর ওপরে হার কমে।
- পানি: বিজারণের হাইড্রোজেন আয়ন আসে পানি থেকে। পানির ঘাটতিতে রক্ষীকোষ স্ফীতি হারায়, পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে প্রবেশ ব্যাহত হয়; খুব বেশি ঘাটতিতে এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে প্রক্রিয়া থেমে যেতে পারে।
- অক্সিজেন: বাতাসে অক্সিজেন বাড়লে হার কমে, কমলে বাড়ে; তবে অক্সিজেন একেবারে না থাকলে সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।
- খনিজ পুষ্টি উপাদান: নাইট্রোজেন ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরোফিলের প্রধান উপাদান। লোহার অভাবে পাতা ক্লোরোফিল তৈরি করতে পারে না এবং হলুদ হয়ে যায়।
- রাসায়নিক পদার্থ: বাতাসে ক্লোরোফর্ম, হাইড্রোজেন সালফাইড, মিথেন বা কোনো বিষাক্ত গ্যাস থাকলে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত বা বন্ধ হয়।
অভ্যন্তরীণ প্রভাবক
- পাতার বয়স ও সংখ্যা: খুব কচি বা খুব পুরোনো পাতায় ক্লোরোফিল কম থাকে; মধ্যবয়সী পাতায় হার সবচেয়ে বেশি। পাতার সংখ্যা বাড়লে হারও বাড়ে।
- শর্করার পরিমাণ: তৈরি শর্করা সরতে না পারলে পাতায় জমে যায়; তাই বিকেলে হার কমে।
- পটাশিয়াম ও এনজাইম: পটাশিয়ামের অভাবে হার কমে; প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন এনজাইম দরকার।
উদাহরণ: খরার সময় ধানক্ষেতে পানি কমলে পাতার পত্ররন্ধ্র বন্ধ থাকে, ঢুকতে পারে না, ফলে খাদ্য তৈরি কমে এবং ফলনও কমে।
সাধারণ ভুল হলো ভাবা যে অক্সিজেন সালোকসংশ্লেষণের জন্য সবসময় ক্ষতিকর। বেশি অক্সিজেন হার কমায়, কিন্তু অক্সিজেন একেবারে না থাকলে প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি থেমে যায়।
মনে রাখো: , তাপমাত্রা, পানি, অক্সিজেন, খনিজ ও রাসায়নিক পদার্থ বাহ্যিক প্রভাবক; পাতার বয়স, শর্করা, পটাশিয়াম ও এনজাইম অভ্যন্তরীণ প্রভাবক।
২০২৬ সালের NCTB পাঠ্যবই অনুসরণ করে লেখা।